ব্রেকিং নিউজ

দুপুর ২:০২ ঢাকা, মঙ্গলবার  ২২শে মে ২০১৮ ইং

আবারো দেশে অস্থিতিশীলতার আশঙ্কা

মোঃ বজলুল করিম (সাব্বির) সম্পাদকঃ  আওয়ামী লীগ দলীয় সাংসদ আব্দুল লতিফ সিদ্দিকীকে নিয়ে সরকার বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়তে পারে সে আশঙ্কা রবিবার রাতেই করেছিলাম, আর তাই লিখেছিলাম সোমবারের ভিতর ‘লতিফ সিদ্দিকীকে গ্রেফতার কিংবা আত্মসমর্পণ না করলে সরকার বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়ার আশঙ্কা, আর সেটাই হল সরকার ঘরে বাহিরে এখন বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়েছে । গতকালের বিভিন্ন মহলের প্রতিক্রিয়ায় এখনতো মনে হছে দেশে নতুন করে অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের অধিকাংশ দলই আব্দুল লতিফ সিদ্দিকীর গ্রেফতার দাবি সহ সমালোচনা করছে। তাকে গ্রেফতারে হেফাজতে ইসলামের হরতাল কর্মসূচিসহ ২০ দলীয় জোটের বাইরে থাকা ইসলামী দলগুলোও বিভিন্ন কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। জাতীয় সংসদের ভেতরে-বাইরে তার গ্রেফতারের দাবি উঠেছে। সংসদের বিরোধী দল জাতীয় পার্টির এরশাদ সাহেব লতিফ সিদ্দিকী গ্রেফতার না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। ঢাকা ও ঢাকার বাইরে বিভিন্ন আদালতে তার বিরুদ্ধে ৩০ টির মতো মামলা ১২ টি গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি রয়েছে। তারপরও দেশে ফিরেও গ্রেফতার না হওয়ায় দেশবাসীর মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। রাজনৈতিকসহ সর্ব মহলে দেখা দিয়েছে নানা প্রশ্ন ও সন্দেহ ।

hefajat 25-11-2আব্দুল লতিফ সিদ্দিকীকে গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন জাতীয় পার্টির মহাসচিব জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু। একইসঙ্গে লতিফ সিদ্দিকীর সংসদ সদস্য পদ খারিজের দাবি জানান স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য হাজি মোহাম্মদ সেলিম। তাকে গ্রেফতার না করায় ক্ষোভও প্রকাশ করে বলেন, বিমানবন্দরে সাত-আটটি ডিপার্টমেন্ট কাজ করে। তারা কী করল? কেন তাকে গ্রেফতার করা হলো না?

আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী দেশকে বিপদে ফেলতে চান বলে মন্তব্য করেছেন স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুস্তম আলী ফরাজী। তিনি বলেন, লতিফ সিদ্দিকী দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে চান। এসময় তার বিষয়ে জাতীয় সংসদের স্পিকারের রুলিং চান ।

এদিকে লতিফ সিদ্দিকীর গ্রেফতারের দাবিতে হরতালের ডাক দিয়েছে হেফাজতে ইসলাম। সংগঠনটি বুধবারের মধ্যে তাকে গ্রেফতারের সময়সীমা বেঁধে দেয়। অন্যথায় বৃহস্পতিবার সারাদেশে সকাল-সন্ধ্যা হরতাল কর্মসূচি পালন করবে বলে জানানো হয়। একই দাবিতে আজ মঙ্গলবার সারাদেশে বিক্ষোভ কর্মসূচিও ঘোষণা করেছে সংগঠনটি।

লতিফ সিদ্দিকী সুপ্রিম কোর্টে এসেছেন এমন সংবাদে সোমবার দুপুরে সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে বিক্ষোভ মিছিল করেছে বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা।  এসময় মিছিল থেকে লতিফ সিদ্দিকীর গ্রেফতারের দাবি করা হয়।

অপরদিকে আব্দুল লতিফ সিদ্দিকীর গ্রেফতার ও শাস্তির দাবিতে বৃহস্পতিবার দেশব্যাপী সকাল-সন্ধ্যা হরতালের ডাক দিয়েছে সম্মিলিত ইসলামি দলসমূহ। সোমবার দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে ইসলামি দলসমূহের সদস্য সচিব মাওলানা জাফরুল্লাহ খান হরতালসহ দু’দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেন। এছাড়াও তারা বুধবার দেশব্যাপী বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করবে। অন্যদিকে আব্দুল লতিফ সিদ্দিকীর গ্রেফতার ও শাস্তির দাবিতে বৃহস্পতিবার দেশব্যাপী সকাল-সন্ধ্যা হরতালের ডাক দিয়েছে ইসলামী ঐক্যজোট। সোমবার দুপুরে এক বিক্ষোভ মিছিল শেষে তারা এ হরতালের ঘোষণা দেয়।

