Sheersha Media

ব্রেকিং নিউজ

সকাল ৯:৩৯ ঢাকা, শুক্রবার  ১৬ই নভেম্বর ২০১৮ ইং

ফাইল ফটো

একাত্তরের ঘাতক, যুদ্ধাপরাধী জামাতচক্রের ষড়যন্ত্র প্রতিরোধে ঐক্যবদ্ধের আহবান প্রধানমন্ত্রীর

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দল-মত-নির্বিশেষে দেশের সকল নাগরিককে একাত্তরের ঘাতক, মানবতাবিরোধী, যুদ্ধাপরাধী জামাতচক্রের সকল ষড়যন্ত্র প্রতিরোধে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, এই কুখ্যাত মানবতাবিরোধীদের যারা রক্ষার অপচেষ্টা করছে তাদেরও একদিন বিচারের আওতায় আনা হবে। এসব রায় বাস্তবায়ন করার মাধ্যমে দেশ কলঙ্কমুক্ত হবে।
জনগণের বিপুল ম্যান্ডেট নিয়ে ২০০৯ সালে সরকার গঠনের পর দেশের বুদ্ধিজীবী হত্যাকারীদের বিচারের আওতায় আনা হয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘ইতোমধ্যে এ বিচারের কয়েকটি রায় কার্যকর হয়েছে। বাকি সকল রায় কার্যকর করা হবে। কোনো ষড়যন্ত্রই জাতিকে এ পথ থেকে বিচ্যুত করতে পারবে না।’
প্রধানমন্ত্রী শহিদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে দেয়া আজ এক বাণীতে এ আহবান জানান। আগামীকাল ১৪ ডিসেম্বর শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস।
তিনি বলেন, “আমাদের স্বাধীনতার ইতিহাসে ‘শহিদ বুদ্ধিজীবী দিবস’ এক কলঙ্কময় দিন। স্বাধীনতার উষালগ্নে স্বাধীনতাবিরোধী অপশক্তি তাদের পরাজয় নিশ্চিত জেনে বাংলাদেশকে মেধাশূন্য করার ঘৃণ্য ষড়যন্ত্রে বাঙালি বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করে।”
তিনি শহিদ বুদ্ধিজীবীসহ মুক্তিযুদ্ধের সকল শহিদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা এবং তাঁদের পরিবারের সদস্যদের গভীর সমবেদনা জানিয়ে বলেন, ‘তাঁদের এই আত্মত্যাগ জাতি চিরদিন শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করবে।’
বাণীতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জামাত ও ধর্মান্ধ রাজনৈতিক দলগুলো সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নির্দেশে পরিচালিত মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়। তারা আলবদর, আলশামস ও রাজাকারবাহিনী গঠন করে পাক হানাদারবাহিনীকে সহায়তা করার পাশাপাশি হত্যা, ধর্ষণ, অগ্নিসংযোগ, লুটতরাজ করে।
শেখ হাসিনা বলেন, বাঙালি জাতির বিজয়ের প্রাক্কালে তারা দেশের শিক্ষাবিদ, সাংবাদিক, সাহিত্যিক, চিকিৎসক, বিজ্ঞানী, আইনজীবী, শিল্পী, প্রকৌশলী, দার্শনিক ও রাজনৈতিক চিন্তাবিদসহ দেশের সেরা সন্তানদের নির্মমভাবে হত্যা করে।
আনোয়ার পাশা, শহীদুল্লাহ কায়সার, গিয়াসউদ্দিন, ডা. ফজলে রাব্বি, আবদুল আলীম চৌধুরী, সিরাজউদ্দীন হোসেন, সেলিনা পারভীন, ড. জ্যোতির্ময় গুহ ঠাকুরতার নাম উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাঁদের মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলার শিক্ষক মোফাজ্জল হায়দার চৌধুরী, মুনীর চৌধুরী আরও অনেকে তার শিক্ষক ছিলেন।
তিনি বলেন,স্বাধীনতাবিরোধীরা এই পরিকল্পিত নৃশংস হত্যাযজ্ঞের মধ্য দিয়ে পরাজয়ের প্রতিশোধ নেয়। তাদের সেই প্রতিশোধ-স্পৃহা আজও থেমে নেই।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, মুক্তিযুদ্ধের এই পরাজিত শক্তি ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতাকে সপরিবারে হত্যা করে। মুক্তমনা শিক্ষক, লেখক, সাংবাদিক ও রাজনীতিবিদদের ওপর অত্যাচার-নির্যাতন চালায়। দেশে জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসের জন্ম দেয়। সাম্প্রদায়িকতাকে উস্কে দেয়। খুন-হত্যা-ধর্ষণ-নির্যাতন চালায়। এই সন্ত্রাসী ও জঙ্গিগোষ্ঠী ২০০১ থেকে ২০০৬ পর্যন্ত দেশব্যাপী ত্রাসের রাজত্ব চালায়। তারা সাম্প্রদায়িকতার বিষবাষ্প ছড়ায়। এতে জনগণের নাভিশ্বাস উঠে।