Sheersha Media

ব্রেকিং নিউজ

ভোর ৫:৪৯ ঢাকা, সোমবার  ১৯শে নভেম্বর ২০১৮ ইং

একাদশে ভর্তির ফল প্রকাশের তারিখ ফের পিছিয়ে রোববার দিল

২০১৫-২০১৬ শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণীতে ভর্তিচ্ছুকদের অনলাইনে আবেদনের ফল প্রকাশের তারিখ ফের পেছনো হয়েছে। আগামীকাল রোববার এ ফল প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা সচিব নজরুল ইসলাম। শনিবার দুপুরে সাংবাদিকদের এ কথা জানান তিনি। একই সঙ্গে ভর্তির সময় বাড়ানো হবে বলেও জানান সচিব।

এদিকে ঘোষণা দিয়েও বৃহস্পতি ও শুক্রবার রাতে একাদশ শ্রেণীতে ভর্তি আবেদনের ফল প্রকাশ করেনি সরকার। এমনকি সরকারি তরফে এ ব্যর্থতার ব্যাপারে ওই রাতে কোনো প্রকার বিজ্ঞপ্তিও দেয়া হয়নি। আর এ কারণে ভর্তির জন্য আবেদন করা প্রায় সাড়ে ১১ লাখ শিক্ষার্থী এবং সঙ্গে তাদের অভিভাবক ফল জানতে না পেরে দুশ্চিন্তার মধ্যে সময় কাটান। অনেকেই বারবার ওয়েবসাইটে ‘ক্লিক’ করেন। ফল না পেয়ে ‘চান্স পায়নি’ এমন ধারণা থেকে শিক্ষার্থী-অভিভাবকরা উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় পড়ে যান। এ অবস্থার মধ্যে শুক্রবার দুপুরে এসে অবশ্য শিক্ষা বোর্ডের থেকে ফল প্রকাশের নতুন সময় ঘোষণা করা হয়। সে অনুযায়ী শুক্রবার রাত সাড়ে ১১টায় ফল প্রকাশের কথা ছিল। কিন্তু শুক্রবার রাতেও ফল প্রকাশ করা হয়নি। পরে শনিবার সকাল ৮টায় ফল প্রকাশের কথা জানানো হয়। বার বার তারিখ পরিবর্তনে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা দুশ্চিন্তার মধ্যে সময় কাটাচ্ছেন।

শনিবার সকালে ভর্তির ওয়েবসাইট www.xiclassadmission.gov.bd তে প্রবেশ করে দেখা যায়-সেখানে লেখা রয়েছে, ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তিচ্ছুক শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্টদের জানানো যাচ্ছে যে, ভর্তির ফলাফল প্রক্রিয়াকরনের কাজ চলছে, ফলাফল প্রকাশের সময় শীঘ্রই জানিয়ে দেয়া হবে।
ভর্তিতে অনিয়ম দূর করার লক্ষ্যে সরকার প্রথমবারের মতো এবার একাদশ শ্রেণীর ভর্তি কার্যক্রম অনলাইনে শুরু করে। সে অনুযায়ী ২১ জুন পর্যন্ত আবেদন নেয়া হয়। ‘কোন শিক্ষার্থী কোন কলেজে ভর্তির জন্য নির্বাচিত হয়েছে’- এ ফল ঘোষণার কথা ছিল বৃহস্পতিবার রাতে। কিন্তু কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে, সার্ভার ‘হ্যাক’ হয়ে যাওয়ায় তারা যথাসময়ে তা করতে পারেনি। তবে এ দাবি সঠিক নয় বলে খোদ ঢাকা বোর্ডেরই একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র নিশ্চিত করেছে। তারা বলেছেন, বিভিন্ন বোর্ড প্রথমে ৩০০ আসন রয়েছে এমন ৫ শতাধিক কলেজের ভর্তি কার্যক্রম অনলাইনে করার প্রস্তুতি নিয়েছিল। এসব কলেজে মোট আসন রয়েছে প্রায় পৌনে ২ লাখ। সে অনুযায়ী বুয়েটের সঙ্গে চুক্তি করা হয়। বুয়েট এসব কলেজের আবেদনকারীর একটি সম্ভাব্য সংখ্যা ধরে সার্ভার তৈরি করে। কিন্তু এরই মধ্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে সব কলেজের ভর্তি কার্যক্রম অনলাইনে করার সিদ্ধান্ত নেয়। ১১ লাখ ৫৬ হাজার শিক্ষার্থী প্রায় ৩২ লাখ আবেদন করেছে। ফল প্রকাশের পর এ ৩২ লাখের সঙ্গে তাদের বাবা-মা’র অনেকে ওয়েবসাইটে ঢুকে ফল জানার চেষ্টা করে। ফলে ক্যাপাসিটির (সক্ষমতা) তুলনায় বেশি চাপ পড়ে সার্ভারে। আর এ কারণে ঘটে বিপর্যয়।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের একাধিক সূত্র জানায়, আবেদন গ্রহণকালীন সময়ে সার্ভারের ক্যাপাসিটি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কেউই যাচাই-বাছাই করেননি। কিন্তু বৃহস্পতিবার রাতে ফল তৈরিকালে বিষয়টি তাদের নজরে পড়ে। এ খবর পেয়ে শিক্ষা সচিব নজরুল ইসলাম খান ছুটে যান বুয়েটে। তিনি সীমিত পর্যায়ে হলেও রাত সাড়ে ১১টায় ফল প্রকাশের নির্দেশনা দেন। কিন্তু সে চেষ্টা সফল হয়নি। সচিব রাত ৩টা পর্যন্ত সেখানে অবস্থান করেন। কিন্তু যান্ত্রিক ত্রুটি আর তাদের সফল করতে পারেনি।
ঢাকা বোর্ডের এক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, বৃহস্পতিবার রাতে ফল প্রকাশ করতে না পারার পেছনে যান্ত্রিক ত্রুটির বাইরে ওয়েবসাইট ‘হ্যাক’ হওয়ার ঘটনাও রয়েছে। রাত ১২টা থেকে সাড়ে ১২টার দিকে ওয়েবসাইট হ্যাক হয়ে যায়। তখন সাইট ওপেন করলে ভেসে উঠে, ‘আই লাভ ইউ-লাভার গ্রুপ’ নামে একটি বাক্য। তবে ঢাকা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবু বক্কর ছিদ্দিক হ্যাক হওয়ার ঘটনা অস্বীকার করে বলেন, বেশি ক্লিক হওয়ার কারণে ওয়েবসাইট ধীরগতির হয়ে যায়।
একাদশ শ্রেণীতে ভর্তির ওয়েবসাইট (www.xiclassadmission.gov.bd) থেকে আবেদনকারীরা ফল জানতে পারবে।