Sheersha Media

ব্রেকিং নিউজ

সন্ধ্যা ৭:৩৩ ঢাকা, বুধবার  ২১শে নভেম্বর ২০১৮ ইং

এত কড়াকড়ির কারণ কেবিন নম্বর:- ৫১২

এক সময়ের প্রভাবশালী মন্ত্রী, বর্তমানে কারাবন্দি আবদুল লতিফ সিদ্দিকী। গ্রেপ্তার হয়েছেন ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেয়ার মামলায়। পবিত্র হজ, মহানবী (সা.) ও তাবলিগ জামাত নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্যের কারণে হারিয়েছেন মন্ত্রিত্ব। আওয়ামী লীগের দলীয় পদ থেকেও বহিষ্কার করা হয়েছে তাকে। এমনকি প্রাথমিক সদস্যপদও নেই তার। অসুস্থ হয়ে পড়ায় কারাগার থেকে ঠাঁই হয়েছে হাসপাতালের ভিআইপি কেবিনে। বুকে ব্যথা অনুভব করায় গত শনিবার তাকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি করা হয়েছে। চিকিৎসাধীন রয়েছেন কার্ডিওলজি বিভাগে। কেবিন নম্বর ৫১২। এটি ভিআইপি কেবিন। প্রতিদিনের ভাড়া ৪০২৫ টাকা। কেবিনের ভেতরে প্রহরায় দুই কারারক্ষী। দরজার সামনে ৫-৬ জনের একটি পুলিশ দল। করিডরের প্রবেশমুখে দুই আনসার সদস্য। আর ভবনের নিচে অবস্থান আরও ৮/ ১০ জন পুলিশ সদস্যের। বঙ্গবন্ধু  শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের কেবিন ব্লকের পাঁচ তলায় প্রবেশে আরোপ করা হয়েছে ব্যাপক কড়াকড়ি। অন্যান্য কেবিনের রোগীদের সাথে থাকা বা দেখা করতে আসা স্বজনদের সম্পর্কে নিশ্চিত না হয়ে ভেতরে ঢুকতে দেয়া হচ্ছে না কাউকেই। এত কড়াকড়ির কারণ কেবিন নম্বর ৫১২ তে আছেন লতিফ সিদ্দিকী। যদিও  সার্বিক নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে যথার্থই ব্যবস্থা নিয়েছেন কর্তৃপক্ষ।

সূত্র জানায়, বিতর্কিত মন্তব্য করে লতিফ সিদ্দিকী হাসপাতালে সময় কাটাচ্ছেন শুয়ে-বসে। চিকিৎসকরা পরামর্শ দিয়েছেন যতটা পারা যায় টেনশন বা দুশ্চিন্তা না করতে। মন চাইলে কখনও পত্রিকার বিভিন্ন সংবাদ খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে পড়ছেন। কখনও বা চোখ রাখছেন টেলিভিশনের পর্দায়। ভিআইপি কেবিন হওয়ায় ভেতরে টেলিভিশনের ব্যবস্থা রয়েছে। আর প্রথম শ্রেণীর বন্দি হওয়ায় কারাকর্তৃপক্ষ তাকে ডিভিশন অনুযায়ী সুযোগ-সুবিধা দিচ্ছে। পরিবারের সদস্যরাও দেখা করছেন তার সঙ্গে।

সূত্র মতে, লতিফ সিদ্দিকীর হার্টে আগে থেকেই রিং পরানো ছিল। অনেকটা আচমকা ২৩শে নভেম্বর ঢাকায় হাজির হন বিমানবন্দরে। এরপর আবার তাকে নিয়ে শুরু হয় তোলপাড়। দেশে ফেরার ২ দিন পরে নিজেই ধরা দেন পুলিশের কাছে। আদালত তাকে পাঠায় কারাগারে।  উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা তার আগে থেকেই ছিল। কারা অভ্যন্তরে থাকা অবস্থায় তা আরও বেড়ে গেছে। অতিরিক্ত মানসিক চাপের কারণে তার রক্তচাপ বেড়ে গেছে। লতিফ সিদ্দিকী বর্তমানে বিএসএমএমইউ-এর  কার্ডিওলজির ইউনিট প্রধান অধ্যাপক ডা. সজল কৃষ্ণ ব্যানার্জির অধীনে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। হাসপাতাল সূত্র বলছে তার শারীরিক অবস্থা ধীরে ধীরে উন্নতির দিকে যাচ্ছে। ভর্তি হওয়ার পর দু’দিন ধরে লতিফ সিদ্দিকী হাসপাতাল থেকে সরবরাহ করা খাবার খাচ্ছেন। তবে তার পরিবারের পক্ষ থেকে নিয়মিত নানা ধরনের ফলমূল সরবরাহ করা হচ্ছে। বাসার খাবারও তিনি ইচ্ছে করলে খেতে পারেন তবে বাসা থেকে সরবরাহ করা তিন বেলা খাবার খেতে চাইলে হাসপাতাল ও জেল কর্তৃপক্ষের যৌথ অনুমতি নিতে হয়। কিন্তু লতিফ সিদ্দিকীর পক্ষে এ ধরনের কোন আবেদন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে করা হয়নি। যে কেবিনে লতিফ সিদ্দিকী রয়েছেন সেটি আসলে ভিআইপি কেবিন। তাই এসব কেবিনে সাধারণত অন্য কেবিনগুলোর চেয়ে উন্নতমানের খাবার পরিবেশন করা হয়। দিনে মোট পাঁচ বার খাবার সরবরাহ করা হচ্ছে তাকে। সকালে রুটি-ডিম-সবজি, বেলা ১১টার দিকে বিস্কুট-চা, দুপুরে ভাত-মাছ-ডাল-সবজি, বিকালে স্যুপ, রাতে ভাত বা রুটি, মুরগির মাংস বা মাছ-ডাল ও সবজি পরিবেশন করা হয়। লতিফ সিদ্দিকী হাসপাতালের সরবরাহ করা এসব খাবারই খাচ্ছেন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ চিকিৎসা ও ওষুধপথ্যের বিষয়গুলো তদারিক করছে। বাকি নিরাপত্তাসহ লোকজন দেখা সাক্ষাতের বিষয়টি কারা কর্তৃপক্ষ দেখছে।

উল্লেখ্য, ২৫শে নভেম্বর ধানমন্ডি থানায় আত্মসমর্পণ করেন। ওই দিনই তাকে আদালতে হাজির করা হলে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। টাঙ্গাইলের প্রভাবশালী সিদ্দিকী পরিবারের ৭৭ বছর বয়সী এই লতিফ সিদ্দিকী টাঙ্গাইল-৪ আসন থেকে পাঁচবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন, মন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতাও ছিলেন তিনি।