ব্রেকিং নিউজ

রাত ১২:৫৭ ঢাকা, মঙ্গলবার  ২৩শে অক্টোবর ২০১৮ ইং

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, ছবিঃ সংগৃহীত

‘আমার অ্যাটর্নি জেনারেল নাই’

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার অ্যাটর্নি জেনারেল জেফ সেশন্সের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় তোপ দেগেছেন।

বিবিসি জানিয়েছে, মঙ্গলবার হিল ডট টিভিকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প সেশন্সকে কটাক্ষ করে বলেন, ‘আমার কোনো অ্যাটর্নি জেনারেল নেই। এটি খুবই দুঃখজনক।’

যুক্তরাষ্ট্রের ২০১৬ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রাশিয়ার হস্তক্ষেপ নিয়ে চলমান তদন্ত থেকে সেশন্সের সরে যাওয়ার পর অ্যাটর্নি জেনারেলের উদ্দেশে এটিই ট্রাম্পের সবচেয়ে ক্ষিপ্র মন্তব্য। রুশ সংযোগ তদন্ত থেকে সেশন্সের পদত্যাগে ‘খুবই হতাশ’ হয়েছেন বলে জানিয়েছেন তিনি।

গত বছরের মার্চে রুশ সংযোগ তদন্ত কমিটি থেকে সরে দাঁড়ান সেশন্স। সাক্ষাৎকারে অভিবাসন বিষয়ে সেশন্সের কর্মকাণ্ডেও নিজের অসন্তুষ্টির কথা আড়াল করেননি মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

অ্যাটর্নি জেনারেলকে বহিষ্কারের চিন্তা করছেন কিনা, এমন প্রশ্নের জবাবে প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘আমরা দেখব কী করা যায়। অনেকেই আমাকে এটা করতে বলছেন। কিছু বিষয়কে আমি নিজের মতো চলতে দিতে চাই। কিন্তু তিনি যা করেছেন তা সত্যিই অনুচিত ছিল।’

অভিবাসন এবং অন্যান্য ইস্যুতেও সেশন্সের কার্যক্রমে তিনি ‘খুশি নন’ বলে জানিয়েছেন ট্রাম্প। অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে নিয়োগের সময় সেশন্সের পারফরম্যান্স ‘খুবই দুর্বল’ ছিল বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

ট্রাম্পের এসব মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় সেশন্স কিছু বলেননি বলে জানিয়েছে বিবিসি। সংবাদমাধ্যমটি বলছে, দায়িত্বরত কোনো প্রেসিডেন্টের পক্ষে তার অ্যাটর্নি জেনারেলকে আক্রমণ করার ঘটনা বেশ অস্বাভাবিক। এর মাধ্যমে ট্রাম্প আইনি প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপের চেষ্টা করছেন বলেও অভিযোগ সমালোচকদের।

গত মাসেও সেশন্সের বিরুদ্ধে সমালোচনার তীর ছুড়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। সে সময় ট্রাম্প নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর অ্যাটর্নি জেনারেলকে চাকরিচ্যুত করতে চাইলে তাতে সমর্থন দেয়া হবে বলে ইঙ্গিতও দিয়েছিলেন প্রভাবশালী দুই রিপাবলিকান সিনেটর।

যদিও বেশ ক’জন রিপাবলিকান মার্কিন গণমাধ্যম পলিটিকোকে বলেন, অ্যাটর্নি জেনারেলকে সরিয়ে দেয়ার যে কোনো চেষ্টাকেই ‘বাজে পদক্ষেপ’ হিসেবে দেখা হবে। আর এমনটা হলে সেশন্সের পাশে থাকবেন বলেও জানিয়েছেন তারা। ট্রাম্পের আগের সমালোচনার কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছিলেন সেশন্স।

তিনি বলেছিলেন, ‘যতক্ষণ আমি অ্যাটর্নি জেনারেল, বিচার বিভাগের কর্মকাণ্ড রাজনৈতিক বিবেচনার দ্বারা অন্যায্যভাবে প্রভাবিত হবে না।’ প্রথম দিক থেকেই ট্রাম্পের নির্বাচনী প্রচারণার সমর্থক ছিলেন সেশন্স। রিপাবলিকানদের জয়ের পর ‘আনুগত্যের পুরস্কার’ হিসেবে মেলে যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আইনি কর্মকর্তার পদ। তার পরও রুশ তদন্ত থেকে সরে যান অ্যাটর্নি জেনারেল।