দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ
দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ, ফাইল ফটো

‘একক প্রতিষ্ঠান দিয়ে দুর্নীতি দমন অসম্ভব’

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ বলেছেন, কোনো একক প্রতিষ্ঠানের পক্ষে দুর্নীতি দমন সম্ভব নয় । দুর্নীতি দমনে সমন্বিত উদ্যোগের প্রয়োজন।

তিনি বলেন, সরকারের সদিচ্ছা থাকাতে দুর্নীতিবিরোধী সচেতনতা বৃদ্ধি পেয়েছে। অনেক জায়গায় কমছে, কোথাও থমকে দাড়িয়েছে। তবে একদিন বা এক বছরেই দুর্নীতি থেকে পরিত্রাণের উপায় নেই, একটি ধারাবাহিক প্রচেষ্টায় দুর্নীতি অবশ্যই সহনীয় পর্যায়ে নেমে আসবে।

দুদক চেয়ারম্যান আজ রাজধানীর সেগুনবাগিচাস্থ কমিশনের প্রধান কার্যালয়ে “দুর্নীতি দমন কমিশনের কৌশলপত্র-২০১৯” এর উপর মতামত ও পরামর্শ গ্রহণের জন্য দেশের ৩০টি বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীদের সাথে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এ কথা বলেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মতামত ও পরামর্শ গ্রহণের এ জাতীয় মতবিনিময় সভা এটাই প্রথম।

সভায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যায়ের শিক্ষার্থী তামান্না রিফাত আরা, জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মোঃ সাইদুর রহমান, শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মিরা রহমান, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মোঃ ফারুক হোসেন, আর্মডফোর্সেস মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থী মোঃ আশিকুর রহমান মিয়া,জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী শম্পা গুহ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী শামস আসিফ চৌধুরী, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী অর্পিতা মহাজন এবং শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী টোটন চন্দ্র দেব নাথ বক্তৃতা করেন।

দুদক চেয়ারম্যান বলেন , দুর্নীতিবাজদের লজ্জা ফিরিয়ে আনতে হলে প্রয়োজন মানসম্মত শিক্ষা। মূল্যবোধ সম্পন্ন শিক্ষা এবং মূল্যবোধসম্পন্ন উন্নয়নের প্রয়োজন। তিনি বলেন, দুদককে ভয় পায় না এমন লোক হয়তো সমাজে নেই। তবে ভয় দিয়ে সবকিছু জয় করা যায় না।

দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রাখা হবে এ কথা উল্লেখ করে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে ইকবাল মাহমুদ বলেন, এবারও ৬৩ শতাংশ দুর্নীতি মামলায় সাজা হয়েছে। আমরা হয়তো কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় দুর্নীতি কমাতে পরিনি। এই ৬৩ শতাংশ সাজা কিন্তু এমনিতে হয়নি। এটি আমাদের সবার ঐকান্তিক চেষ্টার ফসল।

তিনি বলেন, সব দুর্নীতিই দুদকের ম্যান্ডেটভুক্ত নয়। দন্ডবিধির কতিপয় ধারা এবং অবৈধ সম্পদ অর্জন দুদকের তফসিলভুক্ত। দুর্নীতির উৎস বন্ধেও সরকারের নিকট সুপারিশ করার আইনি দায়িত্ব দুদকের রয়েছে। কমিশন স্বাস্থ্য ও শিক্ষাসহ বিভিন্ন প্রকিষ্ঠানের দুর্নীতি প্রতিরোধ ও জনহয়রানি রোধে বিভিন্ন সুপারিশমালা সরকারের কাছে প্রেরণ করা শুরু করেছে।

মতবিনিময় সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন দুদক মহাপরিচালক (প্রতিরোধ) সারোয়ার মাহমুদ। দুদক কমিশনার এ এফ এম আমিনুল ইসলাম ও দুদক কমিশনার ড. মোঃ মোজাম্মেল হক খান, দুদক সচিব মোহাম্মদ দিলোয়ার বখ্ত, মহাপরিচালক (প্রশাসন) মোহাম্মদ মুনীর চৌধুরী, মহাপরিচালক (তদন্ত) মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান প্রমুখ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।