Sheersha Media

ব্রেকিং নিউজ

ভোর ৫:২০ ঢাকা, বুধবার  ২১শে নভেম্বর ২০১৮ ইং

“আমি থাকবো না, চলে যাবো”

জনপ্রিয় লেখক অধ্যাপক ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল বলেছেন, আপনাদের যদি সমস্যা হয়, তাহলে আমি থাকবো না। চলে যাবো। তবে যাওয়ার আগে দেখে যেতে চাই আপনারা মাথা তুলে দাঁড়িয়েছেন।

জাফর ইকবাল বলেন, আগেও এখান থেকে আমাদের তাড়ানোর চেষ্টা করা হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের বিরোধীরা সেটা করেছে। আমি তাদের কাছে মাথা নত করিনি। এখন চলে গেলেও সান্ত্বনা থাকবে, মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের দাবিদারদের সময়েই চলে গেলাম। এখন গেলে যে সরকার যুদ্ধাপরাধীর বিচার করে তাদের কাছে মাথা নিচু করে বিদায় নেয়া হবে।
ছাত্রলীগের হামলার প্রতিবাদে সোমবার দুপুরে শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের প্রতিবাদ সমাবেশে কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের শিক্ষক জাফর ইকবাল ক্ষোভ, অপমান আর কষ্ট নিয়ে এ কথা বলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যবিরোধী আন্দোলনরত ‘মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ শিক্ষক পরিষদ’ এই সমাবেশের আয়োজন করে।
জাফর ইকবাল বলেন, সব সময় বলা হয়, আমি এই বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছি।রাজনীতি করছি। এই দম্পত্তি চলে গেলেই ভালো। এতো অপমান নিয়ে থাকা যায় না।একবার চলে যেতেও চেয়েছিলাম। কিন্তু শিক্ষার্থীরা একটা পরিবেশ তৈরি করলো যে জন্য আর যাওয়া গেলো না।
তিনি বলেন, আপনাদের দাবির প্রতি সমর্থন থাকলেও ওইসব কারণে আমি আসতাম না। কিন্তু যখন শিক্ষকদের ওপর হামলা করা হলো, তখন আর বসে থাকতে পারলাম না।আমি একমাত্র মানুষ যাকে বিএনপি, জামায়াত, জাতীয়পার্টি, হেফাজত, বাম সংগঠনগুলো একযোগে অপছন্দ করে। এখন আওয়ামী লীগও অপছন্দ করে।
জাফর ইকবাল বলেন, শরীরে আঘাত লাগলে সেরে যায়।শরীরের ব্যথা ভালো হয়, কিন্তু মনের ব্যথা ভালো হয় না। আমাদের মনে আঘাত লেগেছে। আমাদের শিক্ষকদের গায়ে হাত তোলা হয়। অথচ সবাই বসে বসে সে দৃশ্য দেখে।কেউ প্রতিবাদ করে না।
আন্দোলন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ক্লাস পরীক্ষা সব কিছু ঠিকঠাক মতো নেয়া হচ্ছে, আবার আন্দোলনও হচ্ছে, এদেশে এভাবে কখনো দাবি আদায় হয় না। এমন অহিংস আন্দোলন কর্মসূচি দেখে মহাত্মা গান্ধীও লজ্জা পেতেন।  এই আন্দোলন কর্মসূচির বিরুদ্ধেই ছাত্রলীগকে লেলিয়ে দেয়া হয়েছে। শিক্ষকদের উপর হামলা করা হয়েছে।
ছাত্রলীগের হামলার প্রতিবাদে শাবিতে সোমবার সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত কর্মবিরতি পালন করেন উপাচার্যবিরোধী আন্দোলনরত শিক্ষকরা। ছিলো। কর্মবিরতি শেষে তারা মিছিল ও সমাবেশ করেন। বিশ্বিদ্যালয়ের ক্যান্টিন থেকে মিছিলটি শুরু হয়ে উপাচার্যের কার্যালয়ের সামনে সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।
সমাবেশে ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ শিক্ষক পরিষদ’ নেতাদের মধ্যে অধ্যাপক সৈয়দ সামসুল আলম, অধ্যাপক ইয়াসমিন হক, অধ্যাপক শরীফ মোহাম্মদ শরাফউদ্দিন, অধ্যাপক তুলসী কুমার দাস, অধ্যাপক আনোয়ারুল ইসলাম দিপু, আব্দ­ুল্লাহ আল শোয়েব, এমদাদুল হক, মোস্তফা কামাল মাসুদ, আল আমিন রাব্বীও সৌরভ রায় প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।