Sheersha Media

ব্রেকিং নিউজ

সন্ধ্যা ৬:৫৮ ঢাকা, বৃহস্পতিবার  ১৫ই নভেম্বর ২০১৮ ইং

আভ্যন্তরীণ কোন্দলে খালেদা জিয়ার সঙ্গে বৈঠকের কথা ফাঁসঃ সিসিটিভিতে শনাক্তঃ১৬

বৃহস্পতিবার রাতে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে খালেদা জিয়া সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে বৈঠক করেন। সূত্র জানিয়েছে, রাতে যারা বৈঠক করেন তারা খালেদা জিয়ার সঙ্গে গ্রুপ ছবিও তোলেন। সিসিটিভির ফুটেজ দেখে সবাইকে শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। রাতের ওই বৈঠকে সাবেক ও বর্তমানে চাকরিরত ২৫ থেকে ৩০ কর্মকর্তা ও কর্মচারী অংশ নেন। একজন যুগ্ম সচিবের নেতৃত্বে আরও ১৫-২০ জনের একটি দল এ বৈঠকে যোগ দেওয়ার কথা ছিল। তবে কর্মকর্তাদের মধ্যে নেতৃত্বে কোন্দল দেখা দেওয়ায় তারা এ বৈঠকে যোগ দেননি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। সিসিটিভি দেখে কর্মকর্তাদের শনাক্ত করা হচ্ছে।

সূত্র জানায়, রাত আনুমানিক সাড়ে ৯টার দিকে সাবেক ও বর্তমান সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ২৫-৩০ জনের একটি দল গুলশানে খালেদা জিয়ার কার্যালয়ের মূল ভবনের গেট দিয়ে ভেতরে প্রবেশ করে। ভেতরে প্রবেশ করেই নেতৃত্ব নিয়ে নিজেদের মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়। এ বৈঠকে যোগ দেওয়ার জন্য ধানমণ্ডিতে একজন যুগ্ম সচিবের নেতৃত্বে ১৫-২০ জনের অন্য একটি দল আসার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। গুলশান কার্যালয়ে আমলাদের বিরোধের খবর জানার পর যুগ্ম সচিবের নেতৃত্বে যাদের আসার কথা ছিল, তারা আর আসেননি। সূত্র আরও জানায়, আমলাদের নিয়ে অনেক বড় বৈঠক করার প্রস্তুতি ছিল বিএনপির। সেটা আর হতে পারেনি। তবে ২৫-৩০ জনকে নিয়ে একটি বৈঠক হয়েছে। সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার রাতে গুলশান কার্যালয়ে সরকারের প্রশাসনে কর্মরত ১৬ কর্মকর্তা-কর্মচারী উপস্থিত ছিলেন, বাকিরা সাবেক। সিসিটিভিতে এদের গুলশান কার্যালয়ে যাওয়ার বিষয়টি পরিষ্কার হয়। তারা হলেন অবসরপ্রাপ্ত যুগ্ম সচিব এ কে এম জাহাঙ্গীর হোসেন, সিনিয়র সহকারী সচিব (ওএসডি) এহসানুল হক, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ব্যক্তিগত কর্মকর্তা (বর্তমানে প্রেষণে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে) বদিউল কবির, বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা ইব্রাহীম মিয়াজী, পাট ও বস্ত্র মন্ত্রণালয়ে কর্মরত নুরুল ইসলাম, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সাবেক প্রশাসনিক কর্মকর্তা আবদুল মান্নান, কেয়ারটেকিং বিভাগের ফরাস হুমায়ুন কবীর, তথ্য মন্ত্রণালয়ের অফিস সহকারী শহীদুল হক, এজি অফিসের কর্মচারী আবদুল মান্নান, পাট ও বস্ত্র মন্ত্রণালয়ের এও নুরুল ইসলাম, বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তির পিও তৌফিকুল ইসলাম, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারী মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম, তথ্য অধিদপ্তরের অফিস সহকারী বিল্লাল হোসেন, আইএমইডির চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারী মুজিবুল হক ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের এও মামুন।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রশাসনের কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী যেন ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে না পারেন সেজন্য তাদের কঠোর নজরদারিতে রেখেছে সরকার। সচিবালয়ে কোনো ধরনের দাবি-দাওয়াকে কেন্দ্র করে একসঙ্গে ৫ জনের বেশি কর্মকর্তা-কর্মচারী একত্র হলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।  সূত্র জানায়, সচিবালয়ে দ্বিতীয় শ্রেণীর কর্মকর্তা এবং তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারীদের দুটি গ্রুপ রয়েছে। এ দুটি গ্রুপের একটির নেতৃত্ব দেন মাহে আলম, খালেক ও বখতিয়ার এবং অন্য গ্রুপের নেতৃত্ব দেন সরকার তোহা, নুরুল ইসলাম ও ইব্রাহীম মিয়াজী। দুই গ্রুপকেই ইন্ধন জোগান বিএনপিপন্থি অবসরপ্রাপ্ত কয়েকজন আমলা। দুই গ্রুপের দ্বন্দ্বের কারণে তারা গত ৬ বছরে চোখে পড়ার মতো কোনো কর্মসূচি পালন করতে পারেননি।

সূত্র জানায়,  প্রশাসনে বিএনপি-জামায়াতপন্থি দুটি গ্রুপকে ঐক্যবদ্ধ করে খালেদা জিয়ার সঙ্গে বৈঠক করানোর দায়িত্ব দেওয়া হয় সাবেক কয়েকজন আমলাকে। সে অনুযায়ী তারা বৃহস্পতিবার উভয় গ্রুপের নেতাদের ডেকে নিয়ে খালেদা জিয়ার গুলশান কার্যালয়ে যান। কার্যালয়ে যাওয়ার পর তাদের মধ্যে কারা নেতৃত্ব থাকবেন তা নিয়ে দ্বন্দ্ব দেখা দেয়। তোহা গ্রুপ ও মাহে আলম গ্রুপ তর্কে জড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে ক্ষুব্ধ এক গ্রুপের লোকেরাই বৈঠকের কথা ফাঁস করে দেন মিডিয়ার কাছে।

সূত্র জানায়, এর আগে বিএনপি চেয়ারপারসনের এক প্রভাবশালী উপদেষ্টার নেতৃত্বে রিটায়ার্ড সিভিল অফিসার্স ফাউন্ডেশন নামের একটি সংগঠন আত্মপ্রকাশ করে। তাদের কয়েকজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে তারা সরকারবিরোধী রাজনৈতিক তৎপরতা চালাচ্ছেন। এরপর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ৩১ জন সাবেক শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তার সচিবালয়ে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করে। পরে থেমে যায় তাদের কাজ।

এর আগে ২০০৮ সালে মাহমুদুর রহমানের বাসায় উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তারা ‘উত্তরা ষড়যন্ত্র’ করেছিলেন। তা সফল হয়নি। পরে ওই কর্মকর্তারা বিপদে পড়েন। বৃহস্পতিবার ঠিক এ রকম আরও একটি ঘটনা ঘটল।