ওবায়দুল কাদের
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, ফাইল ফটো

আমরা বিজয়ী হবো ইনশাল্লাহ : আ. লীগ’

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ বেশির ভাগ আসনে বিজয়ী হয়ে মুক্তিযুদ্ধের বিজয়ের মাসে বিজয় উপভোগ করবে।

তিনি বলেন, ‘ বিজয়ের মাসে আওয়ামী লীগ বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আরেকটি বিজয় ছিনিয়ে আনবে। ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনেও আমরা বিজয়ী হবো ইনশাল্লাহ।’

ওবায়দুল কাদের আজ রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে দলের প্রচার ও প্রকাশনা উপ-কমিটির উদ্যোগে দেশের সাংস্কৃতিক, ক্রীড়া ব্যক্তিদের নিয়ে নির্বাচনী প্রচার অভিযান শুরুর আগে এক সমাবেশে এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, সারাদেশে নৌকার পক্ষে গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে। আর বিএনপির শুরু হয়েছে গণভাটা। আওয়ামী লীগের এ গণজোয়ার দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনেও লেগেছে।

ওবায়দুল কাদের বলেন, আগামী নির্বাচনে প্রমান হবে দেশের জনগণ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সৎ, সাহসী, বিচক্ষণ নেতৃত্বের সঙ্গে রয়েছে, তারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী শুভ শক্তির সঙ্গে রয়েছে। জনগণ যে সাম্প্রদায়িক অশুভ শক্তি বিএনপি-জামায়াতের সঙ্গে নেই তাও প্রমান হবে।

তিনি বলেন, এ নির্বাচনে আমাদের শপথ হল, একাত্তরের পরাজিত সাম্প্রদায়িক অপশক্তিকে পরাজিত করে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তিকে বিজয়ী করা। একাত্তরে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে আমরা যেভাবে পাক হানাদার বাহিনীকে পরাজিত করেছিলাম সেভাবেই জাতীয় নির্বাচনেও আমরা বিএনপি নেতৃত্বাধীন সাম্প্রদায়িক অশুভ শক্তিকে পরাজিত করব।

কাদের বলেন, বিএনপি খুনীদের দল, দুর্নীতিবাজদের দল, যারা পাঁচবার দুর্নীতিতে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ান হয়েছিল। এ দলের নেতৃত্বে রয়েছে যাবজ্জীবন কারাদন্ডপ্রাপ্ত, লন্ডনে পালতক তারেক রহমান।

তারেক রহমানের নেতৃত্বে ড. কামাল হোসেন, মাহমুদুর রহমান মান্না, সুলতান মনসুর, মোস্তফা মহসিন মন্টু ও কাদের সিদ্দিকীর মত রাজনীতিবিদরা উল্লেখ করে তিনি বলেন, রাজনীতিতে মূল্যবোধ যে কোথায় গিয়ে দাঁড়িয়েছে তাদের দেখলেই বোঝা যায়।

নির্বাচনী প্রচারে অংশ নেয়া বিশিষ্ট ব্যক্তিদের উদ্দেশ্যে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কাদের বলেন, একটি চেতনাকে ধারণ করে আজ প্রখর রোদের মধ্যে দীর্ঘ সময় আপনারা যেভাবে অপেক্ষা করছেন তাতে বোঝা যাচ্ছে আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগ বিজয়ী হবে।

তিনি বলেন, দেশের সাংস্কৃতিক অংগন এখন আর মরা গাঙ নয়, জাতীয় নির্বাচনে নৌকার জোয়ার সাংস্কৃতিক অংগনেও লেগেছে। তাই তারাও আওয়ামী লীগের নির্বাচনী প্রচারে শামিল হয়েছেন।

অনুষ্ঠানে নাট্য ব্যক্তিত্ব সৈয়দ হাসান ইমাম, স্থপতি ইয়াফেস ওসমান, স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শিল্পী মনোরঞ্জন শীল ঘোষাল, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি গোলাম কুদ্দুস, অভিনেতা রাইসুল ইসলাম আসাদ, মাহফুজ আহমেদ, জাহিদ হাসান, চিত্রনায়িকা নুতন, অরুনা বিশ্বাস, অখিনেত্রী রোকেয়া প্রাচী, শমী কায়সার, আজমেরী হক বাধন, সুইটি, তারিন, অভিনেতা শাকিল খান, সাইমন, জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক ফুটবলার আশরাফ উদ্দিন আহমেদ চুন্নু, সঙ্গীত শিল্পী এসডি রুবেলসহ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

পরে সংস্কৃতি কর্মীরা সুসজ্জিত বিশাল আকৃতির পাঁচটি ট্রাকে করে নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নেন। এ সময় মুক্তিযুদ্ধের সময়ের বিভিন্ন দেশাত্মবোধক গান বাজানো হয় এবং বর্তমান সরকারের টানা দশ বছরের বিভিন্ন উন্নয়ন ও অর্জন ও বিএনপি-জামায়াতের আন্দোলনের নামে নানা নাশকতার তথ্য নিয়ে তৈরি লিফলেট বিতরণ করা হয়।

তারা সরকারের উন্নয়ন কর্মকান্ড অব্যাহত রাখা এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনা সমুন্নত রাখার জন্য নৌকা মার্কায় ভোট চান। ট্রাক বহরটি টিএসসি, শাহবাগ, বাংলা মোটর, ফার্মগেইট, মানিক মিয়া এভিনিউ হয়ে ধানমন্ডির ৩২ নম্বরের বঙ্গবন্ধু ভবনের সামনে গিয়ে শেষ হয়।