Sheersha Media

ব্রেকিং নিউজ

রাত ১২:২৯ ঢাকা, বুধবার  ১৪ই নভেম্বর ২০১৮ ইং

এক নজরে বৃহস্পতিবারের পুঁজিবাজার

সূচকের মিশ্র প্রবণতায় সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসের লেনদেন শেষ করেছে দেশের পুঁজিবাজার। লেনদেনের বিভিন্ন পর্যায়ে সূচকের ওঠানামার মধ্য দিয়ে কাটলেও দিনশেষে ঢাকা শেয়ারবাজারের তিনটি সূচকের মধ্যে দু’টি সামান্য অবনতি ঘটলেও প্রধান সূচকটি নামমাত্র উন্নতি ধরে রাখে। তবে চট্টগ্রাম শেয়ারবাজারের প্রধান তিনটি সূচকেরই অবনতি ঘটতে দেখা যায়। এ ছাড়া কমেছে বাজারগুলোর লেনদেনও।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচকটি গতকাল ৪ দশমিক ৪০ পয়েন্ট বৃদ্ধি পেলেও ডিএসই-৩০ ও শরিয়াহ সূচকের অবনতি ঘটে ১ দশমিক ২৭ ও দশমিক ৫৪ পয়েন্ট। চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) সার্বিক মূল্যসূচক ও সিএসসিএক্স সূচকের অবনতি ঘটে ৫ দশমিক ২৭ ও ৫ দশমিক ৭৭ পয়েন্ট। এখানে সিএসই-৫০ সূচকটি ১ দশমিক ৮৩ পয়েন্ট হ্রাস পায়।
মিশ্র প্রবণতার কারণে লেনদেন কমেছে দুই পুঁজিবাজারেই। ঢাকায় গতকাল লেনদেন হয়েছে ৩৩১ কোটি টাকা, যা আগের দিন অপেক্ষা ৫৯ কোটি টাকা কম। বুধবার বাজারটির লেনদেন ছিল ৩৯০ কোটি টাকা। চট্টগ্রাম শেয়ারবাজারে ২৬ কোটি টাকা থেকে ২২ কোটিতে নেমে আসে লেনদেন।
এ দিকে ডিএসইর দু’টি মূল্যসূচক পুনঃসমন্বয় করা হয়েছে। ডিএসই-৩০ সূচক থেকে ছয়টি কোম্পানি বাদ পড়েছে, নতুন করে ঢুকেছে পাঁচটি কোম্পানি। তালিকাভুক্ত জ্বালানি-বিদ্যুৎ খাতের দুই কোম্পানি ডিএসই-৩০ সূচক থেকে ছিটকে পড়েছে। ডিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। আগামী ১৮ জানুয়ারি রোববার থেকে সমন্বয় পরবর্তী সূচক কার্যকর করা হবে। ডিএসই-৩০ থেকে বের হয়ে যাওয়া কোম্পানিগুলো হচ্ছে ন্যাশনাল লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি, পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশ, ঢাকা ইলেকট্রিক সাপ্লাই কোম্পানি (ডেসকো), অরিয়ন ফার্মা এবং প্রাইম ব্যাংক লিমিটেড। অন্য দিকে এ সূচকে যুক্ত হওয়া নতুন পাঁটি কোম্পানি হলো ব্র্যাক ব্যাংক, কেয়া কসমেটিকস, আইডিএলসি ফিন্যান্স, ইউনাইটেড এয়ারওয়েজ এবং স্কয়ার টেক্সটাইল। ডিএসই সূত্রে জানা যায়, কোম্পানির লেনদেনযোগ্য (ফ্রি-ফোট) শেয়ারেরবাজার মূলধন এবং গত তিন মাসের গড় লেনদেন বিবেচনায় নিয়ে করে সূচকটি সমন্বয় করা হয়েছে। এ ছাড়া ডিএসই প্রধান সূচকে (ব্রড ইনডেক্স) নতুন করে ১৮টি কোম্পানি ঢুকেছে। কোম্পানিগুলো হচ্ছে- সুহৃদ ইন্ডাস্ট্রিজ, রতনপুর স্টিল রি-রোলিং মিলস, রহিমা ফুড, এমারেল্ড অয়েল ইন্ডাস্ট্রিজ, সিভিও পেট্রো কেমিক্যাল রিফাইনারি, শাহজিবাজার পাওয়ার কোম্পানি, দেশ গার্মেন্টস, অ্যাপেক্স স্পিনিং মিলস, প্যারামাউন্ট টেক্সটাইল, মোজাফফর হোসেন স্পিনিং মিলস, হা-ওয়েল টেক্সটাইল, ফারইস্ট নিটিং অ্যান্ড ডাইং ইন্ডাস্ট্রিজ, তুং হাই নিটিং অ্যান্ড ডাইং, ওয়াটা কেমিক্যালস, এএফসি