ব্রেকিং নিউজ

সকাল ৮:৫৯ ঢাকা, রবিবার  ২৩শে সেপ্টেম্বর ২০১৮ ইং

ফাইল ফটো

উচ্চ শিক্ষা কমিশনে রূপান্তরিত হচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন : প্রধানমন্ত্রী

উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়ন এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর কর্মকান্ড মনিটরিং করার জন্য সরকার বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনকে (ইউজিসি) উচ্চশিক্ষা কমিশনে (এইচইসি) রূপান্তরিত করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ সকালে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) উদ্যোগে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃতি শিক্ষার্থীদের মাঝে ’প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদক প্রদান’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এ কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনকে উচ্চশিক্ষা কমিশনে রূপান্তরের খসড়া প্রায় চুড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। উচ্চশিক্ষাকে যুগোপাযোগী এবং আন্তর্জাতিক মানে তুলে আনতে উচ্চশিক্ষা এক্রিডেশন কাউন্সিল গঠনের বিষয়টিও প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
তিনি বলেন, সরকার উচ্চশিক্ষা মানোন্নয়ন প্রকল্পের (এইচইকিউইপি) মাধ্যমে উচ্চশিক্ষাকে যুগোপাযোগী করা এবং বহুমাত্রিক ধারায় বিকিশিত করতে বিভিন্ন কার্যক্রম গ্রহন করেছে।
দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ২০১১-১২ সালে শীর্ষস্থান অর্জনকারী বিভিন্ন অনুষদ ও বিভাগের ১৬৬ জন শিক্ষার্থী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর নিকট থেতে স্বর্ণপদক এবং সার্টিফিকেট গ্রহণ করেন। স্বর্ণপদক বিজয়ীদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য নারী সদস্য থাকায় প্রধানমন্ত্রী সন্তোষ প্রকাশ করেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আব্দুল মান্নানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে মঞ্জুরী কমিশনের সদস্য অধ্যাপক দিল আফরোজা বেগম স্বাগত বক্তৃতা করেন। এছাড়া, স্বর্নপদক বিজয়ী শিক্ষার্থীদের মধ্যে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান অনুষদের ছাত্রী অথৈ নিলিমা এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র মামুন-অর-রশিদ বক্তৃতা করেন।
অনুষ্ঠানে স্বর্ণজয়ী শিক্ষার্থীদের প্রধানমন্ত্রী ’সোনার ছেলে’ আখ্যায়িত করে ভবিষ্যতের কর্মজীবনে দেশের সাধারণ জনগণের কথা বিবেচনা করে সততা, নিষ্ঠা, পেশাদারিত্ব ও আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহবান জানান।
শেখ হাসিনা এ প্রসঙ্গে ১৯৭৫ সালে সোহরাওয়ার্দি উদ্যানে ‘দ্বিতীয় বিপ্লবের’ কর্মসূচি ঘোষণাকালে বঙ্গবন্ধুর প্রদত্ত বক্তৃতার উদ্বৃতি দিয়ে বলেন, বঙ্গবন্ধু সেদিন বলেছিলেন, ’তোমাদের মনে রাখতে হবে-পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে নামমাত্র বেতনে পড়াশুনা করা যায়। আর তা সম্ভব হচ্ছে এদেশের গরিব মানুষের ট্যাক্সের পয়সায়। সেজন্য দেশের গরিব-দুঃখী মানুষের কল্যাণ চিন্তা তোমাদের নৈতিক দায়িত্ব।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, গরিব জনগণের ট্যাক্সের টাকায় তোমরা যে লেখাপড়া করছো, তার বিনিময়ে কি দিচ্ছো তোমাদের সর্বদা তা মনে রাখতে হবে।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতার পরপরই নারী শিক্ষার প্রতি গুরুত্ব দিয়েছিলেন জাতির পিতা। প্রাথমিক শিক্ষা বাধ্যতামূলক করেছিলেন তিনি। এর ধারাবাহিকতায় শিক্ষার উন্নয়নে বর্তমান সরকার কাজ করে যাচ্ছে।
শিক্ষায় তাঁর সরকারের লক্ষ্য বহুমুখী উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই লক্ষ্য নিয়েই তার সরকার কাজ এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। শিক্ষাকে গুরুত্ব দিয়েই ২০১০ সালে নতুন শিক্ষানীতি প্রণয়ন করা হয়েছে।
১৯৯৬ সালে সরকারে এসে প্রথম ১২টি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তোলার সিদ্ধান্তের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তখন সরকারে থেকে ৬টি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করতে পেরেছিলাম। এরপর যারা সরকারে আসে তারা এই প্রক্রিয়া বন্ধ রাখে। পরে ২০০৯ সালে ক্ষমতায় এসে আবারও প্রক্রিয়া শুরু হয়। একে একে দেশে গড়ে উঠছে বিশেষায়িত বিশ্ববিদ্যালয়।
প্রধানমন্ত্রী দেশে প্রথম মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, একাধিক কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয় করার উদ্যোগ ও বাস্তবায়নের কথা উল্লেখ করেন।
বিজ্ঞানের প্রতি শিক্ষার্থীদের অনীহার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আগের তুলনায় বিজ্ঞান শিক্ষার প্রতি শিক্ষার্থীদের অনীহা রয়েছে। সাহিত্য ও বিজ্ঞানের প্রতি আগ্রহ তৈরি করতে হবে। এ ক্ষেত্রে সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়েছে।
তিনি বলেন, এই সরকারের দুই মেয়াদে গত ৭ বছরে দেশে ১১টি নতুন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় এবং ৩৩টি প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে এবং বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নামে একটিসহ আরো ৪টি নতুন বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের পরিকল্পনা চূড়ান্ত হয়েছে।
গ্রাম ও রাজধানীর অর্থনৈতিক বৈষম্য কমিয়ে আনার জন্য সরকার সকল জেলা পর্যায়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য কেবল রাজধানী নয়, সারাদেশ। এখানে লক্ষ্য রাখতে হবে দেশের সর্বত্র শিক্ষার সুযোগ তৈরি করা। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রস্তাব যারা নিয়ে আসছে তাদের বিশেষায়িত বিশ্ববিদ্যালয় করার এবং ঢাকার বাইরে বিশ্ববিদ্যালয় করার নির্দেশনা সরকার দিচ্ছে। জেলায় জেলায় বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তোলা সরকারের লক্ষ্য।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, মা-বাবার চোখের সামনে থেকে ছেলে মেয়েরা লেখা পড়ার সুযোগ পেলে তাদের মেধা বিকাশের সুযোগ বাড়বে।
প্রধানমন্ত্রী শিক্ষক সমাজকে জ্ঞান বিতরণে আরো আন্তরিক হবার আহবান জানিয়ে বলেন, সম্মানিত শিক্ষকরা সমাজের বিবেক। তাই শিক্ষকদের সকল প্রকার প্রভাব ও সংকীর্ণতার উর্ধ্বে উঠে, দেশের প্রতি দায়িত্ববোধ থেকে জ্ঞানের নতুন-নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবেন-সেটাই আমাদের প্রত্যাশা।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, এখন প্রতিযোগিতার যুগ। তাই, ছাত্র-ছাত্রীদের শিক্ষা, বিজ্ঞান-প্রযুক্তি, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক, মানবীয় যোগাযোগ, শিল্প ও বাণিজ্যসহ সব ক্ষেত্রে মান সম্পন্ন করে গড়ে তুলতে হবে।