ব্রেকিং নিউজ

রাত ১:২২ ঢাকা, শনিবার  ২২শে সেপ্টেম্বর ২০১৮ ইং

আমাকে খুশি করতে আমার নির্বাচনী এলাকায় আলাদা প্রকল্প নেওয়ার দরকার নেই: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে প্রকল্প গ্রহণে প্রকৌশলীদের আরো মনোযোগী হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। প্রকল্প দ্রুত সম্পন্নের আহবান জানিয়ে তিনি বলেছেন, প্রবৃদ্ধি ৭ ভাগে উন্নীত করতে চাই। এজন্য যেসব প্রকল্প চলমান রয়েছে সেগুলো দ্রুত শেষ করতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ সকালে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশের (আইইবি) ৫৬তম কনভেনশনে প্রধান অতিথির ভাষণে একথা বলেন।
সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক আবদুস সবুরের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আইইবি সভাপতি মো.কবির আহমেদ ভূঞা। ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন প্রকৌশলী আমিনুর রশিদ চৌধুরী।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘শুধু খরচ বাড়ানোর জন্য নয় এবং প্রকল্প যাতে অর্থ সাশ্রয়ী হয়,সাধারণের উপকারে আসে, সে বিবেচনায় পরিকল্পনা প্রণয়ন করে তারপর প্রকল্প গ্রহণ করতে হবে।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মানুষের যেন কষ্ট না হয়,মানুষ যেন একটু ভালভাবে বাঁচতে পারে সেভাবে প্রকল্প প্রণয়ন করতে হবে।’
প্রকল্প গ্রহণের আগেই সঠিক পরিকল্পনা প্রণয়ন করে প্রকল্পের ভালো মন্দ বিবেচনা করে দেখতে হবে। জমি অব্যহৃত রাখা যাবে না, অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি ফসল উৎপাদনও নিশ্চিত করতে হবে বলে প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী আইইবি স্বর্ণপদক ২০১৫ প্রদান করেন। এবারে প্রকৌশলী শিল্পে উৎকর্ষ সাধনের স্বীকৃতি স্বরূপ আইইবি স্বর্ণপদক ২০১৫ পেয়েছেন যৌথভাবে প্রকৌশলী অধ্যাপক ড.আ ম ম শফিউল্লাহ এবং আইইবি’র সাবেক সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী মো. নুরুল হুদা।
প্রধানমন্ত্রী বক্তৃতায় প্রকল্প গ্রহণের ক্ষেত্রে তাঁর এলাকার কিছু তিক্ত অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, সব উপজেলাকে সমান গুরুত্ব দিয়ে পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সবাই দাবি করেন। আমারও কিছু দাবি আছে। দেশের জন্য কাজ করুন।
বেশি খরচে অপ্রয়োজনীয় কাজ করা হচ্ছে বলে আক্ষেপ করে কম খরচে প্রয়োজনীয় প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়নেরও আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। খরচ বাড়ানোর পরিকল্পনা না করে কমানোর পরিকল্পনা করতে বলেন তিনি।
শেখ হাসিনা বলেন, প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রিপরিষদের এক নম্বর সদস্য। তাছাড়া আমি একজন এমপিও। তাই নিজের এলাকায় আমার দায়িত্ব আমি পালন করি। সেখানে আমাকে খুশি করতে আলাদা করে কোনো প্রকল্প নেওয়ার দরকার নেই।
তিনি বলেন, এক সময় সবদিক দিয়ে বঞ্চিত ছিলাম। এখন সবাই দেওয়ার জন্য ব্যস্ত থাকেন। এখন তাই পাওয়ার যন্ত্রণায় আছি। প্রধানমন্ত্রীর এলাকা বলে সবকিছু দিতে হবে, এ ‘আদিখ্যেতা’ বন্ধ করতে হবে।