অ্যাগ্রো বায়োটেক, ফার কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ, খুলনা প্রিন্টিং অ্যান্ড প্যাকেজিং এবং সাইফ পাওয়ারটেক লিমিটেড। আবার প্রধান সূচক থেকে বাদ পড়েছে ছয় কোম্পানি। কোম্পানিগুলো হচ্ছে- সেন্ট্রাল ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি, ইনফরমেশন সার্ভিসেস নেটওয়ার্ক, লিবরা ইনফিউশনস, ন্যাশনাল টি কোম্পানি, সোনারগাঁ টেক্সটাইল এবং স্ট্যান্ডার্ড ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি। উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের ২৭ জানুয়ারি ডিএসইতে ডিএসইএক্স ও ডিএসই ৩০ সূচক দু’টি চালু করা হয়। গতকাল লেনদেনের শুরু থেকেই দুই পুঁজিবাজারে দরপতন শুরু হয়। এক দিকে লেনদেন হওয়া কোম্পানিগুলো দর হারাচ্ছিল। অন্য দিকে পতন ঘটছিল সূচকের। ঢাকায় প্রথম আধঘণ্টায় ডিএসইর প্রধান সূচকটির অবনতি ঘটে ১৭ পয়েন্টের বেশি। ৪ হাজার ৯৫২ পয়েন্ট ৬ থেকে লেনদেন শুরু করা ডিএসইএক্স সূচকটি বেলা ১১টায় নেমে আসে ৪ হাজার ৯৩৫ পয়েন্টে। তবে লেনদেনের পরবর্তী একঘণ্টা ক্রয়চাপ বৃদ্ধি পেলে পুনরায় ঊর্ধ্বমুখী হয় সূচকটি। দুপুর ১২টায় সূচকটি পৌঁছে যায় ৪ হাজার ৯৫৯ পয়েন্টে। লেনদেনের এ পর্যায়ে ফের বিক্রয়চাপের সৃষ্টি হলে নিম্নমুখী হয় সূচকটি। তবে দিনের শেষভাগে আবারো হারানো সূচক ফিরে পায় ডিএসই। দিনশেষে প্রধান সূচকটির ৪ দশমিক ৪০ পয়েন্ট উন্নতি ধরে রেখে লেনদেন শেষ করে ডিএসই।
দিনের শেষভাগে ব্যাংকিং খাতের মূল্যবৃদ্ধিই মূলত ডিএসইতে সূচকের পতন সামলে নেয়। টানা দরপতনের পর গতকাল ব্যাংকিং খাতের কোম্পানিগুলোর বেশির ভাগই হারানো দরের একটি অংশ ফিরে পায়। একই প্রবণতা দেখা যায় টেক্সটাইল খাতেও। আগের দিন এ খাতের বেশির ভাগ কোম্পানি দর হারালেও গতকাল ছিল বিপরীত চিত্র। মূল্যবৃদ্ধির তালিকায় উঠে আসে বেশির ভাগ কোম্পানি। তবে নন-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠান, প্রকৌশল, সিমেন্ট ও সিরামিকস খাতের বেশির ভাগ কোম্পানি পতনের শিকার হয়। অন্য দিকে মিশ্র প্রবণতা ধরে রাখে রসায়ন, জ্বালানি ও চামড়া খাত। দিনশেষে ঢাকায় লেনদেন হওয়া ৩১০টি কোম্পানি ও ফান্ডের মধ্যে ১২১টির মূল্যবৃদ্ধি ঘটে, ১৪৬টি দর হারায় এবং অপরিবর্তিত ছিল ৪৩টির দর। পক্ষান্তরে, চট্টগ্রামে লেনদেন হওয়া ২৪৫টি সিকিউরিটিজের মধ্যে ৮৮টির দাম বাড়ে, ১২১টির কমে এবং ৩৬টির দর অপরিবর্তিত থাকে। গতকাল দ্বিতীয় দিনের মতো ডিএসইর লেনদেনের শীর্ষ স্থানটি ধরে রাখে বাংলাদেশ বিল্ডিং সিস্টেমস লিমিটেড। ১৭ কোটি ৫৪ লাখ টাকায় ৩২ লাখ ১৮ হাজার শেয়ার হাতবদল হয় কোম্পানিটির। ৯ কোটি ৬০ লাখ টাকা লেনদেন করে আইডিএলসি ফিন্যান্স গতকালও দ্বিতীয় স্থানটি ধরে রাখে। ডিএসইর শীর্ষ লেনদেনকারী ১০ কোম্পানির তালিকায় আরো ছিল সাইফ পাওয়ারট্রেক, তিতাস গ্যাস, ওয়েস্টার্ন মেরিন শিপইয়ার্ড, গ্রামীণ ফোন, ডেসকো, এনভয় টেক্সটাইল, স্কয়ার ফার্মা ও অগ্নি সিস্টেমস।