ব্রেকিং নিউজ

বিকাল ৪:৩০ ঢাকা, বুধবার  ১৯শে সেপ্টেম্বর ২০১৮ ইং

উৎসাহ-উদ্দীপনায় উদযাপিত হচ্ছে পবিত্র ঈদুল আজহা

বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনা ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্যদিয়ে আজ সারাদেশে পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপিত হচ্ছে।
বিভিন্ন মসজিদ ও ঈদগাহ ময়দানে আজ সকালে ঈদের নামাজ আদায়ের মাধ্যমে মুসলিম সম্প্রদায়ের দ্বিতীয় বৃহত্তম উৎসব শুরু হয়েছে।

দেশের শান্তি, অগ্রগতি ও সমৃদ্ধি এবং মুসলিম উম্মাহর কল্যাণ কামনা করে ঈদের জামাতে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।
পরে আল্লাহর উদ্দেশ্যে পশু কোরবানি দেয়া হয়।

সকাল ৮টায় প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয় রাজধানীর হাইকোর্ট সংলগ্ন জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে। সকাল ৯টায় কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়া ঈদগাহ মাঠে অনুষ্ঠিত হয় দেশের বৃহত্তম ঈদের জামাত।

রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ রাজধানীর জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে ঈদের নামাজ আদায় করেন। এখানে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সুপ্রিমাকোর্টের বিচারপতিগণ, কূটনীতিকবৃন্দ, উচ্চপদস্থ সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তাগণ এবং শিক্ষাবিদগণ নামাজে অংশগ্রহণ করেন।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন (ডিএসসিসি) এই জামাতের আয়োজন করে। জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে মহিলাদের নামাজ আদায়ের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।

বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে ৫টি জামাতের আয়োজন করা হয়। প্রথম জামাতটি অনুষ্ঠিত হয় সকাল ৭টায়। এরপর সকাল ৮টা, সকাল ৯টা, সকাল ১০টা ও সর্বশেষ সকাল পৌনে ১১টায় জামাত অনুষ্ঠিত হয়।

প্রচ- বৃষ্টি উপেক্ষা করে বিভিন্ন স্তরের শত শত মানুষ জাতীয় ঈদগাহ ময়দান ও বায়তুল মোকাররমে পবিত্র ঈদুল আজহার নামাজ আদায় করেন। সকাল ৭টার আগে থেকেই রাজধানীতে বৃষ্টি শুরু হয়।

দেশের বৃহত্তম ঈদের জামাত সকাল ৯টায় অনুষ্ঠিত হয় কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দানে। এতে ইমামতি করেন বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ মাওলানা মো. ফরিদ উদ্দিন মাসউদ।

রাজধানীতে জাতীয় ঈদগাহ ময়দান, বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে এবং শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দানসহ দেশের বড় বড় শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানসমূহে ঈদ উপলক্ষে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

হিজরী বর্ষপঞ্জি অনুযায়ী জ্বিলহজ মাসের ১০ তারিখে পবিত্র ঈদুল আজহা অনুষ্ঠিত হয়। প্রায় ৪ হাজার বছর আগে আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্টির জন্য হজরত ইব্রাহীম (আ.) তাঁর প্রিয় সন্তান হজরত ইসমাইলকে (আ.) কোরবানি দিতে প্রস্তুত হয়েছিলেন। হজরত ইসমাইল (আ.) তার পিতার চাওয়াকে স্বেচ্ছায় মেনে নেন। কিন্তু মহান সৃষ্টিকর্তা এতে তাদের প্রতি সন্তুষ্ট হয়ে হজরত ইসমাইল (আ.)-এর পরিবর্তে একটি দুম্বাকে কোরবানির জন্য পাঠান।

এই ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে সারা বিশ্বের মুসলমানগণ প্রতিবছর পশু কোরবানি দিয়ে থাকেন এবং হজরত ইব্রাহীম (আ.) ও হজরত ইসমাইল (আ.), এই মহান দুই নবীর ত্যাগ স্বীকারের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত অনুসরণে প্রেরণা লাভ করেন।

পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা বেগম রওশন এরশাদ পৃথক বাণীতে বাংলাদেশ ও বিশ্ববাসীর প্রতি শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।

এ উপলক্ষে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বাংলাদেশ বেতার এবং অন্যান্য টিভি চ্যানেল ও রেডিও বিশেষ কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। সংবাদপত্রসমূহ ইতোমধ্যে বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ করেছে।

পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে সরকারি ও বেসরকারি সংস্থার কার্যালয় এবং বিদেশে বাংলাদেশ মিশনসমূহে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেছে। নগরীর সড়কসমূহে জাতীয় পতাকা ও ঈদুল আজহার বিভিন্ন দিক উদ্ধৃত করে ফেস্টুন দিয়ে সাজানো হয়েছে।

রাজধানী ও বিভিন্ন নগরীতে গুরুত্বপূর্ণ পাবলিক ও প্রাইভেট ভবনসমূহে সাজসজ্জা করা হয়েছে। এ উপলক্ষে হাসপাতাল, কারাগার, এতিমখানা, সেফহোমস ও আশ্রয় কেন্দ্রসমূহে উন্নত খাবার পরিবেশন করা হয়েছে।

এ উপলক্ষে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন (ডিএসসিসি) ও ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি) রাজধানীতে চার শ’য়েরও বেশি ঈদের জামাতের আয়োজন করেছে। এর মধ্যে ডিএসসিসিতে রয়েছে ২২৮টি ও ডিএনসিসিতে ১৮০টি। তবে তুমুল বর্ষণের জন্য কিছু জায়গায় আয়োজন ব্যর্থ হয়। বিকল্প হিসেবে মসজিদগুলোতে একাধিক জামাত আয়োজন করা হয়।

উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপন উপলক্ষে সারাদেশে জেলা ও উপজেলা প্রশাসন এবং সিটি কর্পোরেশন ও পৌরসভাসমূহও বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।