ব্রেকিং নিউজ

রাত ১১:৫২ ঢাকা, শুক্রবার  ২১শে সেপ্টেম্বর ২০১৮ ইং

অর্থমন্ত্রী মুহিত
অর্থমন্ত্রী এএমএ মুহিত, ফাইল ফটো

উপজেলায় হবে আয়কর অফিস, ভ্যাট আদায়ে বাধ্যতামূলক হচ্ছে ইসিআর মেশিন : অর্থমন্ত্রী

আগামী ২০১৬-১৭ অর্থবছরের বাজেটে রাজস্ব আয় বাড়াতে প্রতি উপজেলায় কর অফিস স্থাপনের ওপর গুরুত্বারোপ করে ‘৪৯৫টি উপজেলায় কর অফিস স্থাপনে সময়সীমা বেঁধে দিয়ে একটা কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত। তিনি বলেন, ‘বিক্রয়মূল্যে ভ্যাট অন্তর্ভুক্ত করা হবে না। কারণ এতে ভোক্তা পর্যায়ের দায়বদ্ধতা কমে যায়। তবে যেকোনো ব্যবসা প্রতিষ্ঠান কোনো পণ্য বা সেবা বিক্রি করলে তার বিপরীতে ভ্যাট আদায় নিশ্চিত করার মাধ্যমে রাজস্ব আদায় বাড়ানো হবে। এর জন্য ইসিআর মেশিন বসানো বাধ্যতামূলক করা হবে।’

রোববার সচিবালয়ে অর্থনৈতিক সংবাদদাতাদের সংগঠন ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরামের (ইআরএফ) সাথে এক প্রাক বাজেট আলোচনায় তিনি এ কথা বলেন।

এ সময় অর্থমন্ত্রীকে পুঁজিবাজারে ব্যাংকের বিনিয়োগের ক্ষেত্রে এক্সপোজারের সংজ্ঞা পরিবর্তনের প্রস্তাব দিয়েছেন, অর্থনৈতিক সংবাদদাতাদের সংগঠন ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম(ইআরএফ)।

সভায় অন্যাণ্যের মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. নজিবুর রহমান ও অর্থসচিব মাহবুব আহমেদ বক্তব্য রাখেন।

ব্যাংকিং কমিশন গঠনের বিষয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন,আপাতত ব্যাংকিং কমিশন গঠনের ইচ্ছা তার নেই। তিনি বলেন, ‘ব্যাংকিং খাতে অনেকগুলো ঘটনা ঘটে গেছে, সেখানে যেসব ইনকোয়ারি হচ্ছে, সেগুলো লিমিটেড ইনকোয়ারি। এটার ফল-টল দেখা দরকার। তারপর ঠিক করা যাবে-ব্যাংকিং কমিশন করার প্রয়োজন আছে কি-না বা থাকলে কিভাবে সেটাকে কাস্ট করা যায়।’

উল্লেখ্য, ব্যাংকিং খাতের সংস্কার ও উন্নয়নে চলতি ২০১৫-১৬ অর্থবছরের বাজেট বক্তৃতায় একটি ব্যাংকিং কমিশন গঠনের কথা বলা হয়েছিলো।
দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আয়-বৈষম্যও বাড়ছে বলে উল্লেখ করেন মুহিত। তবে তা বিদ্রোহের পর্যায়ে যাচ্ছে না। দেশ যাতে করে এ পরিস্থিতির মুখে না পড়ে তার জন্য কাজ করে যাচ্ছে সরকার। আগামী ২০১৬-১৭ অর্থবছরের বাজেটে এ বিষয়টিকে গুরুত্ব দেয়া হবে।

অর্থমন্ত্রী রাজস্ব আয় বাড়াতে আগামী বাজেটে প্রতি উপজেলায় কর অফিস স্থাপনের ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, ‘৪৯৫টি উপজেলায় কর অফিস স্থাপনে সময়সীমা বেঁধে দিয়ে একটা কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে।’

ফাইনান্সিয়াল রির্পোটিং এ্যাক্ট কাউন্সিল গঠন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘অনেক হৈ চৈ করে ‘ফাইনান্সিয়াল রিপোর্টিং এ্যাক্ট (এফআরএ)-টা পাস করলাম। কিন্তু এখন পর্যন্ত ‘এফআরএ কাউন্সিল’ গঠন করা সম্ভব হয়নি। আশা করছি, আগামী বছর এটা বাস্তবায়ন হবে।’

সভায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক কামরুল ইসলাম চৌধুরী, ইআরএফ সভাপতি সাইফ ইসলাম দিলাল, সাধারণ সম্পাদক জিয়াউর রহমান, অর্থ সম্পাদক এস এম রাশিদুল ইসলামসহ ইআরএফ প্রতিনিধিরা আগামী ২০১৬-১৭ অর্থবছরের বাজেটে দেশের অর্থনীতি, পুঁজিবাজারে ব্যাংকের বিনিয়োগের ক্ষেত্রে এক্সপোজারের সংজ্ঞা পরিবর্তন, বাংলাদেশে কর্মরত বিদেশি নাগরিকদের ওপর আরোপিত কর বাড়ানো, ব্যাংকিং খাতের শৃঙ্খলা ফেরানো, মানবসম্পদ উন্নয়ন, কর্মমুখী শিক্ষার জন্য বরাদ্দ বাড়ানোসহ বিভিন্ন বিষয়ে প্রস্তাবনা তুলে ধরেন।