ব্রেকিং নিউজ

সকাল ৮:১৭ ঢাকা, শনিবার  ২৬শে মে ২০১৮ ইং

‘এখন তোর আল্লাহ কোথায়’? ছাত্রলীগ বলাতে হেফাজতের আল্টিমেটাম

এখন তোর আল্লাহ কোথায়’-এই রকম ফেরাউনি উক্তি উচ্চারণকারী ছাত্রলীগ নেতাদের অবিলম্বে বহিষ্কার করে গ্রেফতারপূর্বক দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি এবং ঢাবির তিন ছাত্রীর বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার না করলে আন্দোলনে যাওয়ার হুমকি দিয়েছেন হেফাজতে ইসলামের নেতৃবৃন্দ। শুক্রবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তারা এই হুমকি দেন। তারা বলেন, “নামাজ, হিজাব ও ইসলামী বই রাখার ‘অপরাধে’ যেসব ছাত্রীদের বহিষ্কার করা হয়েছে, সেসব ছাত্রীদের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করতেই হবে, অন্যথায় দেশের আলেমসমাজ ধর্মপ্রাণ তৌহিদী জনতাকে সঙ্গে নিয়ে ইসলামবিদ্বেষী নাস্তিক্যবাদী তথাকথিত ঢাবি কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ-আন্দোলন গড়ে তুলতে বাধ্য হবে।বিবৃতিতে হেফাজত নেতৃবৃন্দ বলেন, নামাজ পড়া ও ইসলামি বই রাখার অপরাধে তিন ছাত্রীকে শুধু বহিষ্কার করে তারা ক্ষান্ত হয়নি,  ছাত্রলীগ নেতারা একজন ছাত্রীকে ডেকে নিয়ে জিজ্ঞেস করেছে ‘এখন তোর আল্লাহ কোথায়?’  স্বাভাবিকভাবেই সচেতন মানুষের মনে প্রশ্ন আসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কি এখন ইসলামবিদ্বেষী নাস্তিকতা ও ধর্মদ্রোহী প্রজন্ম তৈরির কারখানায় পরিণত হয়েছে?
হেফাজত নেতৃবৃন্দ বলেন, পর্দা বা হিজাব পালন প্রত্যেক মুসলিম নারীর জন্য ফরজ। দাড়ি রাখা ও টুপি পরা সুন্নাত। ইসলামী জ্ঞানার্জন করাও মুসলমানদের জন্য ফরজ। কোনো মুসলমানই এসবের বিরোধিতা করতে পারে না, আর যারা এসবের বিরোধিতা করবে তারা মুরতাদ হয়ে যাবে। তারা বলেন, আমরা দীর্ঘদিন থেকে লক্ষ করছি, ইসলামী বিধিবিধান পালনে অভ্যস্ত ছাত্র-ছাত্রীদের নামাজ, হিজাব বা পর্দা পালন, দাড়ি-টুপি ধারণ, ইসলামী জ্ঞানচর্চামূলক বই রাখাকে সম্পূর্ণ উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে জঙ্গি তৎপরতা হিসেবে আখ্যায়িত করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন প্রকারের হয়রানি, ভয়ভীতি ও বহিষ্কারের মতো যে-অনৈতিক ও মানবাধিকার লঙ্ঘন করে যাচ্ছেন তা এদেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম জনসাধারণ কখনো বরদাশত করবে না। কারণ এদেশের মুসলমানদের ট্যাক্সের পয়সায় এই বিশ্ববিদ্যালয়টি পরিচালিত হচ্ছে। তারা বলেন, নাস্তিকতা ও ধর্মদ্রোহী কর্মকা- পরিচালনা করা এই বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্দেশ্য নয়; বরং এই বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার মূল উদ্দেশ্য ছিল এ অঞ্চলের মুসলিম সন্তানদের মানসম্পন্ন উচ্চশিক্ষা নিশ্চিত করা এবং নিজেদের ধর্মীয় মূল্যবোধ, সভ্যতা-সংস্কৃতি রক্ষায় আদর্শ নাগরিক তৈরি করা। কিন্তু সেখানে আজ কী তৈরি হচ্ছে? বিশ্ববিদ্যালয় অঙ্গনে সন্ত্রাস, খুন, নৈরাজ্য, ধর্ষণ, যৌন হয়রানি, অশ্লীলতা ও মাদকসেবন, অস্ত্রবাজি ও দুর্নীতি চর্চার অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে। যার ফলে দেশের মধ্যে একটা ধর্মদ্রোহী, দুর্নীতিবাজ ও নীতিহীন ভোগবাদী প্রজন্ম তৈরি হচ্ছে। এর কুফল দেশবাসী এখন স্বচক্ষে দেখছে।

হেফাজতে নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কুরআন-হাদিসের উচ্চতর জ্ঞানচর্চাসহ ইসলামের বিভিন্ন বিষয় কেন্দ্রিক বিভাগ রয়েছে। সেখানে ইসলাম চর্চার কারণে ছাত্রছাত্রীদের হয়রানি ও নির্যাতনের শিকার হতে হয় তা মুসলমান হিসেবে আমাদের জন্য বড়ই লজ্জাজনক।

এখন তোর আল্লাহ কোথায়’-এই রকম ফেরাউনি উক্তি উচ্চারণকারী ছাত্রলীগ নেতাদের অবিলম্বে বহিষ্কার করে গ্রেফতারপূর্বক দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেয়ার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানাচ্ছি।হেফাজত নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, আমরা লক্ষ করছি যে, মাদরাসার ছাত্ররা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় সর্বোচ্চ পর্যায়ে মেধার স্বাক্ষর রাখার পরেও তাদের সঙ্গে চরম বৈষম্যমূলক আচরণ করছে কর্তৃপক্ষ। তাদের কাক্সিক্ষত জ্ঞানার্জন থেকে বঞ্চিত করছে- যা মাদরাসা শিক্ষার প্রতি চরম বিদ্বেষ ও অবমাননার শামিল। উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে বিভাজন ও বিদ্বেষপূর্ণ আচরণ শিক্ষকদের কাজ নয়। মাদরাসা শিক্ষাকে অবমূল্যায়নের পরিণাম কখনোই জাতির জন্য কল্যাণকর হবে না।” বিবৃতিদাতা শীর্ষ ওলামারা হলেন- হেফাজতে ইসলামের মহাসচিব মাওলানা হাফেজ জুনাইদ বাবুনগরীসহ অনেকে।

এই প্রতিবেদন Like & Share করুন।