Sheersha Media

ব্রেকিং নিউজ

সকাল ৭:০৯ ঢাকা, শুক্রবার  ১৬ই নভেম্বর ২০১৮ ইং

আসেম শীর্ষ সম্মেলনের উদ্বোধনী অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

১১তম এশিয়া-ইউরোপ শীর্ষ সম্মেলন (আসেম ১১ সম্মেলন) এখানে ‘আসেম’-এর ২০ বছর : কানেকটিভির মাধ্যমে ভবিষ্যতের অংশীদারিত্ব’ শীর্ষক প্রতিপাদ্য নিয়ে শুরু হয়েছে।

আজ সকালে স্থানীয় হোটেল সাংগ্রিলাতে এই সম্মেলন শুরু হয়।

আসেম ভুক্ত ৫১টি দেশ- ৩০টি ইউরোপীয় ও ২১টি এশীয় দেশ এবং দুটি আন্তঃসরকার সংগঠনের উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধিরা সম্মেলনে অংশগ্রহণ করছেন।

দুই দিনের এ সম্মেলনে ১১টি দেশের প্রেসিডেন্ট ও ভাইস প্রেসিডেন্ট, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ২৩টি দেশের প্রধানমন্ত্রী, ১৬ জন পররাষ্ট্রমন্ত্রী, ইউরোপিয়ান কাউন্সিল ও ইউরোপিয়ান কমিশনের প্রেসিডেন্ট এবং অ্যাসোসিয়েশন অব সাউথ-ইস্ট এশিয়ান ন্যাশনস-এর সেক্রেটারি জেনারেল অংশ নিচ্ছেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সম্মেলনের উদ্বোধনী অধিবেশনে যোগ দিতে বৃহস্পতিবার মঙ্গোলিয়ার রাজধানী উলানবাটরে আসেন।

আসেম ভিলা থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সম্মেলনস্থলে পৌঁছলে মঙ্গোলিয়ার প্রেসিডেন্ট সাখিয়াজিন এলবেগদোর্জ তাকে অভ্যর্থনা জানান।

মঙ্গোলিয়ার প্রেসিডেন্ট সাখিয়াজিন এলবেগদোর্জ সম্মেলনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনে প্রদত্ত ভাষণে বলেন, মঙ্গোলিয়ার সরকার ও জনগণ এই আসেম সম্মেলনকে অত্যধিক গুরুত্বেও সঙ্গে গ্রহণ করেছে, যে সম্মেলনের দিকে এখন সমগ্র বিশ্বও তাকিয়ে রয়েছে।

এই সামিট যেমন একদিকে আসেম-এর ২০ বছর পূর্তি উদযাপন করছে তেমনি মঙ্গোলিয়া ঐতিহাসিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ৮১০ বছর পূর্তিও উদযাপন করছে। যে কারণে এ বছর আমাদের কাছে এই সম্মেলন আয়োজনটা বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে।

উদ্বোধনী অধিবেশনে ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড টাস্ক, মায়ারমারের প্রেসিডেন্ট তিন ক্যাও, শ্লোভাকিয়ার প্রধানমন্ত্রী রবার্ট ফিকো, নিউজিন্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মারি ম্যাককিউলী বক্তৃতা করবেন।

‘টু ডিকেডস অব পার্টনারশীপ : টেকিং স্টক এন্ড লুকিং ফরোয়ার্ড’ এবং ‘প্রমোটিং আসেম পার্টনারশীপ ফর গ্রেটার কানেকটিভিটি’ শীর্ষক সম্মেলনে দুটি প্লানারি সেশন থাকবে।

আয়োজকদের সূত্রমতে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দ্বিতীয় প্লানারি সেশনে ভাষণ দেবেন।

সূত্র জানায়, প্রথম অধিবেশনে আসেম-এর ২০ বছরের রাজনৈতিক সংলাপ লব্ধ অভিজ্ঞতা, অর্থনৈতিক সহযোগিতা এবং এশিয়া ও ইউরোপের মধ্যে আর্থ-সামাজিক আদান-প্রদান বিষয়ে বিষয়ে পর্যালোচনা অনুষ্ঠিত হবে। একইসঙ্গে দুই মহাদেশের মধ্যে ‘হার্ড’ এবং ‘সফট’ কানেকটিভির উন্নয়নের বিষয়ে আলোচনা হবে দ্বিতীয় সেশনে।

মঙ্গোলিয়া সা¤্রাজ্য প্রতিষ্ঠার ৮১০ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে সম্মেলনে অংশগ্রহণকারীদের মঙ্গোলীয় আবহমান সংস্কৃতির ‘নাদাম’-এর সঙ্গেও পরিচয়ের সুযোগ করে দেয়া হবে।

আগামীকাল ‘এনহেন্সিং দ্য থ্রি পিলার অব আসেম’ শীর্ষক অবকাশকালীন বৈঠক অনুষ্ঠানের কথা রয়েছে। এই অধিবেশনেই বিভিন্ন আঞ্চলিক এবং আন্তর্জাতিক বিষয়াবলী বিশেষ করে সন্ত্রাস দমন এবং অভিভাসনের মত বিষয়গুলোও আলোচনায় স্থান পাবে।

আগামীকাল আসেম-এর ভবিষ্যত করণীয় বিষয়ে ‘উলানবাটোর’ ঘোষণার মধ্য দিয়ে সম্মেলন শেষ হবে।

সম্মেলন চলাকালে বিভিন্ন বিষয়ে বিভিন্ন দ্বিপাক্ষিক বৈঠকও অনুষ্ঠিত হবে।

এশিয়া-ইউরোপ শীর্ষ সম্মেলন (আসেম)-এর মাধ্যমে ইউরোপীয় ইউনিয়নভূক্ত ২৮টি সদস্য রাষ্ট্র, অন্য আরও দুটি ইউরোপীয় দেশ এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন-এর সঙ্গে ২১টি এশীয় রাষ্ট্র এবং ‘আসিয়ান’ সচিবালয়ের মধ্যে অনানুষ্ঠানিক সংলাপ এবং পারস্পরিক সহযোগিতার সংযোগ সাধন করা হয়।
দুটি মহাদেশীয় জনগণের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ এবং সমান সহযোগিতার ভিত্তিতে সম্পর্ক জোরদারে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক এবং সাংস্কৃতিক বিষয়ে আসেম সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়।