ব্রেকিং নিউজ

রাত ১২:১৮ ঢাকা, সোমবার  ১৬ই জুলাই ২০১৮ ইং

ইসলামিক স্টেট : হুমকীতে বাংলাদেশ

শীর্ষ মিডিয়া ৮ অক্টোবর ঃ    বাংলাদেশ, তথা পুরো দক্ষিন এশিয়ার সামাজিক রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। সম্প্রতি বাংলাদেশে ইসলামিক স্টেট ও বিভিন্ন জঙ্গী সংগঠনের হুমকীর কারণে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা নিয়ে শংকা রয়েছে নানা মহলের। এই অবস্থায় করণীয় কি সে বিষয়ক এক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয় ওয়াশিংটনে।

আমেরিকান সিকিউরিটি প্রোজেক্ট ও বাংলাদেশ ইনষ্টিটিউট অব পিস এ্যান্ড সিকিউরিটি ষ্টাডিজের যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত সেমিনারে বাংলাদেশে ইসলামিক স্টেট ও আল কায়েদাসহ নানা জঙ্গী সংগঠনের ঘাঁটি প্রতিষ্ঠার হুমকী রয়েছে। তা স্বত্বেও বাংলাদেশের সামনে রয়েছে অপার সম্ভাবনা। আর তা ঠিকভাবে কাজে লাগিয়ে দেশকে উন্নতির শিখরে এগিয়ে নিয়ে বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার সম্পর্ক আরো বাড়ানোর চেষ্টা চলছে বলে মন্তব্য করলেন যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিন ও মধ্য এশিয়া সম্পর্কিত ভারপ্রাপ্ত সহবকারী পররাষ্ট্র মন্ত্রী ক্লিনটন ব্রাউন। তিনি বলেন, “বাংলাদেশের সম্ভাবনা অপার কিন্তু সংকটও বাস্তব ভিত্তিক”।

তাই প্রতিবেশী ভারত পাকিস্তানসহ সকলের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক রেখে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উন্নয়ন ও বানিজ্য সম্পর্ক বাড়িয়ে বাংলাদেশ সকল সংকট উত্তোরণ করব বলে তিনি আশা করেন।

ব্রাউন বলেন, “আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের পর বাংলাদেশ হবে যুক্তরাষ্ট্রের ৩য় বৃহত্তম উন্নয়ন অংশীদার। ইউএসএইডের মাধ্যমে বাংলাদেশের উন্নয়ন কর্মকান্ডে অর্থায়ন করবে যুক্তরাষ্ট্র। যে তিনটি খাতকে প্রাধান্য দেয়া হবে তা হচ্ছে জলবায়ু, স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা”।

বাংলাদেশ পিস এন্ড সিকিউরিটি ইনস্টিটিউটের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল মুনীরুজ্জামান বলেন দেশে ভয়াবহ নিরাপত্তার অভাব রয়েছে এখন। আইএস সহ নানা সংগঠনের জঙ্গী তৎপরতা বাড়ছে। এ অবস্থায় অবিলম্বে ধে ব্যাবস্থা নেয়া দরকার।

তিনি বলেন, “আমাদের রয়েছে ভয়াবহ নিরাপত্তা বাঁধা। আইএস একিউএস এর হুমকী রয়েছে বাংলাদেশে। তারপরও রয়েছে অপার অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির সম্ভাবনা”। আর সেই সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে দেশের উন্নতির জন্য যুক্তরাস্ট্রসহ উন্নয়ন সহযোগিদের প্রতি আহবান জানান তিনি।

