ব্রেকিং নিউজ

রাত ৯:২৬ ঢাকা, বৃহস্পতিবার  ২০শে সেপ্টেম্বর ২০১৮ ইং

রুহুল কবির রিজভী আহমেদ
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ, ফাইল ফটো

“একক কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়ে গেল”

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ বলেছেন, সব বিভাগের ওপর একক কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়ে গেল শেখ হাসিনার। তিনি বলেন, প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহাকে জোরপূর্বক এক মাসের ছুটি দিয়ে গোটা বিচার ব্যবস্থাকে নিজেদের আয়ত্বে নিয়েছে সরকার। আসলে প্রধান বিচারপতিকে তার পদ থেকে সরিয়ে দেয়ার এটি একটি প্রথম পদক্ষেপ।

শনিবার সকালে নয়া পল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিন এ কথা বলেন।

রিজভী আহমেদ বলেন, এখন নির্বাহী বিভাগ, বিচার বিভাগ ও আইন বিভাগের মধ্যে আর কোনো পার্থক্য নেই। সব বিভাগের ওপরই একক কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়ে গেল শেখ হাসিনার।

তিনি বলেন, মানুষের বিচার লাভের শেষ আশ্রয় আর থাকলো না। আগামী দিনের সকল রায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকেই নিয়ন্ত্রণ হবে বলে জনমনে আশংকা তৈরি হয়েছে।

বিএনপির এই নেতা বলেন, প্রধান বিচারপতিকে হুমকি দিয়ে ছুটি নিতে বাধ্য করা অথবা ছুটির নামে যে জালিয়াতি করা হয়েছে সেটি নজীরবিহীন। এই ঘটনায় গোটা বিচার ব্যবস্থাকেই ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে ঠেলে দেয়া হলো।

তিনি বলেন, একজন সুস্থ ব্যক্তিকে অসুস্থ বানিয়ে তাকে পদ থেকে সরিয়ে দেয়ার ইতিহাস আওয়ামী লীগের অনেক পুরনো। আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক টাঙ্গাইলের শামসুল হককে পাগল বানানো হয়েছিল। এরপর আওয়ামী লীগের কত নেতাকেই অসুস্থ বানিয়ে পদ থেকে সরিয়ে দেয়া হয়েছে। বর্তমান প্রধান বিচারপতিকেও তারা আওয়ামী স্টাইলে অসুস্থ বানিয়ে এখন বিদেশে পাঠানোর ষড়যন্ত্র করছে।

রিজভী আহমেদ বলেন, গত পরশু তিনি (এস কে সিনহা) যখন মন্দিরে গেছেন তখন তার সঙ্গে যাদের দেখা হয়েছিল তারা পরিষ্কার করে বলেছেন প্রধান বিচারপতিকে দেখে অসুস্থ মনে হয়নি।

তিনি বলেন, গত দু’দিন সরকারের মন্ত্রী ও উপদেষ্টারা দেখা করে তার ওপর প্রচণ্ড চাপ প্রয়োগ করছেন। অথচ সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি বারবার প্রধান বিচারপতির সঙ্গে দেখা করার চেষ্টা করলেও পুলিশি বাধায় দেখা করতে পারেনি।

ভারতের সঙ্গে ঋণ চুক্তির বিষয়ে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব বলেন, নানা শর্তের বেড়াজালে ভারতের সঙ্গে তৃতীয় ঋণের ৪৫০ কোটি ডলারের (৩৬ হাজার কোটি টাকা) চৃক্তি করেছে সরকার। ভারত থেকে লাইন অব ক্রেডিটের (এলওসি) আওতায় নেয়া আগের দুটি ঋণের (তিনশ’ কোটি ডলার) সার্বিক কার্যক্রম সঠিকভাবে বিশ্লেষণ করে থাকলে পুনরায় একই ধরনের ঋণ নেয়ার প্রয়োজন ছিল না।