ব্রেকিং নিউজ

রাত ১০:২৮ ঢাকা, রবিবার  ২১শে অক্টোবর ২০১৮ ইং

ইউনূস ও যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে শেখ হাসিনার যুদ্ধ

‘ফরেন পলিসি জার্নাল’ নামক ‘মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রকাশিত ১৪ নভেম্বর তারিখের সংখায় ‘ ইউনূস ও যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে শেখ হাসিনার যুদ্ধ ঘোষণা’ শিরোনামে প্রতিবেদনে বলা হয়ঃ ড. ইউনূস ওয়ান ইলেভেন সরকারকে সমর্থন করেছিলেন এবং রাজনীতি থেকে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনাকে মাইনাস করতে চেয়েছিলেন। এছাড়া ড. ইউনূসের নোবেল প্রাপ্তির কারণে শেখ হাসিনা নোবেল  পুরস্কার পাওয়া থেকে বঞ্চিত হন। এই দুই ঘটনায় শেখ হাসিনা ড. ইউনূসের উপর ক্ষুব্ধ। অন্যদিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ড. ইউনূসকে সমর্থন করে থাকে। তাছাড়া ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা ছিল বাংলাদেশ বিরোধী। এসব কারণে যুক্তরাষ্ট্রের উপরও শেখ হাসিনা ক্ষুব্ধ। তার এ ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটে ক্ষমতায় আসার পর থেকেই। ক্ষমতায় আসার পর থেকেই তিনি ড. ইউনূস ও যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করেন।বর্তমানে সেই সম্পর্ক চূড়ান্ত অবনতির পর্যায়ে রয়েছে।প্রতিবেদনটিতে বলা হয়, ২০০৬ সালে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটে। তখন জাতিসংঘ বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির রাজনৈতিক সমাধান না দিয়ে বরং  বিশেষ একটি গোষ্ঠীকে ক্ষমতাগ্রহণে উস্কানি দেয়। যদিও জাতিসংঘের কোনো সদস্য রাষ্ট্রের সেনাবাহিনীকে তার অভ্যন্তরীণ ব্যাপারে নির্লজ্জভাবে হস্তক্ষেপ করতে উৎসাহিত করা জাতিসংঘ চার্টারের লঙ্ঘন।  প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, জাতিসংঘ তখন বিভিন্নভাবে বাংলাদেশি জেনারেলদের ক্ষমতাগ্রহণে উৎসাহিত করতে থাকে। এক্ষেত্রে শান্তিরক্ষী মিশনে যেসব বাংলাদেশি কর্মরত তাদেরকে দেয়া সুযোগ সুবিধা বন্ধ করে দেয়ার হুমকিও দেয়া হয়। অথচ এসব সেনারা বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কাছ থেকেও যাবতীয় সুযোগ সুবিধা ভোগ করতো। শেষ পর্যন্ত ২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি অনিচ্ছা সত্ত্বেও জেনারেলরা ক্ষমতাগ্রহণে সম্মত হয় এবং তারা একজন দূর্বল রাষ্ট্রপতি ও রাবার স্টাম্প উপদেষ্টা পরিষদের ন্যায়; সিভিল প্রশাসন যারা মন্ত্রী পরিষদের ন্যায় আচরণ করতো তাদের সামনে রেখে  পেছনে প্রধান ক্রীড়ানকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়। এ রাজনৈতিক সংকটময় পরিস্থিতি বাংলাদেশে ‘ওয়ান ইলেভেন’ নামে পরিচিত। আমেরিকাতে যেমন একটি আছে ‘নাইন ইলেভেন’। পেছনের ক্রীড়ানকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হওয়া জেনারেলরা অর্ধবুদ্ধিজীবী ও তথাকথিত কিছু বুদ্ধিজীবী কাম সুশীল সমাজের মধ্যে দ্বন্দ্ব বাধিয়ে দেয় একটি ভ্রান্ত এজেন্ডা বাস্তবায়নের জন্য। এজেন্ডাটি ছিল দুই নারী অর্থাৎ সাবেক দুই প্রধানমন্ত্রী যারা বাংলাদেশের প্রধান দুটি রাজনৈতিক দলেরও প্রধান তাদের অপসারণ করা।  সর্বশেষ জেনারেলরা তাদের দুই জনকে যাদের একজন বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি ও বাংলাদেশের স্থপতি শেখ মুজিবুর রহমানের কন্যা শেখ হাসিনা  অন্য জন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের বিধবা স্ত্রী খালেদা জিয়াকে রাজনীতি থেকে অপসারণের সিদ্ধান্ত নেয় যা বাংলাদেশের রাজনীতিতে মাইনাস টু ফর্মূলা নামে পরিচিত। তখন জেনারেলরা বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি তৃতীয় শক্তি  তথা তৃতীয় ধারার রাজনৈতিক শক্তির  উত্থানের চেষ্টা করেন। তারা তাদের এ প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে ২০০৬ সালে শান্তিতে নোবেল পাওয়া ড. ইউনূসকে বেছে নেয়। যিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অর্থনীতি নিয়ে পড়াশুনা করেছেন এবং ক্ষুদ্র ঋণ ধারণার প্রবক্তা এবং যার  পেছনের শক্তি ছিল সেনাবাহিনী। তিনি ধারণা করেছিলেন তাকে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা গ্রহণে খাকি পোশাকধারীরা সহায়তা করবে। শেষপর্যন্ত তার এ রাজনৈতিক উচ্চাশার অপমৃত্যু ঘটে এবং তা আর বাস্তবতার মুখ দেখেনি। ড. ইউনূস তার এ পরিকল্পনা বাস্তবায়নে তারই প্রতিষ্ঠান গ্রামীণ ব্যাংকে কর্মরত ৮৫ হাজার কর্মচারীকে ব্যবহার করে শেষ পর্যন্ত বিজয়ী হওয়ার পরিকল্পনা নিয়ে এগুতে থাকেন। কিন্তু ইউনূসের এ হিসাব ভুল ছিল। তখন এমনও দেখা গেছে সুশীল সমাজের প্রতিনিধি হিসেবে পরিচিত ড. ইউনূস বাংলাদেশের রাজনীতি, রাজনৈতিক নেতা ও দুই প্রধান দলের নেত্রীদের  নিয়ে কথা বলছেন।

