ব্রেকিং নিউজ

বিকাল ৫:২৩ ঢাকা, মঙ্গলবার  ১৭ই জুলাই ২০১৮ ইং

খালেদা জিয়া

‘আমাকে রাজনীতি থেকে সরাতে নীলনকশা চলছে’

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় আত্মপক্ষ সমর্থনে নিজের বক্তব্য তুলে ধরেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর বকশীবাজারের আলিয়া মাদ্রাসায় স্থাপিত বিশেষ জজ আদালত-৫-এ হাজির হয়ে তিনি নিজের বক্তব্য তুলে ধরেন।

আদালতে খালেদা জিয়া বলেন, ‘আমাকে রাজনৈতিক অঙ্গন থেকে সরাতে এবং নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণা করতে নীলনকশা চলছে। বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় সে বিষয়ে ইতিমধ্যেই রিপোর্ট, মতামত ও বিশ্লেষণ প্রকাশিত হয়েছে।’

সাবেক এ প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি জনগণের মৌলিক মানবিক অধিকার এবং বিচার বিভাগ ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকে নিশ্চিত করার চেষ্টা করেছি। দেশকে মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত করার নিরলস প্রয়াসে কখনো বিরতি দেইনি। আত্মপ্রচারের উদ্দেশ্য আমি এসব কথা বলছি না। আমার এই অবস্থান, ভূমিকা ও অবদানের বিনিময়ে বাড়তি কোনো সুবিধা বা মর্যাদা দাবি করার কোনো অভিপ্রায়ও আমার নেই। আমি নিজেকে আইন ও বিচারের ঊর্ধ্বেও মনে করি না। আমি শুধু এটুকু বলতে চাই যে, একই ধরণের মামলায় অভিযুক্ত হয়েও আরেকজন নেত্রী যে-সব সুবিধা ভোগ করেছেন, আমি কখনো আদালতের কাছে তেমন সুবিধা দাবি করিনি। আমি দেশের একজন সাধারণ সিনিয়র সিটিজেনের প্রাপ্য অধিকারটুকু পেলেই খুশি।’

‘আইনসম্মতভাবে ন্যায়বিচার ছাড়া আদালতের কাছে আমার চাইবার আর কিছু নেই। আজ আমার প্রতি যে ধরণের আচরণ করা হচ্ছে তা আমার অবস্থান ও ভূমিকার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কিনা এবং এর মাধ্যমে আমার প্রতি কোনো বৈষম্য করা হচ্ছে কিন্তু সেটাও আদালতের বিবেচনার বিষয় বলে আমি মনে করি। আমার মাঝে মাঝে মনে হয়, বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর হাতে কোনো এক জাদুর কাঠি আছে। সেই জাদুর কাঠির ছোঁয়ায় তার বিরুদ্ধে দায়ের করা সকল মামলা তিনি সরকারে আসার পর একে একে উঠে গেলো অথবা খারিজ হয়ে গেলো। আমাদের আর কারো হাতে তেমন কোনো যাদুর কাঠি নেই। কাজেই একই সময়ে আমাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাগুলো একের পর এক সচল হয়েছে ও গতিবেগ পেয়েছে।’

আদালতকে তিনি বলেন, ‘মামলার তদন্ত ও বিচারকাজ চলার সময় মন্ত্রিসভার অনেক সদস্য এবং শাসক দলের কোনো কোনো নেতা আমাকে দোষী সাব্যস্ত করে বক্তব্য দিয়েছেন। আমাকে অভিযুক্ত করে বিরূপ প্রচারণা চালিয়েছেন। যেন তারা মামলার রায় কি হবে তা আগাম জানেন। অথবা তারা তাদের বক্তব্যে আদলতকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করেছেন। তদন্ত ও বিচারাধীন বিষয়ে ক্ষমতাসীনদের এমন অপপ্রচার আদালত অবমাননার শামিল। এখানেই শেষ নয়, মামলার রায়ে আমার সাজা হবে এবং আমাকে কাশিমপুর কারাগারে রাখা হবে বলে ইতিমধ্যে কোনো কোনো মন্ত্রী প্রকাশ্যে ঘোষণা করেছেন। শাসক দলের কোনো কোনো নেতা হুমকি দিয়ে যাচ্ছেন, আমাকে রাজনীতির অঙ্গন থেকে বিদায় করে দেয়া হবে।’

তৃতীয় দিনেও নিজের বক্তব্য শেষ না করে খালেদা জিয়া ক্লান্তি ও অসুস্থতার কথা জানিয়ে পরবর্তী তারিখে বাকি বক্তব্য উপস্থাপনের অনুমতি চাইলে বিচারক মো. আখতারুজ্জামান তা মঞ্জুর করে ৯ নভেম্বর দিন ধার্য করেন।