আমাদের সম্পদের সীমাবদ্ধতা রয়েছে- এ কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের উন্নয়ন এবং উৎপাদন কর্মকা-ে প্রকৌশলীরাই মূখ্য ভূমিকা পালন করে থাকেন। রাস্তা-ঘাট, ব্রিজ-কালভার্ট, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ঘর-বাড়ি, মিল-কারখানা সবকিছুর নির্মাণ ও স্থাপনের সঙ্গে আপনারা সম্পৃক্ত। পাশাপাশি, জ্বালানি এবং বিদ্যুৎ উৎপাদন ও বিতরণ, পানি সরবরাহের মত সেবাধর্মী সকল কাজও আপনারাই সম্পাদন করে থাকেন।
তিনি প্রকৌশলীদের কর্মদক্ষতা এবং আন্তরিকতার উপর নির্ভর করে দেশ দ্রুত উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করে তাঁর সরকারের সময়ে দেশের বিভিন্ন উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, দীর্ঘ ২১ বছর পর ১৯৯৬ সালে সরকার পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণের পর আমরা দেশের উন্নয়নের চাকাকে আবার সচল করি।
১৯৯৬ থেকে ২০০১ সাল ছিল বাংলাদেশের জন্য স্বর্ণযুগ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৯৬ সাল থেকে ২০০১ পর্যন্ত সত্যিকার অর্থে বাংলাদেশের উন্নয়ন হয়েছে। ওই সময় রাস্তা-ঘাট, পুল-কালভার্ট নির্মাণ করেছি, বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়িয়েছি। ১১টি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার জন্য ১৯৯৬ সালে আইন করেছিলাম। বঙ্গবন্ধু সেতুতে প্রথমে রেললাইন প্রকল্প ছিলো না। আমরা ক্ষমতায় আসার পর সেখানে রেললাইন, গ্যাসলাইন,বিদ্যুৎ সংযোগ স্থাপন করেছি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, এরপরের সরকার দেশকে পিছিয়ে নিয়ে গেছে। অবশ্য আমরা যে কাজ শুরু করেছিলাম, অন্যদের সময়ে তার কিছু কিছু শেষ হওয়ায় আমাদের কাজের ফিতা কেটে অন্যরা বাহবা নিয়েছেন।
শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের প্রতিটি অর্জনের পেছনে রয়েছে ত্যাগ। এ ত্যাগকে শ্রদ্ধা জানাই। দেশের সমৃদ্ধিতে এ ত্যাগের ইতিহাস আমাদের পথ দেখাবে।
বাংলাদেশকে আমরা উন্নত করতে চাই, সমৃদ্ধ করতে চাই উল্লেখ করে উন্নয়নের জন্য প্রকৌশলীদের মেধা-দক্ষতাকে কাজে লাগানোর আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, অবহেলিত মানুষের ভাগ্যোন্নয়নে আমরা কাজ করছি। দেশের অর্থনীতি গতিশীল ও শক্তিশালী করতে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। উন্নত-সমৃদ্ধশালী বাংলাদেশ গড়তে যা কিছু করা দরকার, সরকার তা করবে।
তিনি প্রকৌশলীদের উদ্দেশ্যে বলেন, ৯৬ পরবর্তি সরকারে থাকার সময় আপনাদের এই ইনস্টিটিউিশনের জন্য আমরা ১০ বিঘা জায়গা দিয়েছিলাম। আইইবি ভবন শুরুর প্রথম পর্যায়ে ৫ কোটি টাকা এবং গত মেয়াদে ২য় পর্যায়ের উর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণের জন্য প্রায় ২৩ কোটি দিয়েছি। আওয়ামী লীগ সরকার মেঘনা-গোমতি সেতুর পশ্চিম পাশে ইঞ্জিনিয়ারিং স্টাফ কলেজের জন্য ৭২ বিঘা জমি নামমাত্র মূল্যে দিয়েছে। ২য় পর্যায়ের নির্মাণ কাজের জন্য ২০১৩ সালে প্রায় ২৩ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে। আইইবি প্রাঙ্গণে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিফলক নির্মাণের জন্য এলজিইডির মাধ্যমে ৩ কোটি টাকা প্রদান করা হয়েছে। একই সঙ্গে তাঁর সরকার পূর্বাচলে আইইবি’র জন্য ২ বিঘা জমি বরাদ্দ এবং আইইবি খুলনা ও চট্টগ্রাম কেন্দ্রের জন্য জমি বরাদ্দ প্রদান করেছে বলে জানান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, তৎকালীন বিআইটিগুলোকে আমরা প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরিত করেছি। আমরা ১৯৯৬-২০০১ মেয়াদে ১১টি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করি। গত মেয়াদে ৭টি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করা হয়েছে। এসব বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রিধারীরা বিজ্ঞান ও কারিগরি বিষয়ে দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে উঠছে।
