ব্রেকিং নিউজ

রাত ১:১০ ঢাকা, শনিবার  ২২শে সেপ্টেম্বর ২০১৮ ইং

ইংলাকের হতে পারে ১০ বছরের কারাদন্ড

Like & Share করে অন্যকে জানার সুযোগ দিতে পারেন। দ্রুত সংবাদ পেতে sheershamedia.com এর Page এ Like দিয়ে অ্যাক্টিভ থাকতে পারেন।

 

কৃষি ভর্তুকি প্রকল্পে দুর্নীতির দায়ে থাইল্যান্ডের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইংলাক সিনাওয়াত্রার বিরুদ্ধে ফৌজদারি অভিযোগ আনা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার দেশটির অ্যাটর্নি-জেনারেল আদালতে এ অভিযোগ এনেছেন।
এ মামলায় দোষী সাব্যস্ত হলে ইংলাকের সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদন্ড হতে পারে। থাইল্যান্ডের দুর্নীতি দমন সংস্থাও বলেছে, কৃষকদের চালের বাজার মূল্যেও দ্বিগুণ ভর্তুকি দেয়ায় রাষ্ট্রীয় কোষাগারের যে ক্ষতি হয়েছে তার জন্য এককভাবে ইংলাকই দায়ী।
আদালতে মামলা হিসেবে গ্রহণ করা এই অভিযোগকে, থাইল্যান্ড আবার গণতান্ত্রিক শাসনে ফিরে গেলেও, ইংলাক যেন রাজনৈতিকভাবে আর প্রতিষ্ঠিত হতে না পারেন তা নিশ্চিত করতেই, সামরিক বাহিনীর নেয়া আরেকটি উদ্যোগ বলে মনে করছেন তার সমর্থকরা।
অপরদিকে দেশটির দুর্নীতি দমন সংস্থাও রাষ্ট্রীয় তহবিলের লোকসানের জন্য তাকে ব্যক্তিগতভাবে দায়ী করে তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়ার জন্য দেশটির অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।
বুধবার দেশটির অর্থমন্ত্রী সোম্মাই ফেসি জানিয়েছেন, জাতীয় দুর্নীতি দমন সংস্থা থেকে অর্থমন্ত্রণালয় একটি চিঠি পেয়েছে। এতে চাল প্রকল্পে ভর্তুকি দিয়ে রাষ্ট্রীয় তহবিলের ৬০০ বিলিয়ন বাথ ক্ষতিপূরণ করতে ইংলাকের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়ার সুপারিশ করেছে।
ফেসি বলেছেন, ‘রাষ্ট্রীয় ক্ষতির বিষয়টি অর্থ মন্ত্রণালয়ের এখতিয়ারাধীন। মন্ত্রণালয় ব্যবস্থা নিতে প্রস্তুত।’
২০১৪ সালের মে মাসে থাইল্যান্ডের একটি আদালত ইংলাক সরকারকে অবৈধ ঘোষণা করে এবং এর পরপরই সেনাবাহিনী তার নেতৃত্বাধীন নির্বাচিত সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করে। কার্যত দেশটিতে এখন সামরিক শাসন জারি রয়েছে।
পরবর্তী সময়ে চাল প্রকল্পে ভর্তুকির বিষয়ে তাকে অভিশংসিত করে রাজনীতি থেকে পাঁচ বছরের জন্য নিষিদ্ধ ঘোষণা করে থাই পার্লামেন্ট।
চাল ভর্তুকি প্রকল্পে ইংলাকের ফেউ থাই সরকার থাই কৃষকদের কাছ থেকে আন্তর্জাতিক বাজার দরের চেয়েও বেশি দামে চাল ক্রয় করে। এতে সরকারি গুদামে চাল উপচে পড়ে, কিন্তু দর বেশি হওয়ায় বিদেশে রপ্তানি করতে ব্যর্থ হয়।
এতে দেশটির হাজার হাজার কোটি সরকারি অর্থ গচ্চা যায়।
সমালোচকরা অভিযোগ করেছেন, নিজের সমর্থকদের পকেট ভরাতেই ইংলাক এ কাজ করেছেন, কিন্তু এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তিনি। থাইল্যান্ডের কৃষক সমাজ সরকারের ওই প্রকল্পে খুশি হয়েছিল এবং দেশের সাধারণ মানুষের মধ্যে তার জনপ্র্রিয়তা বহুগুণ বেড়ে গিয়েছিল।
থাইল্যান্ডের গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর মধ্যে সিনওয়াত্রা পরিবার ব্যাপক জনপ্রিয়। কিন্তু শহুরে মধ্যবিত্ত ও অভিজাতরা পরিবারটিকে অপছন্দ করে। সিনাওয়াত্রা পরিবার দুর্নীতিপরায়ণ বলে অভিযোগ করে থাকে তারা।
সংবাদদাতারা জানিয়েছেন, এ কারণে কৃষকরা আদালতে আজ তার বিরুদ্ধে দায়ের করা অভিযোগকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে মনে করছেন।
তারা বলছেন, ইংলাকের রাজনৈতিক ক্যারিয়ার শেষ করে দেয়ার জন্য সেনা নিয়ন্ত্রিত আদালতে তার বিরুদ্ধে ফৌজদারি অভিযোগ আনা হয়েছে।
২০০১ সাল থেকে যে নামের দলই হোক না কেন, সিনাওয়াত্রা পরিবারের সদস্যদের নেতৃত্ব দেয়া দলগুলো থাইল্যান্ডের সব গণতান্ত্রিক নির্বাচনে জয় পেয়েছে।