বাংলাদেশে সাম্প্রতিক সময়ের রাজনৈতিক পরিবর্তন, ইসলামিক ষ্টেটসহ বিভিন্ন জঙ্গী সংগঠনের কর্মকান্ড বৃদ্ধির হুমকীসহ নানা বিষয় তুলে ধরে সেমিনারে বক্তব্যদানকালে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক পিয়াস করীম বলেন আমাদের অনেক ক্ষেত্রে উন্নয়ন হয়েছে এবং হচ্ছেও। কিন্তু দুর্নীতি, সজনপ্রীতি, একদলীয় শাষণসহ নানা কারনে সেই উন্নতি ধরে রাখা সম্ভব হচ্ছে না। তিনি বলেন গনতন্ত্র অনুপস্থিত থাকায় দেশে জঙ্গীবাদের হুমকী আসছে। তিনি বলেন বাংলাদেশের রাজনৈতিক অস্থিরতা ও জঙ্গীবাদের হুমকী যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্যান্য দেশের সম্পর্কেও বিরূপ প্রভাব ফেলবে।

পিয়াস করীম বলেন, “যে কোনো দেশের জাতীয় রাজনীতি বিশ্ব রাজনীতিতে প্রভাব ফেলে। বাংলাদেশে অঅইএস সক্রিয় হলে তা যুক্তরাস্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কের ওপর প্রভাব ফেলবে”।

পিয়াস করীম বর্তমান সরকারের ককর্মকান্ডের নানা সমালোচনা করে দেশে গনতন্ত্র আইনের শাষন ও সুশাসন প্রাতষ্ঠায় বিশ্বাসীর সহয়াতা কামনা করেন।

পিস এন্ড সিকিউরিটি ইনস্টিউটের সিনিয়র ফেলো শাফকাত মুনীর বলেন সব সররকারই সন্ত্রাস দমনে কাজ করেছে বাংলাদেশে। কিন্তু সরকার পরিবর্তনের পর সন্ত্রাস দমন, উন্নয়ন কর্মকান্ডসহ আগের সরকারের কাজের ধারাবাহিতা আর থাকে না। এজন্য প্রয়ো্জন স্থায়ী সমাধান।

শাফকাত মুনীর বলেন, “সম্প্রতি ইসলামিক ষ্টেট তাদের কর্মী নিয়োগ করছে বাংলাদেশকে ব্যাবহার করে। ভারত মিয়ানমার থেকে লোক এসে ভর্তি হচ্ছে এই জঙ্গী সংগঠনে। তাদেরকে এখনই প্রতিরোধ করা প্রয়োজন। অন্যথায় পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে”।

সেমিনারে জলবায়ূ পরিবর্তনের ফলে বাংলাদেশের ভবিষ্যত কি মারাত্মক হুমকীর সমুম্মখীন হবে সে বষয়ে নানা উপাত্ত তুলে ধরেন বক্তারা। জলবায়ু পরিবর্তনে ক্ষতির হাত থেকে বাংলাদেশকে বাচানোর জন্য আন্তর্জাতিক মহলের সহযোগিতা কামনা করেন বক্তারা।

ঐ অঞ্চলে, বিশেষ করে বাংলাদেশে চীনের প্রভাব বৃদ্ধি, যুক্তরাস্ট্রের জন্য উদ্বেগের কারণ বলেও মন্তব্য করেন কেউ কেউ। বক্তারা বলেন বঙ্গোপসাগরের মাধ্যমে ভারত মহাসাগরের গুরুত্বপূর্ন মেরিটাইম দেশ হিসাবে যুক্তরাস্ট্র-বাংলাদেশ সম্পর্কও তাই গুরুত্বপূর্ন। এই সম্পর্ক ভবিষ্যতে আরো ঘনিষ্ঠ হবে বলে সকলে আশা করেন।

আফগানিস্তানে যুক্তরাস্ট্রের সেনা প্রত্যাহারের পর বাংলাদেশে এবং দক্ষিন এশিয়ার অপরাপর দেশে জঙ্গীবাদ বৃদ্ধির আশংকা করছেন নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা। আর তাতে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের বন্ধূরাষ্ট্র বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্কের অবস্থা কি দাঁড়াবে তা জানতে চেয়ে প্রশ্ন রয়েছে অনেক মহলের মনে। সেমিনারে অংশগ্রহণকারীরা প্যানেলিষ্টদের কাছে বিভিন্ন বিষয়ে প্রশ্ন করেন। সূত্র ঃএখন সময় ডট কম