Sheersha Media

ব্রেকিং নিউজ

রাত ১০:০০ ঢাকা, রবিবার  ১৮ই নভেম্বর ২০১৮ ইং

আমরা চাই আর কেউ কুড়ে ঘরেও বাস করবে না: উন্নত দেশ গড়তে দায়িত্ব পালন করুন: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষুধা ও দারিদ্র্য মুক্ত উন্নত বাংলাদেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যে আত্মবিশ্বাস ও দেশপ্রেমের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করার জন্য তাঁর দপ্তরের কর্মকর্তাদের প্রতি আহবান জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, ‘দারিদ্র্য মুক্ত, সুখী ও সমৃদ্ধশালী বাংলাদেশ গড়ে তোলাই আমাদের লক্ষ্য। তাই সবাইকে আত্মবিশ্বাস এবং দেশপ্রেম নিয়ে সততা ও আন্তরিকতার সঙ্গে নিজ নিজ ক্ষেত্রে দায়িত্ব পালনে সচেষ্ট হতে হবে।’
pm60

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ তাঁর কার্যালয়ের অধীনস্থ বিভিন্ন দপ্তরের বাস্তবায়নাধীন প্রকল্পসমূহের বিগত ৬ মাসের অগ্রগতি পর্যালোচনামূলক সভায় সভাপতিত্বকালে এ কথা বলেন।
বৈঠকের পরে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন।
তিনি বলেন, বৈঠকে আশ্রয়ন প্রকল্প, বিনিয়োগ বোর্ড, অর্থনৈতিক অঞ্চল কতৃর্পক্ষ, রপ্তানী প্রক্রিয়াকরণ জোনসহ বিভিন্ন দপ্তরের উন্নয়ন প্রকল্পসমূহের গত ৬ মাসের কর্মকান্ড পর্যালোচনা করা হয়।
বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী চলমান প্রকল্প সমূহ সফলভাবে দ্রুত সম্পন্ন করার মাধ্যমে দেশের উন্নয়নের গতি ত্বরান্বিত করার আহবান জানান।
দেশে দারিদ্র্যের হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনার ক্ষেত্রে তাঁর সরকারের সাফল্য তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, শুধুমাত্র শহরে নয়, দেশের গ্রাম-গঞ্জ থেকেও দারিদ্র্য দূর করতে হবে।
দেশের সার্বিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে অবকাঠামোগত উন্নয়নের গুরুত্ব তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সকলের আবাসন সুবিধা নিশ্চিত করতেই তাঁর সরকার অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছে।
তিনি বলেন, ‘আমরা চাই এদেশে একজনও গৃহহীন থাকবে না। আর কেউ কুড়ে ঘরেও বাস করবে না।’
প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, সকল প্রতিকূলতা মোকাবেলা করেই সরকার এ লক্ষ্যে একের পর এক বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁর সরকারের নানা সাফল্য তুলে ধরে কর্মসংস্থান সৃষ্টিসহ সহজ শর্তে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের ঋণ প্রদানের তথ্যও তুলে ধরেন।
দেশের স্বাধীনতা অর্জনে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দীর্ঘ সংগ্রামের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জাতির পিতা শুধু দেশকে স্বাধীনতাই এনে দেননি, তিনি মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তি অর্জনের জন্যও বিভিন্ন প্রকল্পের সূচনা করে গেছেন।’
তিনি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠায় তাঁর সরকার দিনরাত কাজ করে যাচ্ছে।’ এর মাধ্যমে মানুষের ন্যূনতম চাহিদার জোগান দেয়াও তাঁর সরকারের লক্ষ্য।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাঁর সরকার বাংলাদেশকে ২০২১ সাল নাগাদ মধ্য আয়ের দেশে পরিণত করতে ইতোমধ্যেই সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, বর্তমানে জনগণের মাথা পিছু আয় বৃদ্ধি পেয়ে এক হাজার ৩১৬ ডলার হয়েছে। একইসঙ্গে সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকান্ডের কারণে গত ৭ বছরে গড়ে সাড়ে ৬ শতাংশ হারে প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে।
শেখ হাসিনা বলেন, তাঁর সরকার সফলভাবে মূল্যাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রেখে উচ্চ প্রবৃদ্ধি অর্জনে সক্ষম হয়েছে।
তিনি উপজেলা পর্যায়ে অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য তাঁর সরকারের গৃহীত মাষ্টার প্লান যথাযথভাবে বাস্তবায়নের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন।
বাংলাদেশের ভৌগলিক অবস্থানকে খুবই গুরুত্বপূর্ণ আখ্যায়িত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ আঞ্চলিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে পূর্ব এবং পশ্চিমের দেশগুলোর সেতুবন্ধ হিসেবে কাজ করতে পারে।
এক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী বিবিআইএন (বাংলাদেশ, ভুটান, ভারত, নেপাল) ‘মটর ভেহিকেল এগ্রিমেন্ট’ এবং বিসিআইএম (বাংলাদেশ, চীন, ভারত, মায়ানমার) অর্থনৈতিক করিডোর প্রতিষ্ঠায় তাঁর সরকারের অগ্রগতির চিত্র তুলে ধরেন।
প্রধানমন্ত্রী বৈঠকে তাঁর দপ্তরের আওতাধীন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রকল্পের অগ্রগতিতে সন্তোষ প্রকাশ করেন।
প্রধানমন্ত্রীকে বৈঠকে জানানো হয়, আশ্রায়ণ প্রকল্পের আওতায় এ পর্যন্ত ১হাজার ৭৪৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ১,৩৯,১৮৮ পরিবারকে পুনর্বাসন করা হয়েছে। একইসঙ্গে এ পর্যন্ত ৬৩০টি গ্রামে নতুন বিদ্যুৎ সংযোগ প্রদান করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বৈঠকে আরো জানান, এখনও দেশে দুই লাখ ৬৮ হাজার পরিবার অতি দারিদ্র্যের মধ্যে বসবাস করছে।
প্রধানমন্ত্রী এসব হতদরিদ্র পরিবারকে দারিদ্র্যের শৃংখল থেকে মুক্ত করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়ার জন্যও সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা প্রদান করেন।
প্রধানমন্ত্রীর মিডিয়া বিষয়ক উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সচিব আবুল কালাম আজাদ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব সুরাইয়া বেগম অন্যান্যের মধ্যে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।