Sheersha Media

ব্রেকিং নিউজ

সন্ধ্যা ৭:৪৫ ঢাকা, সোমবার  ১৯শে নভেম্বর ২০১৮ ইং

‘ইমরানের প্রতি ক্ষুব্ধ হয়েছেন জয়’

সাংবাদিক শফিক রেহমানের গ্রেফতারে গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ইমরান এইচ সরকার প্রতিবাদ জানিয়ে স্ট্যাটাস লেখায় তার প্রতি ক্ষুব্ধ হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে ও তার তথ্য-প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়।

রবিবার রাতে এক ফেসবুক স্ট্যাটাসের মাধ্যমে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস আমাকে অপহরণ ও হত্যার ষড়যন্ত্রে শফিক রেহমানের সরাসরি সংশ্লিষ্টতা উদ্ঘাটন করেছে। তারা এ বিষয়ে প্রমানাদি আমাদের সরকারের কাছে দিয়েছে। তাকে এই প্রমাণের ভিত্তিতেই গ্রেফতার করা হয়েছে। আমি এরচেয়ে বেশি কিছু প্রকাশ করতে পারছি না, কিন্তু এই প্রমাণ দ্ব্যর্থহীন এবং অখণ্ডনীয়।

জয় বলেন, আমি আশাই করেছিলাম বিএনপি এটা নিয়ে মিথ্যা বলার চেষ্টা করবে। যদিও, আমি আশ্চর্য্য হয়েছি ইমরান সরকারের বিষয়ে। সম্ভবত শেষ পর্যন্ত তার আসল চেহারাটা উন্মোচিত হলো। এটা দেখে মনে হচ্ছে সে আমাদের বেশিরভাগ সুশীলের মতই, আরেকটা সুবিধাবাদী এবং মিথ্যাবাদী। হয়তো বিএনপি তাকে পয়সা দিয়েছে। কে জানে। যেভাবেই হোক, আমি তার প্রতি সব শ্রদ্ধা হারিয়েছি। তাকে তার বক্তব্য প্রত্যাহার করে আমাদের সরকারের কাছে ক্ষমা চাইতে হবে।

মিঃ জয় আরও  বলেন, আমি আমার সকল বন্ধু এবং ভক্তদের কাছে আহ্বান জানাচ্ছি, যারা তাকে অনুসরণ করেন তারা তাকে ফেসবুক থেকে আনফলো/আনফ্রেন্ড করুন। সে একজন অপরাধীর হয়ে কথা বলছে যে আমাকে হত্যার চেষ্টা করেছিলো।   

গতকাল ‘জয়’ যা বলেছেন

উল্লেখ্য, সজিব ওয়াজেদ জয় শনিবার রাতে এক ফেসবুক স্ট্যাটাসে যুক্তরাষ্ট্রে তাকে অপহরণ ও হত্যার ষড়যন্ত্র প্রসঙ্গে বলেছেন, এটা শুধু এজন্য ঘটছে, আমার মা বাংলাদেশের রাজনীতিতে আছেন এবং আমি সময়ে সময়ে তাঁকে সাহায্য করি। আর এজন্যও আমাদের বিরোধীদল সহিংস অপরাধমূলক কাজে নিমজ্জিত এবং দেশের শীর্ষ মৌলবাদি দল যারা সরাসরি আইএস এর সাথে যুক্ত তাদের সাথে জোটভুক্ত।

সাংবাদিক শফিক রেহমানকে গ্রেফতার প্রসঙ্গে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রে আমাকে অপহরণ ও হত্যার ষড়যন্ত্রে জড়িত থাকার অভিযোগে শফিক রেহমানকে আজ আমাদের সরকার গ্রেফতার করেছে। একজন যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি নেতার ছেলে, একজন সাবেক এফবিআই এজেন্ট এবং এই দু’জনের অন্য একজন আমেরিকান বন্ধু এরা সবাই এই ষড়য্ন্ত্রের কারণে সাজা ভোগ করছে। যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিসের একটি প্রেস রিলিজ এর লিঙ্কও দিয়ে দেন তার স্ট্যাটাসে। তিনি শফিক রেহমানের জড়িত থাকার বিষয়ে লিখেছেন “সাংবাদিক” শফিক রেহমানের বিরুদ্ধে প্রমানাদি সরাসরি এই মামলা (যুক্তরাষ্ট্রের) থেকে এসেছে। শফিক রেহমানের সাংবাদিকতা পেশা সম্পর্কে বলেছেন, অপহরণ ও হত্যার চেষ্টায় যুক্ত হলে পেশার ধরণ পরিবর্তন হয়ে সাংবাদিক থেকে অপরাধী হয়ে গিয়েছেন।

বিএনপি এসব কাজের জন্য একটি মধ্যবর্তী পেশার কার্যধারা পরিচালনা করে বলেও অভিযোগ তুলেছেন মিঃ জয়।   

ইমরান এইচ সরকার যা বলেছে

ইমরান এইচ সরকার গতকাল রাতে তাঁর ফেসবুক স্ট্যাটাসে লিখেছিলেন, প্রবীণ (৮১ বছর বয়সী) সাংবাদিক শফিক রেহমানের গ্রেফতার ও রিমান্ডের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। শফিক রেহমানের রাজনৈতিক আদর্শের সাথে আমি একমত নই। ভিন্নমতের হলেই তাকে দমন করার যে নোংরা রাজনৈতিক অপকৌশল, এর একটা অবসান চাই।

দেশে যখন একের পর এক মানুষ খুন হচ্ছে, লেখক-প্রকাশক-বিদেশী থেকে শুরু করে মসজিদ-মন্দিরে ঢুকে মুয়াজ্জিন-পুরোহিতকে হত্যা করা হচ্ছে তখন খুনীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে অপহরণের বায়বীয় অভিযোগে এমন একজন প্রবীণ সাংবাদিককে গ্রেফতার সত্যিই হতাশাজনক।

আমি প্রত্যাশা করি সরকারের শুভবুদ্ধির উদয় হবে এবং প্রতিপক্ষকে দমনের চেয়ে দেশের সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নের দিকে মনোযোগী হবে।