ব্রেকিং নিউজ

রাত ১২:৩১ ঢাকা, বুধবার  ২৬শে সেপ্টেম্বর ২০১৮ ইং

ফাইল ফটো

‘ঈদ উপলক্ষে ট্রেনের অগ্রিম টিকেট বিক্রি শুরু ২২ জুন’

পবিত্র ইদুল ফিতর উপলক্ষে ঘরমুখো যাত্রীদের জন্য আগামী ২২ জুন থেকে ট্রেনের অগ্রিম টিকেট বিক্রি শুরু হবে।

এছাড়া, ঈদের আগে ঢাকা-চট্টগ্রাম-ঢাকা রেলপথে একজোড়া নতুন বিরতিহীন আন্তঃনগর ট্রেন চালু করা হবে।

অপরদিকে, যাত্রীদের যাতায়াতের সুবিধার্থে ঈদ উপলক্ষে ৭ জোড়া বিশেষ ট্রেন পরিচালনা করা হবে।

রেলপথ মন্ত্রী মো. মুজিবুল হক আজ রাজধানীর রেলভবনে এক জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান।

রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. ফিরোজ সালাহ উদ্দিন, বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক মো. আমজাদ হোসেন, অতিরিক্ত মহাপরিচালক মো. হাবিবুর রহমান, অতিরিক্ত মহাপরিচালক (আরএস) শামসুজ্জামানসহ রেলপথ মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে, রেলভবনে সম্মেলন কক্ষে ঈদে ট্রেন পরিচালনার ব্যাপারে উচ্চ পর্যায়ের এক সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় ট্রেন পরিচালনা, টিকেট বিক্রি এবং যাত্রীদের নিরাপদে যাতায়াতের বিষয়ে বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। রেলপথ মন্ত্রী, রেলওয়ে সচিব, রেলওয়ে মহাপরিচালক এবং রেলপথ মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণাল, বাংলাদেশ রেলওয়ে, পুলিশ, র‌্যাব ও বিজিবি’র ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।

রেলপথ মন্ত্রী জানান, ১ জুলাইয়ের যাত্রার টিকেট ২২ জুন, ২ জুলাইয়ের যাত্রার টিকেট ২৩ জুন, ৩ জুলাইয়ের যাত্রার টিকেট ২৪ জুন, ৪ জুলাইয়ের যাত্রার টিকেট ২৫ জুন এবং ৫ জুলাইয়ের যাত্রার টিকেট ২৬ জুন বিক্রি করা হবে।

তিনি জানান, ঢাকা-চট্টগ্রাম স্টেশন থেকে ঈদপূর্ব অগ্রিম টিকেট বিশেষ ব্যবস্থাপনায় সকাল ৮টা থেকে বিক্রি শুরু হবে। বাংলাদেশ রেলওয়ে কর্মকর্তাগণ টিকেট বিক্রির কার্যক্রম তদারক করবেন।

ঈদ ফেরত যাত্রীদের ভ্রমণের জন্য অগ্রিম টিকেট রাজশাহী, খুলনা, রংপুর, দিনাজপুর ও লালমনিরহাট স্টেশন থেকে বিশেষ ব্যবস্থাপনায় সকাল ৮টা থেকে বিক্রি শুরু হবে।

এসব স্টেশন থেকে ৮ জুলাইয়ের ফিরতি যাত্রার টিকেট ৪ জুলাই, ৯ জুলাইয়ের ফিরতি যাত্রার টিকেট ৫ জুলাই, ১০ ও ১১ জুলাইয়ের ফিরতি টিকেট ৭ জুলাই এবং ১২ জুলাইয়ের ফিরতি যাত্রার টিকেট ৮ জুলাই বিক্রি হবে।

এক জন যাত্রীকে সর্বোচ্চ ৪টি টিকেট দেয়া হবে এবং বিক্রিত টিকেট ফেরত নেয়া হবে না।

রেলপথ মন্ত্রী জানান, ঢাকা-দেওয়ানগঞ্জ-ঢাকার মধ্যে ঈদের আগে ৩ থেকে ৫ জুলাই এবং ঈদের পরে ৮ থেকে ১৪ জুলাই পর্যন্ত একজোড়া বিশেষ ট্রেন চলাচল করবে। এছাড়া, চট্টগ্রাম-চাঁন্দপুর-চট্টগ্রাম রুটে ২ জোড়া বিশেষ ট্রেন চলাচল করবে। ঈদের আগে ৩ থেকে ৫ জুলাই এবং ঈদের পরে ৮ থেকে ১৪ জুলাই পর্যন্ত এ ২ জোড়া ট্রেন চলাচল করবে।

তিনি জানান, পার্বতীপুর-ঢাকা-পার্বতীপুরের মধ্যে একজোড়া বিশেষ ট্রেন ঈদের আগে ৩ থেকে ৫ জুলাই এবং ঈদের পরে ৮ থেকে ১৪ জুলাই চলাচল করবে। এছাড়া, খুলনা-ঢাকা-খুলনার মধ্যে একজোড়া বিশেষ ট্রেন ঈদের আগে ৩ থেকে ৫ জুলাই এবং ঈদের পরে ৮ থেকে ১৪ জুলাই চলাচল করবে।
মন্ত্রী জানান, পবিত্র ঈদুল ফিতরের দিনে ভৈরববাজার-কিশোরগঞ্জ-ভৈরববাজার এবং ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ-ময়মনসিংহ রুটে দু’জোড়া সোলাকিয়া বিশেষ ট্রেন চলাচল করবে।

তিনি জানান, ১ জুলাই থেকে ঈদের পূর্বদিন পর্যন্ত সকল আন্তঃনগর ট্রেনের সাপ্তাহিক বন্ধের দিনেও ট্রেন চলাচল করবে।

রেলপথ মন্ত্রী মুজিবুল হক সংবাদ সম্মেলনে জানান, পাহাড়তলী ও সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানা থেকে ১৭০টি কোচ মেরামত ও সংস্কার করে বিভিন্ন ট্রেনে সংযোজন করা হবে। তিনি জানান, বর্তমানে ৬৯২টি কোচ বিভিন্ন ট্রেনে চলাচল করছে এবং ১৭০টি কোচ এসব ট্রেনের সঙ্গে সংযোজন করা হবে। তিনি জানান, মোট ২২৬টি লোকোমোটিভ (রেল ইঞ্জিন) এসময় বিভিন্ন ট্রেনে ব্যবহার করা হবে।

টিকেট কালোবাজারী প্রতিরোধ প্রসঙ্গে মন্ত্রী জানান, ঢাকা, ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট, বিমান বন্দর, জয়দেবপুর, চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ, সিলেট, রাজশাহী ও খুলনাসহ সকল বড় বড় স্টেশন জিআরপি, আরএনবি, বিজিবি ও স্থানীয় পুলিশ এবং র‌্যাবের সহযোগিতায় টিকেট কালোবাজারী প্রতিরোধে সার্বক্ষণিক প্রহরার ব্যবস্থা করা হবে। এছাড়া, জেলা প্রশাসকদের সহায়তায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে।

নাশকতা প্রতিরোধ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, চলন্ত ট্রেনে, স্টেশনে বা রেল লাইনে নাশকতামূলক কর্মকা- প্রতিরোধ করতে আরএনবি, জিআরপি ও রেলওয়ে কর্মচারীদের কার্যক্রম আরো জোরদার করা হবে। এছাড়া, র‌্যাব, বিজিবি, স্থানীয় পুলিশ ও অন্যান্য আইন-শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহযোগিতায় নাশকতাকারীদের কঠোরভাবে দমন করা হবে।