প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদা
প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদা

আমি দেখি না কোথায় লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নেই : সিইসি

প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদা বলেছেন, নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড আছে। নির্বাচনী পরিস্থিতিও কমিশনের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। সব দলের প্রার্থী সমান সুযোগ পাচ্ছেন।

মঙ্গলবার চট্টগ্রাম বিভাগের নির্বাচনী কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় সিইসি এসব কথা বলেন। নগরীর কাজীর দেউড়ির ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন হলে এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।

তিনি আরও বলেন, ‘একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রেকর্ডসংখ্যক প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। যাচাই-বাছাই শেষে প্রতি আসনে গড়ে ৬ জন করে অর্থাৎ ১ হাজার ৮শ’ জনের বেশি প্রার্থী মাঠে রয়েছেন। নির্বাচনী এলাকাগুলোতে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। এত কিছুর পরেও প্লেয়িং ফিল্ড নেই কীভাবে? আমি দেখি না কোথায় লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নেই।

তিনি বলেন, নির্বাচন একটি খেলার মতো। এতে একপক্ষ জিতবে আরেক পক্ষ হারবে- এটাই নিয়ম। তবে নির্বাচন নিয়ে সহিংসতা কারও কাম্য নয়। নির্বাচন-সংক্রান্ত যে কোনো অভিযোগ রিটার্নিং অফিসার, সহকারী রিটার্নিং অফিসারসহ সংশ্লিষ্টদের কাছে জমা দেয়ার জন্য প্রার্থীদের প্রতি পরামর্শ দেন তিনি।

নিরপেক্ষভাবে সবদলের প্রতি সমান দৃষ্টিতে কাজ করার জন্য মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে সিইসি বলেন, পাঁচ বছর পরপর জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচন কমিশন এ দায়িত্ব মাঠপর্যায়ের প্রশাসনের মাধ্যমে সম্পাদন করে থাকে।

সভায় নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শাহাদাত হোসেন চৌধুরী বলেন, চট্টগ্রাম বিভাগের ৫৮টি আসনে ৫৫৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। দুই কোটিরও বেশি ভোটার এ জনপদে। সব ভোটার যাতে নির্বিঘ্নে কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিয়ে বাড়ি ফিরতে পারে এ জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সতর্ক থাকতে হবে। ইতিমধ্যে ছোটখাটো সহিংসতা ঘটেছে। আমরা সহিংসতা চাই না, চাই সুষ্ঠু নির্বাচন। নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করে অতিউৎসাহী হয়ে এমন কোনো কাজ না করার জন্য নির্বাচনী কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন তিনি।

ইভিএম নিয়ে এই কমিশনার বলেন, চট্টগ্রাম-৯ আসনের সব কটি কেন্দ্রে এবার ইভিএমের মাধ্যমে ভোটগ্রহণ করা হবে। প্রচলিত পদ্ধতির চেয়ে ইভিএমের মাধ্যমে ভোট প্রদান অনেক সহজ। হয়তো এমন একদিন আসবে আমরা আর প্রচলিত পদ্ধতিতে ভোট দেব না। সবাই ইভিএমে ভোট দিতে আগ্রহ দেখাবে। নির্বাচন কমিশনের সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ বলেন, কক্সবাজার ক্যাম্পে ১০ লাখ রোহিঙ্গা আছে। ক্যাম্প থেকে যেন কোনো রোহিঙ্গা বের হতে না পারে সে বিষয়ে কঠোর নজরদারি রাখতে হবে। নির্বাচনের দিন রোহিঙ্গা ক্যাম্প সিল করে দেয়া হবে। কারণ রোহিঙ্গাদের ভাড়া করে ভোট দেয়ার সম্ভাবনা আছে। এ বিষয়ে রোহিঙ্গাবিষয়ক কমিশনারসহ সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেওয়া আছে।

তিনি বলেন, ২১ ডিসেম্বর থেকে প্রার্থী ছাড়া অন্যদের বৈধ অস্ত্র নিকটস্থ থানা কিংবা ট্রেজারিতে জমা দিতে হবে। এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা শাখায় নিদের্শনা দেওয়া হয়েছে।

তিন বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে ম্যাজিস্ট্রেট থাকবে জানিয়ে ইসি সচিব বলেন, পর্যাপ্ত ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগের জন্য জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া নির্বাচনকালীন ৪ দিনের জন্য জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটরা মাঠে থাকবেন।

পুলিশ বাহিনীর উদ্দেশে ইসি সচিব বলেন, পরিস্থিতি খারাপ হওয়ার আগে ব্যবস্থা নিতে হবে। ম্যাজিস্ট্রেটের জন্য অপেক্ষা করবেন না। তখন পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে।

চট্টগ্রাম বিভাগের কুমিল্লা, ফেনী, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেড জোন। সেখান থেকে অনেক বেশি অভিযোগ পাচ্ছি। সংঘাত এড়াতে রিটার্নিং কর্মকর্তাসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সজাগ থাকতে হবে। প্রথমবারের মতো গ্রামপুলিশকেও নির্বাচনী কাজে ব্যবহার করা হবে।

চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার আবদুল মান্নানের সঞ্চালনায় নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ে সিইসিকে অবহিত করেন নির্বাচনী কাজে নিয়োজিত মাঠ কর্মকর্তারা। এতে সব কর্মকর্তারা নির্বাচনী পরিবেশ সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ আছে বলে জানান। তবে যেসব সহিংসতার অভিযোগ আসছে এর বেশির ভাগই সত্যতা মিলছে না। ঘটনা যা ঘটে তার চেয়ে বেশি অতিরঞ্জিত করে অভিযোগ দেয়া হচ্ছে বলেও তারা সিইসিকে অবহিত করেন।

এতে সেনা ও নৌ বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ছাড়াও কোস্টগার্ড কর্মকর্তা, চট্টগ্রাম অঞ্চলের বিভিন্ন জেলার জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।