আব্দুল লতিফ সিদ্দিকীর গ্রেফতার ও শাস্তির দাবিতে আগামী ৫ ডিসেম্বর ঢাকায় মহাসমাবেশ করার ঘোষণা দিয়েছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। সোমবার দুপুরে পূর্ব ঘোষিত বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ শেষে দলের রাজনৈতিক উপদেষ্টা অধ্যাপক আশরাফ আলী আকন এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন।

এদিকে সোমবার দিবাগত রাত ১২ টার মধ্যে আব্দুল লতিফ সিদ্দিকীকে গ্রেফতার করা না হলে মঙ্গলবার দেশব্যাপী হরতাল পালন করবে ন্যাশনালিস্ট ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (এনডিএফ)। সোমবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এ হরতাল কর্মসূচি ঘোষণা করে দলটি।

অন্যদিকে সোমবার দুপুরে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল জানিয়েছেন, সাবেক মন্ত্রী আব্দুল লতিফ সিদ্দিকীকে গ্রেফতার করতে স্পিকারের অনুমতি লাগবে। ওই সময় তিনি বলেন, স্পিকারের অনুমতি ছাড়া তাকে গ্রেফতার করতে পারছে না আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। অন্যদিকে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যের কিছুক্ষণ পরই লতিফ সিদ্দিকীকে গ্রেফতার করতে অনুমতির প্রয়োজন নেই বলে জানিয়েছেন, স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী।

সোমবার রাজধানীতে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত বলেছেন,  লতিফ সিদ্দিকীকে নিয়ে যা করার ছিল তার চেয়ে অনেক বেশি করেছে। তিনি আরও বলেন, আবদুল লতিফ সিদ্দিকীর বিষয়ে সরকার ও আওয়ামী লীগ যা করেছে তা নজিরবিহীন। রাষ্ট্র লতিফকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেনি। আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে। আদালত আইন অনুযায়ী কী ব্যবস্থা নিবে সে ব্যাপারে সরকার কোন ডিরেকশন দিতে পারে না। যেহেতু প্রত্যেকের বিচার পাওয়ার অধিকার আছে সেহেতু্ এটা নিয়ে আপনারা ঘোলাপানিতে মাছ শিকার করার চেষ্টা করবেন না। এটা করে কোনো লাভ হবে না।

hefajat 25-11-1এ দিকে সোমবার বাদ জোহর বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে হেফাজত সংক্ষিপ্ত সমাবেশ শেষে বিক্ষোভ মিছিল বের করে। এ সময় পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তি হয়।এক পর্যায়ে পুলিশের বাধা পেরিয়ে তারা পল্টন মোড়ের দিকে এগিয়ে যায়। এরই মধ্যে বিক্ষোভ মিছিলে এসে যোগ দেয় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ ও ইসলামী ঐক্যজোট বাংলাদেশ। পুরো পল্টন এলাকা মিছিলে মিছিলে সরগরম হয়ে ওঠে। এ সময় তারা পুলিশের বেরিকেড ভেঙে সামনের দিকে অগ্রসর হয়। এতে রাস্তার দুপাশের যান চলাচল ও দোকান-পাট বন্ধ হয়ে যায়। সাধারণ মানুষ এদিক-সেদিক ছোটাছুটি শুরু করেন। মিছিলের সময় দেখা গেছে, সাধারণ পথচারীরা ভয়ে সামনের দিকে যেতে চাচ্ছেন না। তারা সাংবাদিকদের কাছে জানতে চান, আবারো কি হেফাজত মাঠে নেমেছ? এ ছাড়াও গতকাল ঢাকা ও চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভে ফেটে পড়েন তৌহিদি জনতা।

প্রতিক্রিয়া পর্যালোচনা করলে দেখা যায়ঃ  দেশে নতুন করে অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে স্পষ্টত। তাই সরকারকে দ্রুত যথাযথ পদক্ষেপ নেয়া প্রয়োজন। গত বছরের ৫ মে সংঘটিত তাণ্ডব রাজধানীবাসী ভুলে যায়নি, আমি কেন রাজধানীবাসি আবারো সঙ্কিত কখন যে কি ঘটে যায়, আশা করবো কাউকে  অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টির সুযোগ না দিয়ে দ্রুততম সময়ের ভিতর উপযুক্ত সিদ্বান্ত গ্রহনে ভুল করবেনা সরকার।

Like & share করে অন্যকে দেখার সুযোগ দিন