ব্রেকিং নিউজ

রাত ১০:১৯ ঢাকা, বুধবার  ১৯শে সেপ্টেম্বর ২০১৮ ইং

আ’লীগ নেতার ভাতিজা বলে কথা ! ‘ঝালকাঠিতে বিপাকে এক নারী

ঝালকাঠি প্রতিনিধি ॥ ঝালকাঠির রাজাপুরে বিধবা এক নারী বসতভিটা রক্ষা করতে প্রভাবশালীদের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ করে নিজেই বিপাকে পড়েছেন। উপজেলার সাতুরিয়া গ্রামেরমৃত মজিবুর রহমানের স্ত্রী তিন সন্তানের জননী ঝর্ণা বেগম এখন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে অভিযোগ করেন।

অভিযোগে জানা যায়, স্বামীর ভিটা থেকে ঝর্ণা বেগমকে উচ্ছেদ করে তা দখলে নিতে এলাকার প্রভাবশালী একটি মহল কয়েক বছর ধরে অপচেষ্টা চালাচ্ছে। এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের কাছে একাধিকবার বিচার চেয়ে কোন ফল না হওয়ায় ২৭ মে রাজাপুর থানায় লিখিত অভিযোগ করেন ঝর্ণা। এতে অত্যাচারের মাত্রা আরো বেড়েছে বলে জানান তিনি।

ঝর্ণা বেগম বলেন, সাত বছর আগে স্বামী মজিবর রহমান মারা যাওয়ার পর থেকে একই এলাকার জাফর খান, করিম খান ও মোশাররফ খান সহ প্রভাবশালী একটি মহল আমার অসহায়ত্তের সুযোগে বসতবাড়িটি দখলে নেয়ার পায়তারা শুরু করে। তারা প্রতিরাতে বাড়িতে হানা দিয়ে ঘরের বাইরে থাকা আসবাবপত্রসহ হাতের কাছে যা পায় তাই নিয়ে যায়। এছাড়াও অশ্লিল বিভিন্ন কথা বলে যার কারণে সন্তানদের সামনে লজ্জায় পড়তে হয়। এমনকি প্রতিরাতে বাড়ির চালে ঢিল ছুড়ে ভয় দেখায়। সর্বশেষ গত ২৬ মে গভীর রাতে জানালা ভেঙ্গে ঘরের ভেতরে প্রবেশ করতে চাইলে আমি তা প্রতিহত করি এবং নিরুপায় হয়ে থানায় অভিযোগ করি।

ঝর্না বেগম আরো বলেন, ওই ব্যাক্তিরা ঝালকাঠি জেলা পরিষদ সদস্য ও আওয়ামীলীগ নেতা মো. সোবাহান খানের ভাইয়ের ছেলে হওয়ায় কেউ তাঁর এবং তাদের সঙ্গীদের বিরুদ্ধে মুখ খুলতে সাহস পায়না। থানায় লিখিত অভিযোগ করার পরে অত্যাচারের মাত্রা আরো বেড়েছে। আমি আমার স্কুল পড়ুয়া মেয়েকে নিয়ে চিন্তায় থাকি। ওরা আমার মেয়ের কোন ক্ষতি করতে পারে। তাই প্রশাসনে কর্তা ব্যাক্তিদের কাছে এর সুষ্ঠু বিচার চাই। ঝর্না বেগম কান্নাজড়িত কন্ঠে বলেন, রাতে শান্তিতে কবে ঘুমিয়েছি মনে নেই। ঘরেস্কুল পড়ুয়া মেয়েসহ তিন ছেলে মেয়ে নিয়ে আতংকের মধ্যে ঘুমহীন রাত কাটাই। রাত নামলেই ঘরের পাশে ওদের অস্তিত্ব অনুভব করি। প্রথমে গোপনে ভয় দেখিয়ে বাড়ি ছাড়া করতে চাইলেও বর্তমানে প্রকাশ্যে বেপরোয়া ভাবে জোড়-জবরদস্তি করে বসতবাড়ি থেকে উচ্ছেদ করতে চাইছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে জেলা পরিষদ সদস্য ও আওয়ামী লীগ নেতা সোবাহান খান বলেন, আমি কোনদিন কোন সন্ত্রাসী বা অপরাধীকে আশ্রয়-প্রশ্রয় দেইনি।

রাজাপুর থানার ওসি (তদন্ত) মো. হারুন অর রশীদ বলেন, ঝর্ণা বেগমের একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

 

এতিম, মুক্তিযোদ্ধা ও আলেম-উলামার সম্মানে প্রধানমন্ত্রীর ইফতার