Press "Enter" to skip to content

ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ সীমা ছাড়াল ইরান

২০১৫ সালের পরমাণু চুক্তিতে বেঁধে দেয়া ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের সীমা ৩ দশমিক ৬৭ শতাংশ ছাড়িয়ে গেছে ইরান।

আরও উচ্চমাত্রায় ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার ঘোষণা দিয়েছে দেশটি। সোমবার ইরানের আণবিক শক্তি সংস্থার মুখপাত্র বেহরুজ কামালবান্দি এ ঘোষণা দেন।

তেহরান এখন ৪ দশমিক ৫ শতাংশ ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করেছে বলে জানান বেহরুজ। এদিকে, ইরানের বিরুদ্ধে আরও কঠোর নিষেধাজ্ঞার হুমকি দিয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও।

রোববার এক টুইট বার্তায় তিনি বলেন, তারা যদি নিজেদের পরমাণু কর্মসূচির প্রসার ঘটাতে চায় তবে তেহরানকে আরও বড় ধরনের অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়তে হবে।

এএফপি জানায়, ইউরেনিয়াম মজুদের ঘোষণায় তেহরানকে আরও কঠোরভাবে শাসিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেন, ‘ইউরেনিয়াম বাড়ানোর হুমকি দেয়ায় আপনাদের চড়া মূল্য দিতে হবে।’

বেহরুজ বলেন, ‘এ মুহূর্তে ২০ শতাংশ ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার প্রয়োজন নেই। তবে চাইলেই আমরা তা করতে পারব। ৩ দশমিক ৬৭ শতাংশের সীমা যেহেতু আমরা পেরিয়েছি, তাই এ কাজ চালিয়ে যেতে আমাদের আর কোনো বাধা বা সমস্যা নেই।’

এর পরের ধাপেই পড়ে থাকা সেন্ট্রিফিউজগুলো আবার চালু করে এক লাফে ইউরেনিয়ামের মাত্রা বাড়িয়ে ২০ শতাংশে চলে যাওয়ার হুমকিও দিয়েছে ইরান।

রোববার ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের মাত্রা ৩ দশমিক ৬৭ শতাংশকে ছাড়িয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন।

প্রতিক্রিয়ায় এক টুইট বার্তায় পম্পেও বলেন, ইরানের সাম্প্রতিক ইউরেনিয়ামের মাত্রা বৃদ্ধির ঘোষণা বিশ্ব থেকে তাদের আরও বিচ্ছিন্ন করে দেবে।

তাদের ওপর আরও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হবে। ইরানের পরমাণু অস্ত্র বিশ্বকে আরও ঝুঁকিতে ফেলে দেবে। মধ্যপ্রাচ্যের তেলসমৃদ্ধ দেশটির নেয়া নতুন পদক্ষেপের কারণে তাদের অবশ্যই মূল্য দিতে হবে বলে সতর্ক করেছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। নিউ জার্সির মরিসটাউনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘একটি মাত্র অজুহাতে ইরানের ধ্বংসাত্মক পরিকল্পনার জন্য তাদের মূল্য দিতে হবে।

ইউরেনিয়াম মজুদ বন্ধ না করলে তাদের খুব শিগগিরই কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে পড়তে হবে। শাসানোর সুরে ট্রাম্প আরও বলেন, ‘ইরানের ভালো হবে সতর্ক হয়ে যাওয়া।’

আন্তর্জাতিক পরমাণু চুক্তির বিরুদ্ধে গিয়ে কোনো ধরনের পদক্ষেপ না নিতে আহ্বান জানিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। সোমবার সংস্থাটির এক মুখপাত্র বলেন, আন্তর্জাতিকভাবে অনুমোদিত ইউরেনিয়ামের মাত্রা ছাড়ানোর ইরানের ঘোষণায় চরম উদ্বিগ্ন ইইউ। পরমাণু চুক্তির লঙ্ঘন হয় এমন কর্মকাণ্ড বন্ধের আহ্বান জানাচ্ছে সংস্থাটি।

এদিকে, পরমাণু সংকট ইস্যুতে ইরানকে যুক্তরাষ্ট্র খুব বেশি আষ্টেপৃষ্ঠে ধরেছে বলে অভিযোগ তুলেছে চীন। সোমবার দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গেং শুয়াং বলেন, ‘এটা স্পষ্ট, যুক্তরাষ্ট্রের একতরফা তর্জন-গর্জনে ইতিমধ্যে মারাত্মক একটি ক্ষতের সৃষ্টি হয়েছে। ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ চাপ প্রয়োগই পরমাণু সংকট সৃষ্টির প্রধান কারণ।’

শেয়ার অপশন: