Sheersha Media

ব্রেকিং নিউজ

রাত ২:১৩ ঢাকা, বুধবার  ১৪ই নভেম্বর ২০১৮ ইং

আলবদর নেতা ইউসুফকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ

মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় গ্রেফতার বাগেরহাটের বন কর্মকর্তা মো. ইউসুফ আলী ওরফে এ কে এম ইউসুফ আলমকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল।
রোববার বিচারপতি শাহিনুর ইসলামের নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এ আদেশ দেন। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন প্রসিকিউটর হায়দার আলী ও সায়েদুল হক সুমন।
রাষ্ট্রপক্ষে আইনজীবী হায়দার আলী ও সায়েদুল হক সুমন জানান, সকালে ইউসুফ আলমকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। পরে শুনানি শেষে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
গত ৯ ডিসেম্বর রাতে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব) সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের দুবলার চর এলাকায় অভিযান চালিয়ে শরণখোলা রেঞ্জের স্টেশন কর্মকর্তা ইউসুফকে (৫৮) গ্রেপ্তার করে। ইউসুফ আলী মুক্তিযুদ্ধের সময় আলবদর বাহিনীতে ছিলেন বলে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের মামলায় অভিযোগ আনা হয়েছে। ইউসুফ আলী জামালপুরের চাঁনপুর হরিণাকান্দা গ্রামের বাসিন্দা।
একই রাতে তার বড় ভাই এ বি এম ইউনুস আলীকেও (৬৫) যুদ্ধাপরাধ মামলায় জামালপুর থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি জামালপুরে একটি মাদ্রাসার সুপারিনটেনডেন্ট ছিলেন। সব মিলিয়ে এ মামলার মোট চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকি দুজন হলেন ময়মনসিংহের মুক্তাগাছার ওমর ফারুক (৭০) ও রেজাউল করিম ওরফে আক্কাস মৌলভী (৬৬)। আক্কাস মৌলভী মুক্তাগাছার চেচুয়া আলিয়া মাদ্রাসার সুপার।
তদন্ত কর্মকর্তা রুহুল আমিন সাংবাদিকদের বলেন, ‘আসামি এ কে এম ইউসুফ আলম মুক্তিযুদ্ধের সময় ছাত্র ছিলেন। সে সময়ে তিনি আলবদর বাহিনীতে যোগ দিয়ে ময়মনসিংহ জেলার মুক্তাগাছার সুবর্ণখিলা এলাকায় গণহত্যা, অগ্নিসংযোগ ও নির্যাতন চালান।’
প্রাথমিক তদন্তে ‘অভিযোগের সত্যতা’ পাওয়ায় গত ১ এপ্রিল জামালপুর ও ময়মনসিংহ জেলার আটজনের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের মামলা করা হয়। প্রসিকিউশনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ৯ ডিসেম্বর ট্রাইব্যুনাল আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। ইউসুফ আলী ১৯৭৯ সালের ৯ আগস্ট বন বিভাগে ফরেস্টার পদে যোগ দেন। তিনি ২০১৪ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের শরণখোলা রেঞ্জে ডেপুটি রেঞ্জার হিসেবে যোগ দেন। কিছুদিন আগে তিনি পদোন্নতি পেয়ে শরণখোলা স্টেশন কর্মকর্তার দায়িত্ব পান।