আরো সন্ত্রাসী হামলার বিষয়ে সতর্ক করলেন ফরাসী প্রধানমন্ত্রী

ফরাসী প্রধানমন্ত্রী ম্যানুয়েল ভালস শনিবার আরো সন্ত্রাসী হামলার বিষয়ে সতর্ক করলেন।
বোগোটা থেকে ফেরার পথে বিমানে বার্তা সংস্থা এএফপিকে তিনি বলেন, শুক্রবারের হামলা ফ্রান্সে আরো উত্তেজনার সৃষ্টি করবে। কারণ হামলার হুমকির মধ্যে কোন সমাজে বছরের পর বছর বাস করা কঠিন।
তিনি বলেন, প্রশ্ন অনেক। যদি আবারো হামলা হয়, কিন্তু তা কখন?
উল্লেখ্য, ফ্রান্সের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর লিয়ঁর কাছে একটি ছোট শহরে শুক্রবার সন্ত্রাসী হামলা চালানো হয়। স্থানীয় সময় সকাল ১০টার দিকে শহরের মার্কিন মালিকানাধীন একটি গ্যাস কারখানার মূল ফটক ঠেলে একটি গাড়ি ঢুকে পড়ে। এরপরই ঘটে বিস্ফোরণ। এতে দুজন আহত হয়। পরে ঘটনাস্থলে স্থানীয় এক ব্যবসায়ীর বিচ্ছিন্ন মাথা পাওয়া যায়। মাথাটি একটি খুঁটির সঙ্গে ঝোলানো অবস্থায় ছিল। ঘটনাস্থলে আরবি লেখা একটি পতাকা পাওয়া গেছে বলে জানায় দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
তদন্ত কর্মকর্তারা জানান, নিহত ওই ব্যবসায়ীকে বাইরে কোথাও হত্যা করে মাথা ও শরীর আলাদা করে সেখানে নেওয়া হয়েছিল, নাকি হামলার পর কারখানা প্রাঙ্গণের কোথাও তাঁকে হত্যা করা হয়েছে, সে বিষয়ে তাঁরা তখন পর্যন্ত নিশ্চিত নন।
হামলার ঘটনায় ইয়াসিন সালেহি নামের ৩৫ বছরের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বেরনাদ ক্যাজনভ বলেন, সালেহির বিষয়ে কয়েক বছর ধরেই জানত নিরাপত্তা বাহিনী। তাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদও করা হয়েছিল। কিন্তু তার বিরুদ্ধে কোনো সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের অভিযোগ ছিল না। তবে হামলাকারী একজন নাকি দুজন, তা নিশ্চিত করা যায়নি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, সন্দেহভাজন সালেহি কট্টর সুন্নিপন্থী সালাফি আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত ছিল বলে জানা গেছে।
হামলার সময় ব্রাসেলসে ছিলেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট ফ্রাঁসোয়া ওলাঁদ। তিনি বলেন, কোনো সন্দেহ নেই, এটা সন্ত্রাসী হামলা। পুরো কারখানাটি উড়িয়ে দেওয়াই ছিল ওই হামলার লক্ষ্য।
ফ্রান্স উপর্যুপরি সন্ত্রাসী হামলার কারণে বেশ কিছুদিন ধরে সতর্ক অবস্থায় রয়েছে। প্রায় ছয় মাস আগে রাজধানী প্যারিসে রম্য সাময়িকী শার্লি এবদোর কার্যালয়ে হামলা চালিয়ে সাংবাদিক, কার্টুনিস্টসহ বেশ কয়েকজনকে হত্যা করে জঙ্গিরা। এ ঘটনার এক সপ্তাহের মধ্যে প্যারিস এবং এর আশপাশের এলাকায় আরও কয়েকটি সন্ত্রাসী হামলা হয়। সব মিলিয়ে ওই সপ্তাহের হামলায় নিহত হয় ১৭ জন।
তবে ফ্রান্সে সন্দেহভাজন ইসলামী জঙ্গিদের হাতে কোন ব্যক্তির শিরñেদের ঘটনা এ প্রথম। যেভাবে হত্যা করা হয়েছে তাতে সিরিয়া ও ইরাকের জঙ্গি গ্রুপ আইএসের হামলার নমুনাকেই মনে করিয়ে দেয়।
এদিকে একইদিন ফ্রান্স ছাড়াও তিউনিসিয়া ও কুয়েতেও হামলা চালানো হয়। তিউনিসিয়ার একটি হোটেলে হামলায় ৩৯ জন এবং কুয়েতের আত্মঘাতী হামলায় ২৭ জন নিহত হয়েছে।