ব্রেকিং নিউজ

সকাল ৯:১২ ঢাকা, বুধবার  ২৩শে মে ২০১৮ ইং

একনেকে ফোর টায়ার জাতীয় ডাটা সেন্টার প্রকল্পের অনুমোদন

ডিজিটাল বাংলাদেশের জন্য নিরাপদ ডাটা সংরক্ষণ ও আইসিটির সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করতে ফোর টায়ার জাতীয় ডাটা সেন্টার স্থাপন প্রকল্পের অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)।
চলতি অর্থবছরে একনেকের নবম সভায় আজ ১ হাজার ৫১৬ কোটি টাকা ব্যয়ে এ ‘ ফোর টায়ার ন্যাশনাল ডাটা সেন্টার’ স্থাপন প্রকল্পের অনুমোদন দেয়া হয়। ৭ একর জমির ওপর কালিয়াকৈর হাইটেক পার্কে নির্মিত এ ডাটা সেন্টার সরকারের বিদ্যমান ডাটা সেন্টারের সক্ষমতা বৃদ্ধি করবে। এ ছাড়া সরকারি সকল কাজ পেপারলেস (কাগজবিহীন) হয়ে যাবে। বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল (বিসিসি) প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে।
প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপার্সন শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে শেরে বাংলানগরে এনইসি সম্মেলন কক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠক শেষে পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল সাংবাদিকদের বলেন, আজকের একনেকে ২ হাজার ৪৭৪ কোটি টাকায় মোট ৪টি প্রকল্প অনুমোদিত হয়েছে। এর মোট প্রকল্প ব্যয়ের মধ্যে সরকারি কোষাগার থেকে ১ হাজার ৮৯ কোটি এবং অবশিষ্ট ১ হাজার ৩৮৫ কোটি টাকা প্রকল্প সহায়তা হিসেবে দেয়া হবে।
অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান ব্রিফিংয়ে উপস্থিত ছিলেন।
পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, এনবিআর, ভূমি মন্ত্রণায়, ডিএলআরএস, ব্যাংকিং ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বিদ্যুৎ বিভাগ ও অন্যান্য সরকারি সংস্থার বিপরীতে বিদ্যমান সরকারের ডাটা কেন্দ্রের সামর্থ অপর্যাপ্ত। এ ছাড়া ডাটা সেন্টারের নিরাপত্তার জন্য বিশেষভাবে সুরক্ষিত ভবনের প্রয়োজন।
তিনি বলেন, ডাটা কেন্দ্র নির্মাণে ১ হাজার ৫১৬ কোটি ৯১ লাখ টাকার মধ্যে সরকার ৩১৭ কোটি ৫৫ লাখ এবং অবশিষ্ট ১ হাজার ১৯৯ কোটি ৩৬ লাখ টাকা দেবে চীনের এক্সিম ব্যাংক।
বৈঠক সূত্রে জানা যায়, সভায় প্রধানমন্ত্রী পরিকল্পনা কমিশনের সকল সদস্য ও কর্মকর্তাদের প্রচেষ্টার জন্য তাদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, দেশের মানুষের সার্বিক সমর্থনের কারণে বাংলাদেশ জাতিসংঘের সর্বোচ্চ পুরস্কার ‘চ্যাম্পিয়ন্স অব দ্য আর্থ’ এবং আইটিইউ’র আইসিটি সাসটেইনেবল পদক পেয়েছে।
বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রবৃদ্ধির আভাষ সম্পর্কে তিনি বলেন, বাংলাদেশের জন্য অনেক সংস্থাই এখন ৬ দশমিক ৫ থেকে ৬ দশমিক ৭ পর্যন্ত ঊর্ধ্বমুখী প্রবৃদ্ধির কথা বলছে। কিন্তু সরকারের লক্ষ্য হচ্ছে চলতি অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৭ শতাংশে উন্নীত করা। এটা কঠিন হলেও বাংলাদেশ প্রবৃদ্ধির এ লক্ষ্য অর্জনে সক্ষম হবে বলে দৃঢ় প্রত্যয়ের সঙ্গে এ কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।
বৈঠকে অনুমোদিত অন্যান্য প্রকল্পগুলো হচ্ছে- ৭১৫ কোটি ৩৭ লাখ টাকায় বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির (ডব্লিউএফপি) সহায়তায় দুর্যোগ ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব সহিষ্ণু প্রকল্প (প্রথম সংশোধন), ১৫৫ কোটি ৮৮ লাখ টাকায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় তিতাস নদী পুনর্খনন এবং ৮৬ কোটি ৭৯ লাখ টাকা ব্যয়ে পদ্মা নদী ভাঙন থেকে রাজশাহী ক্যাডেট কলেজ ও পার্শ্ববর্তী গুরুত্বপূর্ণ এলাকা সংরক্ষণ প্রকল্প।
মন্ত্রিবর্গ, প্রতিমন্ত্রীবৃন্দ এবং পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য ও সংশ্লিষ্ট সচিবগণ সভায় উপস্থিত ছিলেন।