ব্রেকিং নিউজ

দুপুর ২:২১ ঢাকা, বুধবার  ২৬শে সেপ্টেম্বর ২০১৮ ইং

ঋণসহায়তার ৪৩৫ কোটি টাকা কেটে দিয়েছে বিশ্বব্যাংক

ঢাকার পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন প্রকল্পের ঋণসহায়তার পরিমাণ কমিয়ে দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। মাস্টারপ্ল্যান তৈরিতে চার বছর সময়ক্ষেপণ ও স্যুয়ারেজ নির্মাণে আরো তিন থেকে চার বছর লাগবে বিধায় বিশ্বব্যাংক প্রকল্পের ঋণসহায়তা থেকে ৪৩৫ কোটি পাঁচ লাখ টাকা কেটে দিয়েছে। ফলে বাধ্য হয়ে সরকারকে প্রকল্পব্যয় ৫১৫ কোটি ৯৫ টাকা কমাতে হয়েছে বলে পরিকল্পনা কমিশন সূত্র জানিয়েছে।

স্থানীয় সরকার বিভাগ সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ঢাকা শহরের ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যা ও আয়তন বৃদ্ধির সাথে সাথে পানি সরবরাহ এবং পয়ঃনিষ্কাশনের চাহিদা বৃদ্ধি পাচ্ছে। নগরীর মাত্র ৩৮ শতাংশ মানুষ বর্তমানে ড্রেনেজ সুবিধায় রয়েছেন। শহরের অনেক এলাকায় মানুষ বিশেষ করে নিম্ন আয়ের লোকজন এখনো পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন সুবিধা পাচ্ছেন না। এ সুবিধা দেয়ার জন্য বিশ্বব্যাংকের ১৪ কোটি ৯০ লাখ ডলার বা এক হাজার ৪৩ কোটি পাঁচ লাখ টাকা ঋণসহায়তা নিয়ে এক হাজার ১৬০ কোটি ৭০ লাখ টাকা ব্যয়ে ঢাকা পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন প্রকল্প হাতে নেয় সরকার। বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নেই ২০০৫ থেকে ২০০৮ সাল নাগাদ এ প্রকল্পের জন্য সমীক্ষা চালানো হয়। ২০০৮ সালের ২৩ অক্টোবর জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির সভায় (একনেক) প্রকল্পটি অনুমোদন দেয়া হয়। ২০০৮ সালের ১৭ ডিসেম্বর ঋণচুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। প্রকল্প ব্যয়ের মাত্র ১১৭ কোটি ১২ লাখ টাকা দেবে সরকার। বাকিটা বিশ্বব্যাংকের ঋণসহায়তা হিসেবে পাওয়ার কথা ছিল।
বিশ্বব্যাংকের পরামর্শ অনুযায়ী কোয়ালিটি অ্যান্ড কস্ট বেইজড সিলেকশন পদ্ধতিতে পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নিয়োগ করার কথা। সে অনুযায়ী স্যুয়ারেজ কম্পোনেন্টের আওতায় মাস্টারপ্ল্যানে পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নিয়োগে প্রায় সাড়ে পাঁচ বছর সময় লেগে যায়। ফলে মাস্টারপ্ল্যান করতে সময় লাগে ২০১২ সাল পর্যন্ত। যার কারণে অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত স্যুয়ারেজের প্রকল্প সময়মতো হাতে নিতে পারেনি বাস্তবায়নকারী সংস্থা ঢাকা ওয়াসা। প্রকল্পের স্যুয়ারেজ কম্পোনেন্টের ভৌতকাজ শেষ করতে তিন-চার বছর সময় প্রয়োজন হবে। আর তা প্রকল্পে মেয়াদ ২০১৩ সালের জুনে সম্পন্ন করা কোনোভাবেই সম্ভব নয়। ফলে বিশ্বব্যাংক স্যুয়ারেজ কম্পোনেন্টে বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয়। বিশ্বব্যাংকের ১৪ কোটি ৯০ লাখ ডলার ঋণসহায়তার বিপরীতে তারা এখন সাত কোটি ৬০ লাখ ডলার প্রদানের সিদ্ধান্ত নেয়। ফলে সরকারকে বাধ্য হয়ে প্রায় ব্যয় ৫১৫ কোটি টাকা কমিয়ে ৬৪৪ কোটি টাকায় নামিয়ে আনা হয়।
পরিকল্পনা কমিশন জানায়, ড্রেনেজ ব্যবস্থার আওতায় রামপুরা ও কমলাপুরে দু’টি বৃহদাকার স্টর্ম ওয়াটার পাম্পিং স্টেশন নির্মাণ এবং নগরীর নিষ্কাশন খালগুলো পুনর্বাসন ও উন্নয়নের কাজ অন্তর্ভুক্ত ছিল। এখন প্রকল্পের অর্ধেক কাজ বাদ দিয়ে মেয়াদ ২০১৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রকল্পের আওতায় ১৩টি খাল পুনঃখনন করার কথা। আর খালগুলো হলো খিলগাঁও, বাসাবো, শাহাজাদপুর, সুতিভোলা এবং আবদুল্লাহপুর খাল, সেগুনবাগিচা, কল্যাণপুর প্রধান, বাউনিয়া, জিরানী, মহাখালী ও শাহজাহানপুর খাল।