Sheersha Media

ব্রেকিং নিউজ

রাত ২:১৩ ঢাকা, রবিবার  ১৮ই নভেম্বর ২০১৮ ইং

এক ও দুই টাকার মুদ্রা থাকছেনা

সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে এক ও দুই টাকা এই দুই ধরনের মুদ্রা আর বাজারে রাখা হবে না। কারণ এগুলো নাকি ‘ইউজলেস’! আস্তে আস্তে তা বাজার থেকে তুলে নেয়া হবে। ফলে পাঁচ টাকার নিচে কোনো মুদ্রা আর দেশে থাকবে না। সরকারের এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। তিনি বলেছেন, এতে নাকি জনগণের ‘লাভ’ই হবে। কারণ এর ‘বোঝা’ নাকি জনগণ বহন করতে পারছেন না। তবে এক ও দুই টাকা বাজার থেকে তুলে নেয়ার কাজে গুণে গুণে ব্যয় করতে হবে শত শত কোটি টাকা। অর্থমন্ত্রীর ভাষায়, এই তুলে নেয়ার কাজে ব্যয় করতে হবে প্রায় ৩০০ কোটি টাকা।
গতকাল সচিবালয়ে ‘ভ্যাট আইন সংশোধন’ সংক্রান্ত এক বৈঠক শেষে তিনি সাংবাদিকদের এ কথা জানান। অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘আগামীতে পাঁচ টাকার নিচে কোনো মুদ্রা না রাখার চিন্তাভাবনা করছে সরকার। এ জন্য নতুন পাঁচ টাকার মুদ্রা বাজারে ছাড়া হবে এবং নতুন এ মুদ্রা বাজারে ছাড়ার আগে পাঁচ টাকার কম মানের যেসব মুদ্রা আছে (এক ও দুই টাকা) সেগুলো বাজার থেকে তুলে নেয়া হবে। তবে নতুন পাঁচ টাকার মুদ্রাটি ধাতব না কাগজের টাকা হবে, তা এখনো ঠিক করা হয়নি।’
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, এগুলো (এক ও দুই টাকা) এখন ইউজলেস। শুধু শুধু এগুলো বহনের বোঝা বাড়িয়ে লাভ কী। ‘এক ও দুই টাকা মানের মুদ্রা তুলে দিয়ে সরকারের কী লাভ হবে’Ñ এ প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, সরকারের নয়, দেশের জনগণের লাভ হবে।
তিনি আরো বলেন, ‘এসব ধাতব ও কাগুজে মুদ্রা ধ্বংস করতেও সরকারের অনেক ব্যয় হবে। এতে প্রায় ৩০০ কোটি টাকা ব্যয় হবে’ বলে জানান তিনি।
সারা দেশে বর্তমানে সরকারের কত টাকা আছে? জানতে চাইলে অর্থমন্ত্রী বলেন, সারা দেশেই টাকা আছে। তবে কত টাকা আছে তা কখনো গণনা করা সম্ভব হয়নি। শুধু ১৯৫৮ সালে মার্শাল ল’র সময় একবার গণনা করা সম্ভব হয়েছিল,এরপর আর হয়নি। তবে আমার এ ধরনের গণনা করার ইচ্ছা নেই। যখন পাঁচ টাকা ছাড়ব, তখন কত টাকা ওঠানো হচ্ছে তার একটা হিসাব রাখব।
এ সময় বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আতিউর রহমান, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান নজিবুর রহমান এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
আইএমএফের সাথে আলোচনা করেই ভ্যাট আইনের সংশোধন চূড়ান্ত করা হবে
আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সাথে আলোচনা করেই নতুন ভ্যাট আইনের সংশোধন চূড়ান্ত করা হবে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী।
‘ভ্যাট আইন সংশোধন’ সংক্রান্ত বৈঠকটি শেষে তিনি সাংবাদিকদের এ কথা জানান। অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘ভ্যাট আইনের সংশোধন নিয়ে আলোচনার জন্য ফেব্রুয়ারি মাসে আইএমএফকে ঢাকায় আসার আমন্ত্রণ জানানো হবে’।
দাতা সংস্থা আইএমএফের কাছ থেকে ‘বর্ধিত ঋণসহায়তার’ (ইসিএফ) আওতায় সরকার যে ঋণ নিচ্ছে এর শর্ত হিসেবে ২০১৩ সালে নতুন ভ্যাট আইন প্রণয়ন করেছে সরকার। চলতি ২০১৫ সালের ১ জুলাই থেকে নতুন এ ভ্যাট আইন কার্যকর করার কথা। তবে নতুন ভ্যাট আইনটি দেশের ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই ব্যবসাবান্ধব বলে মনে করছে না। তাদের মতে, আইনটি নিয়ে সরকার ব্যবসায়ীদের সাথে আলোচনা করলেও তাদের মতামতকে গুরুত্ব দেয়া হয়নি। এর ফলে এই আইন চূড়ান্তকরণ বিষয়টি ঝুলে আছে।
এ অবস্থায় নতুন ভ্যাট আইন পর্যালোচনার জন্য গত বছরের শেষ দিকে সরকার একটি কমিটি গঠন করে এবং এফবিসিসিআইয়ের বিরোধিতায় নতুন ভ্যাট আইনের বাস্তবায়ন এক বছর পেছানোর সিদ্ধান্ত নেয়। অর্থাৎ ২০১৬ সালের ১ জুলাই থেকে নতুন ভ্যাট আইন কার্যকর হবে।
নতুন ভ্যাট আইন সংশোধনের বিষয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, ভ্যাট অব্যাহতি দেয়ার ক্ষেত্রে যে নির্দিষ্ট সীমা রয়েছে সেখানে একটি বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। এ ছাড়া অন্যান্য ক্ষেত্রে তেমন বিশেষ কোনো পরিবর্তন হবে না।
তিনি বলেন, আইএমএফের একটি বড় ভয় ছিল যে, ভ্যাট দেয়ার ক্ষেত্রে সর্বনিম্ন যে হার নির্ধারণ করা হয়েছে, সেটি না আবার পরিবর্তন করা হয়। সে ক্ষেত্রে কোনো পরিবর্তন আনা হবে না। এ ছাড়া টার্নওভার ট্যাক্স ও প্যাকেজ ভ্যাট এগুলো থাকবে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, বৈঠকে ব্যবসায়ীরা অনেক প্রস্তাব দিয়েছেন ও তাদের সমস্যার কথা বলেছেন। এগুলোর কিছু কিছু আগামী বাজেটে সংশোধন করা হবে।