তিনি বলেন, প্রকৌশলীরা যেসব সংস্থার প্রধান এ ধরনের প্রতিষ্ঠান যেমন পিডব্লিইডি, সড়ক ও জনপথ বিভাগ, স্থানীয় সরকার ও প্রকৌশল অধিদপ্তর, রেলওয়ে, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষসহ ৭টি প্রকৌশল সংস্থার প্রধানকে গ্রেড-১ পদর্মদা দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন,বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি-নির্ভর সমাজ গড়তে আমরা একটি বিজ্ঞানভিত্তিক যুগোপযোগী শিক্ষানীতি প্রণয়ন করেছি। এতে বিজ্ঞান, কারিগরি ও প্রযুক্তি শিক্ষাকে বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হয়েছে।
শেখ হাসিনা বলেন, এক সময় বাংলাদেশ শোষিত ছিল, বঞ্চিত ছিল। আমরা সে স্থান থেকে দেশকে উন্নয়নের পথে নিয়ে এসেছি। ‘দেশের প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ৫৫ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ৫৫ শতাংশে উন্নীত করা সহজ কথা নয়,তার ওপর যখন বিশ্বমন্দা চলছে। আমাদের লক্ষ্য, প্রবৃদ্ধি সাত শতাংশে উন্নীত করা। নির্ধারিত সময়েই তা অর্জন করবো।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ২০০৯ সালে আমরা ক্ষমতায় এসে ফের উন্নয়নের কাজ শুরু করি। প্রতিটি জেলায় যাতে বিশ্ববিদ্যালয় হয়, সরকারী না হয় বেসরকারী, আমরা সেই পদক্ষেপ নিয়েছি। বিভিন্ন কোম্পানী করে দিয়ে দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ১৪ হাজার মেগাওয়াটে উন্নীত করেছি। দেশের ৭৫ শতাংশ মানুষ বিদ্যুৎ সুবিধার আওতায় এসেছে। যেসক স্থানে বিদ্যুতের গ্রিডলাইন নাই সেসব স্থানে সোলার প্যানেলের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সুবিধা দেয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন,আমরা পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত থেকে প্রায় ১২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কেনার উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। ভারত-নেপাল-ভূটান-বাংলাদেশ সমন্বিত সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। অপরদিকে মিয়ানমার, চায়না, নেপাল, ভারত, বাংলাদেশ নিয়ে ইকোনমিক করিডোর সৃষ্টি করেছি। আমরা কাজ করে যাচ্ছি দেশের অর্থনীতিটা যেন আরো গতিশীল হয় আরো শক্তিশালী হয়।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভূটান-নেপালের সাথে হাইড্রো ইলেকট্রিসিটি প্রকল্প নিয়ে আলোচনা চলছে। অনেকগুলো ট্রন্সবর্ডার প্রকল্প নিয়ে এখনো আলোচনা চলছে। আমরা ভারত থেকে তেল ক্রয়েরও উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। যেটা আসাম রিফাইনারী থেকে পাইপলাইনে সরাসরি পার্বতীপুর চলে আসবে। তাহলে আমরা উত্তরবঙ্গে উত্তরা ইপিজেড’র সঙ্গে আরো শিল্পাঞ্চল গড়ে তুলতে পারব।