প্রতিবেদনটিতে আরও বলা হয়, ২০০৭ সালে যুক্তরাষ্ট্র শেখ হাসিনাকে দেশে আসতে বারণ করে এবং বলে যে দেশে গেলে তাকে দুর্নীতি মামলার মুখোমুখি হতে হবে । কিন্তু শেখ হাসিনা সেসব তোয়াক্কা না করে দেশে ফিরে আসেন এবং কারাবরণ করেন। সেসময় বিএনপি নেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকেও দেশ ছাড়তে চাপ দেয়া হয় । তিনিও তা প্রত্যাখ্যান করেন। বাংলাদেশের রাজনীতির অনেক নাটকীয় অধ্যায় শেষে ২০০৯ সালে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় আসেন শেখ হাসিনা। ক্ষমতায় আসার পর থেকে তার সাথে ড. ইউনূস ও তার সমর্থনকারী মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে একটা মানসিক দূরত্ব তৈরি হয় যা একপর্যায়ে একটা নীরব যুদ্ধে পরিণত হয়। তাছাড়া ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের বিরোধিতার বিষয়টিও ছিল। তবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের অবনতির ক্ষেত্রে বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ড্যান ডব্লিউ মজিনাকেও দায়ী করা হয়।

বাংলাদেশের দু’জন সাংবাদিকের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনটিতে বলা হয়, ড. ইউনূসের প্রতি শেখ হাসিনা ক্ষুব্ধ হওয়ার কারণ হচ্ছে, প্রথমত বাংলাদেশে ২০০৭ সালে যে জরুরি অবস্থা জারি করা হয় তাতে ড. ইউনূসের সমর্থন ছিল এবং তৎকালীন সিভিল প্রশাসনের মুখোশধারী জেনারেলদের যে মাইনাস টু ফর্মূলা ছিল তাতে ড. ইউনূসের সমর্থন ছিল। দ্বিতীয়তঃ শেখ হাসিনার ধারণা ছিল ড. ইউনূসের পরিবর্তে তিনিই নোবেল পাবেন কারণ তিনি বাংলাদেশের পূর্বাঞ্চল তথা পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি প্রতিষ্ঠা করেছেন। কিন্তু ড. ইউনূস তার পুরোনো বন্ধু যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনকে ব্যবহার করে বা তার প্রভাবকে কাজে লাগিয়ে নোবেল পুরস্কার বাগিয়ে নিয়েছেন।

Like & share করে অন্যকে দেখার সুযোগ দিন