ব্রেকিং নিউজ

ভোর ৫:৪৮ ঢাকা, বুধবার  ১৯শে সেপ্টেম্বর ২০১৮ ইং

পাঁচ সদস্যের পরিবার

‘এগার বছরের জারিফকে একা রেখে পরিবারের সবাই না ফেরার দেশে চলে গেলেন’

দুই সন্তান ও স্বামীর সঙ্গে না ফেরার দেশে পারি জমালেন ঢাকার উত্তরায় গ্যাসের পাইপ বিস্ফোরণে দগ্ধ পরিবারের সদস্য সুমাইয়া। শনিবার রাত ১২টা থেকে মোহাম্মদপুর সিটি হাসপাতালে লাইফ সাপোর্টে ছিলেন তিনি। রবিবার দুপুর ১২টার দিকে সুমাইয়াকে ‘ক্লিনিক্যালি ডেড’ ঘোষণা করা হয়।
এদিকে রবিবার সকালে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছেন পরিবারটির একমাত্র বেঁচে থাকা সদস্য জারিফ বিন নেওয়াজ (১১)।
এর আগে দুপুরে সাত মসজিদ রোডের সিটি হাসপাতালের আইসিইউতে লাইফ সাপোর্টে রয়েছেন ৩৫ বছর বয়সী সুমাইয়া। হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের চিকিৎসক রাশেদ মাহমুদ রবিবার দুপুরে জানিয়ে ছিলেন, ‘সুমাইয়া ক্লিনিক্যালি ডেড। হার্ট ছাড়া শরীরের অন্য অংশ ঠিকমতো কাজ করছে না। এখান থেকে আবার জীবনে ফেরার আশা খুব একটা নেই।’
গত ২৬ ফেব্রুয়ারি সকাল ৭টার দিকে উত্তরার ১৩ নম্বর সেক্টরের ৩ নম্বর রোডের এক বাড়ির সপ্তম তলার ফ্ল্যাটে আগুন লেগে দগ্ধ হন সুমাইয়া, তার স্বামী ও তিন সন্তান। চার জনের মধ্যে দেড় বছরের জায়ান বিন শাহনেওয়াজ ও শাহালিন বিন শাহনেওয়াজ (১৫) ওইদিনই  ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে মারা যায়। পরদিন মৃত্যু হয় সুমাইয়ার স্বামী মো. শাহনেওয়াজের (৫০), যিনি ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের একজন মেইনটেইনেন্স ইঞ্জিনিয়ার ছিলেন।
এ পরিবারের মেজ ছেলে জারিফ বিন নেওয়াজকেও (১১) মায়ের সঙ্গে সিটি হাসপাতালে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছিল। রবিবার সকালের দিকে তাকে বাসায় নিয়ে যাওয়া হয় বলে তার মামা আবু সুফিয়ান জানান। জারিফের চাচা কামরুল হাসান জানান, আগামী বছরই শাহনেওয়াজের সপরিবারে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমানোর কথা ছিল। গত ২০ ফেব্রুয়ারি উত্তরার ওই ফ্ল্যাটে পরিবার নিয়ে উঠেছিলেন তিনি।