তিনি বলেন,গোটা দেশে ১শ শিল্পাঞ্চল গড়ে তুলছি, ২০৪১ সালের মধ্যে দেশকে একটি উন্নত-সমৃদ্ধ দেশে পৌঁছানোর লক্ষ্যে বিদ্যুতের চাহিদা বিবেচনায় রেখে বিদ্যুতের মহাপরিকল্পনা “পাওয়ার সিস্টেম মাস্টার প্ল্যান-২০১৫” প্রণয়ন চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে বলেও তিনি জানান।
২০২১ সালের মধ্যে ২৪ হাজার মেগাওয়াট এবং ২০৪১ সালের মধ্যে ৩০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা অর্জন করে দেশের সব মানুষকে বিদ্যুৎ সুবিধার আওতায় এনে দক্ষিণ এশিয়ার একটি উন্নত দেশ হিসেবে বাংলাদেশকে প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য নিয়েই তাঁর সরকার কাজ করে যাচ্ছে বলে প্রধানমন্ত্রী মন্তব্য করেন।
প্রকৌশলীদের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমিও তো আপনাদেরই একজন। কারণ, আমি একজন ইঞ্জিনিয়াররে মা। কাজেই আমার কাছে কোনো দাবি করতে হবে না। প্রয়োজন ও দেশের মানুষের চাহিদা অনুসারে সব পূরণ করবো।
তিনি বলেন, প্রত্যেক ক্যাডারকে গ্রেড-১ এর মর্যাদা দিয়েছি। গ্রেড-২ তে অনেকগুলো পদ সৃষ্টি করেছি। গ্রেড-২ তে ৩৯টি পদ সৃষ্টি করা হয়েছে। শতভাগের ওপর বেতন বৃদ্ধি, ১২৩ ভাগ বেতন বৃদ্ধি কেউ কী করতে পেরেছে, বলেও তিনি প্রশ্ন রাখেন।
দেশের প্রচুর বৃষ্টিপাত ও ভূমিকম্পের কথা মাথায় রেখে স্থাপনা গড়ার আহ্বান জানিয়ে প্রে প্রধানমন্ত্রী বলেন, খোলামেলা জায়গা থাকলে বাচ্চারা খেলাধূলা করতে পারে পাশাপাশি জনসাধারণও নি:শ্বাস ফেলার জায়গা পায়। নদী ড্রেজিং এবং বড় স্থাপনার পাশে জলাধার রাখার ও প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা এখন বড় বড় প্রকল্প বাস্তবায়নের সক্ষমতা অর্জন করেছি। আমাদের সেখানে বদনাম দেয়ার চেষ্টা হয়েছিল। অর্থ বরাদ্দ না দিয়েই অর্থ লোপাটের দুর্নাম দেয়ার চেষ্টা হয়। এরসঙ্গে যেহেতু দেশের ভাবমূর্তি জড়িত তাই আমরা চ্যালেঞ্জ হিসবেই পদ্মা সেতুর কাজ নিজেদের অর্থায়নে শুরু করেছি। আমরা প্রমান করেছি, আমরা চাইলে যেকোন অসাধ্যই সাধন করতে পরি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন,গত ৭ বছরে আমরা সুলতানা কামাল সেতু, শহীদ বুদ্ধিজীবী সেতু, চট্টগ্রামে শাহ আমানত সেতু, বরিশালে শহীদ সেরনিয়াবত সেতু এবং রংপুরে তিস্তা সেতুসহ ১৪টি বৃহৎ সেতু নির্মাণ করেছি। ২১ হাজার কিমি নতুন সড়ক ও ৫ হাজার মাঝারি ও ছোট সেতু নির্মাণ করেছি। ঢাকা শহরের দুঃসহ যানজট নিরসনের জন্য আমরা মেট্রোরেল প্রকল্প গ্রহণ করেছি। এয়ারপোর্ট থেকে মাওয়া পর্যন্ত এলিভেটেড এক্সপ্রেস হাইওয়ের কাজ এগিয়ে চলছে। ঢাকা-চট্টগ্রাম, জয়দেবপুর-ময়মনসিংহ-সহ আরও কয়েকটি মহাসড়ককে চার লেইনে উন্নীত করার কাজ শেষ হয়েছে। চালু করা হয়েছে ঢাকা বাইপাস সড়ক। যানজট নিরসনে বনানী ওভার পাস, মিরপুর-এয়ারপোর্ট, কুড়িল-বিশ্বরোড এবং মেয়র মোহাম্মাদ হানিফ ফ্লাইওভার এবং টঙ্গীতে আহসানউল্লাহ মাস্টার উড়াল সেতু, হাতিরঝিল প্রকল্প উদ্বোধন করেছি। তিনি বাংলাদেশকে ২০২১ সালের মধ্যে একটি মধ্যম আয়ের দেশ এবং ২০৪১ সালের মধ্যে একটি উন্নত দেশে পরিণত করার তাঁর সরকারের অঙ্গীকার পুন:ব্যাক্ত করেন।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা,মন্ত্রী পরিষদ সদস্য,সংসদ সদস্য,বিভিন্ন মন্ত্রণালয় দফতর ও বিভাগের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা,উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধিবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।