ব্রেকিং নিউজ

দুপুর ১২:৩১ ঢাকা, সোমবার  ২৪শে সেপ্টেম্বর ২০১৮ ইং

ইসলামী ব্যাংকগুলো থেকে ঋণ নেবে সরকার

ইসলামী ব্যাংকগুলো থেকে আগামী জানুয়ারি থেকেই ঋণ নেয়া শুরু করবে সরকার। এ জন্য আগামী ১ জানুয়ারি ইসলামী ব্যাংক বন্ডের প্রথম নিলাম হবে। ওই দিন তিন মাস ও ছয় মাস মেয়াদে ইসলামি বন্ড ইস্যু করা হবে। কোন প্রক্রিয়ায় ইসলামি বন্ড ইস্যু করা হবে তার একটি গাইড লাইন দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ বিষয়ে গতকাল বাংলাদেশ ব্যাংকের ঋণ ব্যবস্থাপনা বিভাগ (ডিএমডি) থেকে এক সার্কুলার লেটার জারি করা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের একটি সূত্র জানিয়েছে, গত ১৮ আগস্ট ইসলামী ব্যাংকগুলো থেকে ঋণ নেয়ার জন্য ইসলামি বন্ড নীতিমালা সংশোধন করা হয়। এ সংশোধিত নীতিমালার আওতায় সরকার তার ঘাটতি ব্যয় মেটাতে প্রচলিত ব্যাংকের মতো ইসলামী ব্যাংকিং থেকে ঋণ নিতে পারবে। একই সাথে কোনো ব্যাংকের নগদ টাকার সমস্যা হলে সঙ্কট মেটাতে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক বন্ড বন্ধক রেখে বাংলাদেশ ব্যাংক পরিচালিত ইসলামি তহবিল থেকে ধার নিতে (রেপো) পারবে। কিন্তু কোন প্রক্রিয়ায় অপারেটর হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংক ঋণ তুলবে সে বিষয়ে কোনো দিকনির্দেশনা ছিল না। গতকাল বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে এ বিষয়ে একটি গাইড লাইন দেয়া হয়েছে। নিলামে অংশগ্রহণের যোগ্যতা : ইসলামি বন্ডের নিলামে শুধু ইসলামি শরিয়াহভিত্তিক পরিচালিত ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং ইসলামী ব্যাংকিং শাখা আছে এমন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান অংশগ্রহণ করতে পারবে। তবে, ইসলামি বন্ড কেনায় ইচ্ছুক অন্যান্য প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তি বর্ণিত ইসলামী ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে নিলামে অংশগ্রহণ করতে পারবে। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তির বন্ড হিসাব সমন্বয়সংক্রান্ত যাবতীয় দায়-দায়িত্ব নিলামে অংশগ্রহণকারী ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে বহন করতে হবে। নিলামের নোটিশ : নিলাম অনুষ্ঠানের আগে নিলামের তারিখ, বন্ডের মেয়াদ, অংশগ্রহণের যোগ্যতা, বিড ফলম, বিড দাখিল ও ফলাফল ঘোষণার সময়সীমা ইত্যাদি তথ্য সংবলিত নিলাম নোটিশ বাংলাদেশ ব্যাংক জারি করবে। তবে ইসলামি বন্ডের নিলামের কোনো পূর্ব ঘোষিত পরিমাণ থাকবে না। বিড দাখিলকারী তার চাহিদা অনুসারে বিড দাখিল করতে পারবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সার্কুলারে বলা হয়েছে, আগামী ১ জানুয়ারি থেকেই তিন মাস ও ছয় মাস মেয়াদি ইসলামি বন্ড ইস্যু করা হবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ইসলামি বিনিয়োগ বন্ড নীতিমালার ৪(ক) ধারায় তিনটি উপধারা সংযোজিত করা হয়েছে। এর প্রথম উপধারায় বলা হয়েছে, ইসলামি বন্ড এক লাখ টাকা বা এর গুণিতক মূল্যমানের অভিহিত মূল্যে তিন মাস ও ছয় মাস মেয়াদে বিক্রি করা যাবে। দ্বিতীয় উপধারায় বলা হয়েছে, ইসলামি বন্ড উন্মুক্ত নিলামের মাধ্যমে প্রফিট শেয়ারিং রেশিও (পিএসআর) ভিত্তিতে ইস্যু করা হবে এবং নিলামের নিয়মাবলি বাংলাদেশ ব্যাংক সময়ে সময়ে নির্ধারণ করবে। তৃতীয় উপধারায় সরকার শরিয়াহ অনুমোদিত বিশেষ উদ্দেশ্যে সুনির্দিষ্ট খাত বা সম্পদভিত্তিক বিভিন্ন মেয়াদি ইসলামী বন্ড উন্মুক্ত নিলামের মাধ্যমে পিএসআর-এর মাধ্যমে ইস্যু করবে, যা পরিচালিত হবে বাংলাদেশ ব্যাংকের মাধ্যমে।