ব্রেকিং নিউজ

রাত ১১:২৫ ঢাকা, শুক্রবার  ২১শে সেপ্টেম্বর ২০১৮ ইং

ফাইল ফটো

উনি প্রমাণ করেছেন ‘নিম গাছে আম ধরে না’

উচ্চ আদালতের বিচারপতিদের জন্য আচরণবিধি জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক।

বৃহস্পতিবার ইউরোপীয় পার্লামেন্টের একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে সাংবাদিকদের কাছে তিনি এ মন্তব্য করেন।

অবসরের পর সরকারি সুযোগ-সুবিধা ভোগ করা অবস্থায় গতকাল বুধবার আপিল বিভাগে মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াত নেতা মীর কাসেম আলীর আইনজীবী নিযুক্ত হয়েছেন হাইকোর্টের সাবেক বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরী।

এ প্রেক্ষাপটে আইনমন্ত্রী বলেন, বিচারপতিদের আচরণবিধি খুব জরুরি হয়ে পড়েছে। আচরণবিধি প্রণয়নে প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহার সঙ্গেও তিনি কথা বলবেন বলে জানান।

নজরুল ইসলাম চৌধুরীকে উদ্দেশ্য করে আনিসুল হক বলেন, ‘উনি (বিচারপতি নজরুল ইসলাম) তার কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে প্রমাণ করেছেন ‘নিম গাছে আম ধরে না’। আমি প্রধান বিচারপতিকে অনুরোধ করব বিষয়টি দেখতে।’

তিনি বলেন, ‘আমার বাবা সিরাজুল হকও এক সময় আইনজীবী ছিলেন। তখন তিনি দেখেছেন, বিচারকরা যতদিন এলপিআরে ছিলেন, ততদিন কোর্টে যাননি। কিন্তু এই ভদ্রলোক ১২ তারিখে ছেড়েছেন, ১৩ তারিখেই তিনি কোর্টে এসেছেন।’

সংবিধানের ৯৯ অনুচ্ছেদের ২ এর (১) অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি হাইকোর্ট বিভাগের বিচারক পদ থেকে অবসর নেয়ার পরও আপিল বিভাগে ওকালতি করতে পারেন।

এ বিষয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, বিচারপতিদের অধিকার আছে আপিল বিভাগে প্র্যাকটিস করার। তারা যদি আপিল বিভাগে প্র্যাকটিস করতে আসেন, তাহলে তাদের সরকারি সুবিধা ত্যাগ করে আসা উচিত।

সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের বিচারের দীর্ঘসূত্রিতার বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘এ কথাটা মন্ত্রী নয়, আইনজীবী হিসেবে জিজ্ঞেস করলে ভাল হত। তদন্ত জিনিসটা বড় কঠিন। যখন ক্লুলেস (প্রমাণবিহীন) মার্ডার হয়, তখন তদন্তকারী সংস্থার জন্য এ মামলা সলভ (সমাধান) করা ডিফিকাল্ট (কঠিন) হয়ে যায়।’

তিনি বলেন, ‘আটচল্লিশ মাস চলে গেছে বলে এ হত্যাকাণ্ডের বিচার বা তদন্ত শেষ হয়ে যাবে তা নয়। যতক্ষণ পর্যন্ত আসামিদের না ধরা যাবে ততক্ষণ পর্যন্ত তদন্ত চলবে বলেই আমার বিশ্বাস।’

আনিসুল হক বলেন, ‘কিছু অপরাধ আছে, কিছু হত্যাকাণ্ড আছে যা তাড়াতাড়ি তদন্ত করে বের করা যায়। কিছু আছে দেরি হয়। আপনাদের কাছে আমার এটুকু আহ্বান- আশা ছাড়বেন না।’

উল্লেখ্য, ২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি রাতে পশ্চিম রাজাবাজারের ভাড়া বাসায় দুর্বৃত্তরা মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক সাগর সরোয়ার ও এটিএন বাংলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক মেহেরুন রুনিকে নৃশংসভাবে হত্যা করে।