ব্রেকিং নিউজ

সকাল ১১:৩৬ ঢাকা, মঙ্গলবার  ২৫শে সেপ্টেম্বর ২০১৮ ইং

মাহবুবে আলম
এটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম

‘আলাদা রুলস তো লাগবেই’

নিম্ন আদালতের বিচারকদের শৃংখলা সংন্ত্রান্ত বিধিমালা নিয়ে এটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেছেন, বিষয়টি নিয়ে গেজেট প্রকাশ বিষয়ে সমস্যা কেটে যাবে। তিনি বলেন, নিম্নআদালতের বিচারকদের জন্য আলাদা রুলস তো লাগবেই।

এটর্নি জেনারেল কার্যালয়ে আজ সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, নিম্নআদালতের বিচারকদের শৃঙ্খলাবিধি সংক্রান্ত চাকরির রুলস ফ্রেমিং নিয়ে যে দূরত্বের সৃষ্টি হয়েছে তা নিরসনের জন্যই আদালতের কাছে আমি আজ আরো চার সপ্তাহের সময় আবেদন করি এবং আদালত তিন সপ্তাহের সময় দিয়েছেন। আগামী ৫ ফেব্রুয়ারি এটি আবার কার্যতালিকায় আসবে।

এটর্নি জেনারেল বলেন, নিম্নআদালতের বিচারকদের শৃংখলা বিধিমালার গেজেট প্রকাশ করতে হবে। তার কারণ, আমাদের দেশে চাকরির বিষয়ে সমস্ত বিভাগে রুলস-রেগুলেশন আছে। সেখানে নিম্ন আদালতের বিচারকদের কেন থাকবে নাÑ যেখানে মাসদার হোসেন মামলার পরে বিচার বিভাগের অফিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেসি আলাদা হয়ে গেছে। এ অবস্থায় তাদের জন্য আলাদা রুলস তো লাগবেই। তাদের জন্য আলাদা গেজেটও করতে হবে। এ নিয়ে আইন মন্ত্রণালয় এবং সুপ্রিম কোর্টের মধ্যকার পার্থক্যের নিরসন করাই এখন আমাদের প্রধান বিবেচ্য বিষয়।

এদিকে আপিল বিভাগ ৫ ফেব্রুয়ারির মধ্যে নিম্নআদালতের বিচারকদের চাকরির শৃঙ্খলা-সংক্রান্ত বিধিমালার গেজেট প্রকাশের নির্দেশ দিয়ে আজ আবারও সময় বেধে দিয়েছে। প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ এ নির্দেশ দেয়।
নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগ পৃথকীকরণে মাসদার হোসেন মামলার রায় ঘোষণার আট বছর পর বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে ২০০৭ সালে বিচার বিভাগকে নির্বাহী বিভাগ থেকে পৃথক করা হয়। ওই সময় চারটি বিধিমালা গেজেট আকারে জারি করা। এর মধ্যে একটি হচ্ছে বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস (কর্মস্থল নির্ধারণ, পদোন্নতি, ছুটি মঞ্জুরি, নিয়ন্ত্রণ, শৃঙ্খলা-বিধান এবং চাকরির অন্যান্য শর্তাবলী) বিধিমালা, ২০০৭। এতে বলা হয়েছে পৃথক বিধি তৈরি না হওয়া পর্যন্ত অধস্তন আদালতের বিচারকদের শৃঙ্খলা বিধান করা হবে ১৯৮৫ সালের গভর্নমেন্ট সার্ভিস রুলস অনুযায়ী। তবে মাসদার হোসেন মামলার রায়ের ৭ নম্বর নির্দেশনা অনুযায়ী জুডিশিয়াল সার্ভিসের সদস্যদের জন্য পৃথক শৃঙ্খলা বিধি এখনো তৈরি হয়নি।

১৯৯৯ সালে মাসদার হোসেন মামলায় ১২ দফা নির্দেশনা দিয়ে বিচার বিভাগকে নির্বাহী বিভাগ থেকে পৃথক করার ঐতিহাসিক রায় দেয় উচ্চ আদালত।