Sheersha Media

ব্রেকিং নিউজ

বিকাল ৫:২২ ঢাকা, শুক্রবার  ১৬ই নভেম্বর ২০১৮ ইং

একটা স্যান্ডউইচের জন্য গ্রিসে বিকোচ্ছে শরীর

ভেঙে পড়ছে গ্রিসের অর্থনীতি। সিপ্রাস সরকারের পুনরভিষেক পাল্টাতে পারেনি চিত্রটা। দিন দিন বাড়চ্ছে বেকারত্ব। গোটা দেশটার আর্থ-সামাজিক পরিস্থিতি ঠিক কতটা করুণ তার জলজ্যান্ত ছবিটা বোধহয় পাওয়া যাচ্ছে সে দেশের তরুণীদের অবস্থা থেকে। নেই চাকরি। খিদের মুখে একটা চিজ বা একটা স্যান্ডউইচ কেনার ক্ষমতাও নেই তাঁদের। বাধ্য হয়ে শরীর বেচছেন তাঁরা। ল্যাক্সোস নামের একটি সংস্থার তিন বছরের সমীক্ষায় জানা গেছে এই মুহূর্তে ১৭ হাজার গ্রিক তরুণী বাধ্য হয়ে যৌন পেশায় যুক্ত হয়েছেন। শুধু তাই নয়, এই মুহূর্তে সমগ্র ইউরোপে গ্রিসের যৌনকর্মীরাই সবচেয়ে ‘সস্তা’।

এই মুহূ্র্তে ঠিক কতটা বেহাল গ্রিসের অর্থনীতি? একটি সমীক্ষা বলছে সে দেশের বেকারত্ব ২৫% ছাপিয়ে গেছে। বেশিরভাগ সংসার চলে বাবা বা ঠাকুরদার পেনশনের টাকায়। স্কুলের ছোট্ট ছোট্ট বাচ্চারা পেটের জ্বালায় বাসে উঠে ভিক্ষা করছে। প্রথমবার ক্ষমতায় আসার পর সিপ্রাস প্রতিশ্রুতি দিয়ে ছিলেন কর বাড়বে না সরকারী ক্ষেত্রে। কিন্তু ক্ষণের চাপে জর্জরিত সিরিজা সরকার প্রতিশ্রুতি রাখতে পারেনি। ইউরোপিয় ইউনিয়নের শর্ত মেনে বেড়েছে কর। গণভেোটে সে দেশের সাধারণ মানুষ ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের অন্তর্ভুক্তির বিরুদ্ধে মত দিলেও পিছু হটেননি সিপ্রাস। কর বাড়লেও বাড়ছে না বেতন। নেই নতুন কর্মসংস্থানও। অদ্ভুতভাবে গ্রামের অরথনীতি কিন্তু শহরের তুলনায় ভাল। অর্থনীতির দশা দৈন্য হলেও এথেন্সের মত শহরগুলোতে কিন্তু পাল্টায়নি জীবনধারণের মান। চাহিদার সঙ্গে দারিদ্র্যের এই অদ্ভুত সঙ্ঘাতেই দেহ ব্যহসাতে বাধ্য হয়েই জড়িয়ে পড়ছেন কম বয়সী গ্রিক মেয়েরা।

প্রয়োজন খিদেটুকু মেটানো। মাত্র দুই ইউরোর বিনিময়ে তাই ৩০ মিনিটের জন্য শরীর বিকোতে রাজি হয়ে যাচ্ছেন সে দেশের তরুণীরা।

অনলাইনে পর্ন ভিডিওর রমরমার যুগে সারা পৃথিবীতেই আয় কমছে যৌনকর্মীদের। গ্রিসে দেহ ব্যবসা আইনত সিদ্ধ। ইউরোপে বেশ কিছু দেশে এখনও বেআইনি যৌনপেশা। ফলে বহু দিন আগে থেকেই বিশেষত, পূর্ব ইউরোপের বহু তরুণী ও যুবতী দেহব্যবসার জন্য গ্রিসে জড়ো হন। কিন্তু গত তিন বছরে আর্থিক পরিস্থিতির এতটাই অবনতি হয়েছে যে গ্রিসের সাধারণ নাগরিকরা অনেক বেশি এই পেশায় জড়িয়ে পড়ছেন। বেঁচে থাকার সাধারণ চাহিদাগুলো মেটাতে কম বয়সী মহিলারা নামছেন যৌনপেশায়। আনন্দবাজার