ব্রেকিং নিউজ

রাত ১:৪২ ঢাকা, বুধবার  ১৯শে সেপ্টেম্বর ২০১৮ ইং

‘উন্নয়নের নামে টাকা বাইরে চলে যাচ্ছে’- খালেদা

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বলেছেন, এই সরকার দেশের স্বার্থবিরোধী, জনগণ বিরোধী। তারা উন্নয়নের কথা বলে, কিন্তু উন্নয়ন করেনি।আর উন্নয়নের নামে দেশের টাকা বাইরে চলে যাচ্ছে।

বৃহস্পতিবার বিকালে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউশন, বাংলাদেশ (আইইবি) মিলনায়তনে দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, সরকার একেকটা উন্নয়ন প্রকল্প নেয়, দুই মাস পরই তার কস্ট (খরচ) দ্বিগুণ থেকে তিনগুণ হয়ে যাচ্ছে। এই বাড়ার কারণটা কী? এটা কিন্তু উন্নয়নের জন্য নয়, এখানে কমিশনের ব্যাপার আছে, এটাতে তাদের পকেট ভারি হচ্ছে। আর এই টাকা দেশে যে থাকে তা নয়;দেশের বাইরে চলে ‍যাচ্ছে।

রামপাল বিদ্যুৎ প্রকল্প নিয়ে খালেদা জিয়া বলেন, রামপাল কয়লা বিদ্যুত প্রজেক্ট এখানে হওয়া উচিত নয়।এতে সুন্দরবন অঞ্চলের ব্যাপক ক্ষতি হবে।এমনিতেই ওই অঞ্চলে আইলা, সিডরে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। তাই এটা হলে সুন্দরবন শেষ হয়ে যাবে।

খালেদা জিয়া বলেন, আমরা কখনও বলিনি বিদ্যুৎ নির্মাণ কেন্দ্র বন্ধ করতে হবে। কারণ, বিদ্যুৎ আমাদের প্রয়োজন আছে। কিন্তু সেটা এমন জায়গায় হতে পারে যেখানে পরিবেশ বা মানুষের ক্ষতি করবে না।

গায়ের জোরে এ প্রকল্প বাস্তবায়ন না করার হুঁশিয়ারি দিয়ে খালেদা জিয়া বলেন, এ (রামপাল)প্রকল্পে লাভ হলে ভারতের আর লোকসান হলে আমাদের ঘাড়ে আসবে। লোকসান হলে বোঝা আসবে জনগণের ঘাড়ে।১৫ বছর পর এটার জন্য বোঝা বহন করতে হবে ইয়াং জেনারেশনকে।তখন ওই নেতারা কোথায় থাকবেন জানি না, আমরা কে কোথায় থাকব জানি না। কিন্তু পরবর্তী প্রজন্মকে এর মূল্য দিতে হবে।তারা এর (বোঝা) থেকে মুক্ত হতে পারবে না।

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে দলের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানকে স্মরণ করে খালেদা জিয়া বলেন, এই অঞ্চলের সবার সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে তোলার জন্য  জিয়াউর রহমান সার্ক গড়ে তুললেন।তিনি (জিয়াউর রহমান) বললেন, আমরা আমাদের সমস্যা সার্কের মাধ্যমে সমাধান করতে পারব। তিনি সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব চেয়েছেন। তবে তিনি বলেছেন, সদ্য স্বাধীন দেশ, কিন্তু সবার সামনে মাথা উঁচু করে থাকবে। আমরা কারো কাছে মাথা নিচু করব না। আমরা এগিয়ে যাব। সেভাবেই তিনি তার কাজগুলো করেছিলেন। আমরাও তার (জিয়াউর রহমানের) ধারাবাহিকতায় এগিয়ে যাচ্ছি।

বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, আমরা সবার সঙ্গে সুসম্পর্ক, বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রাখতে চাই। তবে কারো কাছে মাথা নত করে, চুপিসারে কাউকে কিছু দিয়ে, ক্ষমতায় থাকার জন্য আমরা কিছু করিনি, করবও না। আর কেউ করলেও আমরা সমর্থন করতে পারি না।

খালেদা জিয়া বলেন, আজ দেশে বহুবিধ  সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে। কিন্তু নদীতে পানি বণ্টন চুক্তি একমাত্র জিয়াউর রহমানের আমলেই (পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে) পানির হিস্যা যতটুকু আমাদের পাওয়ার কথা ঠিক ততটুকুই নিয়েছিলেন। এই সম্পর্কটা জিয়াউর রহমান করতে পেরেছিলেন, যা অন্য কেউ পারেনি।

আওয়ামী লীগকে ইঙ্গিত করে বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, তারা অনেক কিছুই বিসর্জন দিয়েছে।অথচ পানি এখন আমরা (প্রয়োজনের সময়) পাইনি। বর্ষাকালে সবগুলো গেইট খুলে দেয়া হয়। এতে বাংলাদেশ প্লাবিত হয়। আর শুকনো মওসুমে যতটুকু পানি পাওয়ার কথা তা-ও পাইনি।তখন পানির অভাবে খরা হয়।এজন্য বন্ধু বলে যে অন্যায়ের প্রতিবাদ করবো না-সেটাতো সত্যিকারের বন্ধুত্ব নয়। এজন্য আলোচনা করে নিজেদের প্রাপ্যটা আদায় করা উচিত। সেটা আমরা অন্য কোন দলের মধ্যে দেখিনি।শুধু বিএনপি এটা করেছে। বিএনপি এটা চায়।

খালেদা জিয়া বলেন, আমরা মারামারি ঝগড়াঝাটি নয়, আমরা আলাপ আলোচনার মধ্য দিয়ে এটার সমাধান করতে চাই।

তিনি বলেন, বন্ধুত্ব হবে সমমর্যাদার ভিত্তিতে। যদি তারা (ভারত) মনে করে তাদের মাথা উঁচু থাকবে, আরেকজনের মাথা নিচু থাকবে- সেটা কিন্তু বন্ধুত্ব হলো না।

ফারাক্কার বিষয়ে খালেদা জিয়া বলেন, ফারাক্কা ব্যারাজ ট্রায়াল হিসেবে (বাংলাদেশের)অনুমতি নিয়ে চালু হয়েছিল সাত দিন না দশ দিনের কথা বলে।অথচ তারা এখন পর্যন্ত বন্ধ করে নাই। এটাতো বন্ধুত্বের নিদর্শন হতে পারে না। এভাবে প্রতিটি পদে পদে আমরা বাধাগ্রস্ত হয়েছি।

খালেদা জিয়া বলেন, এখনও আমরা আরও যেসব চুক্তি শুনতে পাই বা দেখতে পাই তার একটাও দেশের পক্ষে বা জনগণের স্বার্থে নয়। সমস্ত কিছু করা হচ্ছে, দেশের বিরুদ্ধে, দেশের স্বার্থবিরোধী। আর কী সেই চুক্তিগুলি, তা সবাই জানে না। আমরাও জানি না কী করা হচ্ছে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মওদুদ আহমদ, জমিরউদ্দিন সরকার, আ স ম হান্নান শাহ, মির্জা আব্বাস, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীসহ প্রমুখ।