Sheersha Media

ব্রেকিং নিউজ

সকাল ৬:৫৭ ঢাকা, শুক্রবার  ১৬ই নভেম্বর ২০১৮ ইং

সংঘর্ষ, সমকালের সাংবাদিক গুলিবিদ্
সাংবাদিক আবদুল হাকিম শিমুলের এখনও জ্ঞান ফেরেনি। তাকে আইসিইউতে নেওয়া হয়েছে। তার মাথার পেছনে গুলির চিহ্ন দেখেছেন চিকিৎসকরা। গুলি মাথার ভেতরে আছে।

আ.লীগ-আ.লীগ সংঘর্ষ, সমকালের সাংবাদিক গুলিবিদ্ধ

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলায় বৃহস্পতিবার পৌর আওয়ামী লীগের বহিষ্কৃত সভাপতি ভিপি রহিম ও তার শ্যালক ছাত্রলীগ নেতা বিজয় মাহমুদের সমর্থকদের সঙ্গে আওয়ামী লীগ সমর্থিত পৌর মেয়র হালিমুল হক মিরুর ভাই পিন্টু ও তাদের সমর্থকদের সংঘর্ষ হয়। এতে উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা-ধাওয়া, ককটেল নিক্ষেপ ও গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। এসময় সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে ঘটনাস্থলে দায়িত্ব পালনকালে গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হয়েছেন সমকালের প্রতিনিধি আবদুল হাকিম শিমুল।

সংশ্লিষ্ট সূত্র গুলো থেকে জানা গেছে, আজ দুপুরে শাহজাদপুরের আওয়ামী লীগ সমর্থিত পৌর মেয়র হালিমুল হকের ছোট ভাই পিন্টু পৌর শহরের কালিবাড়ী মোড়ে কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি কান্দাপাড়া মহল্লার বাসিন্দা বিজয় মাহমুদকে (১৮) বেদম মারধর করেন। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে বিজয়ের সমর্থনে মহল্লার লোকজন ও আওয়ামী লীগের একাংশ এবং কলেজের ছাত্ররা এক জোট হয়ে বিকেল তিনটার দিকে মেয়রের বাড়িতে হামলা চালান। এ সময় গোলাগুলি ও বেশ কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। তখন ঘটনাস্থলে থাকা সাংবাদিক আবদুল হাকিম গুলিবিদ্ধ হন। এ ঘটনায় আরও তিনজন আহত হন। তাঁদের বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও সিরাজগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

আবদুল হাকিমকে গুরুতর অবস্থায় প্রথমে শাহজাদপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল স্থানান্তর করা হয়। অপর তিনজনকে সিরাজগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত পৌর নির্বাচন নিয়ে হালিমুল হক ও তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী পৌর আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ভিপি আবদুর রহিমের দ্বন্দ্ব চলছিল। নির্বাচনের সময় আবদুর রহিমের শ্যালক বিজয় মাহমুদ বর্তমান মেয়র হালিমুল হককে মারধর করেছিলেন। ওই ঘটনার জের ধরে হালিমুল হকের ছোট ভাই পিন্টু আজ বিজয়কে মারধর করেন।

সাংবাদিক আবদুল হাকিম আহতের ঘটনার প্রতিবাদে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন স্থানীয় সাংবাদিকরাও।

পুলিশ পৌর মেয়র হালিমুল হক মিরুর ব্যক্তিগত অস্ত্র জব্দ করেছে। তার ছোট ভাই পিন্টুকে ঘটনার পর পরই থানা হেফাজতে নিয়েছে।

বগুড়ায় শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেলের চিকিৎসক ওমর ফারুক গণমাধ্যমকে জানান, সাংবাদিক আবদুল হাকিম শিমুলের এখনও জ্ঞান ফেরেনি। তাকে আইসিইউতে নেওয়া হয়েছে। তার মাথার পেছনে গুলির চিহ্ন দেখেছেন চিকিৎসকরা। গুলি মাথার ভেতরে আছে।

সাংবাদিক আবদুল হাকিম শিমুলের চিকিৎসায় হাসপাতালের নিউরো বিভাগের প্রধান সুশান্ত কুমার সরকারকে প্রধান করেন তিন সদস্যের একটি মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়েছে ।

 

সম্পর্কিত সংবাদ

আ.লীগের সংঘর্ষে ‘গুলিবিদ্ধ সাংবাদিক’ হাকিম মারা গেছেন