Sheersha Media

ব্রেকিং নিউজ

রাত ৯:৪৮ ঢাকা, মঙ্গলবার  ২০শে নভেম্বর ২০১৮ ইং

ফাইল ফটো

২০ দলের আন্দোলনে মাঠে থাকবে ১৪ দল

আন্দোলনের নামে বিএনপি-জামায়াতকে রাজপথে জ্বালাও পোড়াও করতে দেয়া হবে না বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য এবং কেন্দ্রীয় ১৪ দলের মুখপাত্র মোহাম্মদ নাসিম। তিনি বলেন, বেগম জিয়াকে এদেশে আর হত্যাকান্ড চালাতে দেয়া হবে না। রাজাকার জামায়াতকে সঙ্গে নিয়ে এদেশের নৈরাজ্য ও তান্ডব করেেত আর সুযোগ দেয়া হবে না। জানুয়ারি মাস থেকে কেন্দ্রীয় ১৪ দল মাঠে থাকবে। মোহাম্মদ নাসিম আজ মহানগর নাট্যমঞ্চে গণতন্ত্রী পার্টির জাতীয় সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ সব কথা বলেন।
গণতন্ত্রী পার্টির পভাপতিমন্ডলীর সদস্য ব্যারিষ্টার আরশ আলীর সভাপতিত্বে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন, জাতীয় সমাজ তান্ত্রিক দল (জাসদ) সভাপতি ও তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ বড়ুয়া, বাংলাদেশ শান্তি পরিষদের চেয়ারম্যান মোজাফফর হোসেন পল্টু, বাসদের আহবায়ক রেজাউর রশীদ খান, ন্যাপের সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল হোসেন, গণতন্ত্রী পার্টির সাধারণ সম্পাদক নুরুর রহমান সেলিম প্রমুখ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন।
বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়াকে উদ্দেশ্য করে মোহাম্মদ নাসিম বলেন, স্বৈরাচারের মতো কথা বলবেন না, হুমকি দেবেন না। আপনি কাকে ভয় দেখান? ১৪ দলীয় জোটে যারা আছে তারা সবাই মুক্তিযোদ্ধা। আমাদের ভয় দেখিয়ে লাভ নেই। নির্বাচনের আগে ৩ মাস বাংলার মানুষ আপনার নৈরাজ্য দেখেছে। এক মুহূর্তের জন্যও আপনাদের রাজপথে নামতে দেওয়া হবে না আর। ১৪ দলের নেতাকর্মীরা প্রস্তুত থাকবে। টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া জামায়াত-বিএনপি-রাজাকারদের রাজপথে নামতে দেয়া হবে না।
আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য বলেন, এদেশে নির্বাচন অবশ্যই হবে। তবে ২০১৯ সালের ১ দিন আগেও না। ২০১৯ সালের আগে নির্বাচনের প্রশ্নই আসে না। বেগম জিয়া, নির্বাচনে না এসে আপনি ভুল করেছেন। এখন অপেক্ষা করতে হবে, জনগণের কাছে ক্ষমা চাইতে হবে। জনগণ যদি আপনাকে ক্ষমা করে তাহলে নির্বাচনে আসতে পারবেন।
তিনি বলেন, ৫ জানুয়ারি নির্বাচন না হলে এ দেশে মার্শাল ‘ল’ হতো। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ১৪ দলকে সাথে নিয়ে নির্বাচন করেছেন। খালেদা জিয়া বিদেশীদের উস্কানিতে রাজাকারদের সাথে নিয়ে অপরাজনীতি করেছেন। মানুষ পুড়িয়ে মেরেছেন।
আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় ১৪ দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আপনারা এখন থেকে প্রস্তুত হন, গ্রামে-গঞ্জে, শহরে বন্দরে সব জায়গায় আমাদের থাকতে হবে এবং বিএনপি-জামায়তের সকল ষড়যন্ত্র রুখে দিতে হবে।
তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেন, বাংলাদেশে গণতন্ত্র কারারুদ্ধ নয়। বরং যুদ্ধাপরাধ-জঙ্গীবাদ-রাজাকাররা কারারুদ্ধ। বেগম খালেদা জিয়ার গণতন্ত্রের জন্য কাঁদছেন না। উনার কান্না জঙ্গীবাদীদের জন্য।
তিনি বলেন, বাংলাদেশকে অসাম্প্রদায়িক মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় সমৃদ্ধশালী দেশ বানাতে হলে এদেশে আর কখনও সামরিক সরকার হবে না। আর কখনও রাজাকারদের সাথে নিয়ে কোন সরকার গঠন করতে দেয়া যাবে না।
তথ্য মন্ত্রী বলেন, বেগম খালেদা জিয়া তার পুরনো রাজনীতির কৌশল ছাড়েননি। তিনি নির্বাচনে হেরেছেন, কিন্তু নির্বাচন কোন দিন মেনে নেননি। তিনি অস্বাভাবিক রাজনীতি বেছে নিয়েছেন। মিথ্যাচারের রাজনীতি, ইতিহাস বিকৃতির রাজনীতি, বাংলাদেশে জঙ্গীবাদ লেলিয়ে দেওয়ার রাজনীতি তিনি চর্চা করছেন।
ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন বলেন, বেগম খালেদা জিয়া শুধু আন্দোলনে সফল হতে পারছেন না বলে জামায়াতকে সঙ্গে নিয়ে ষড়যন্ত্র করছেন। তারেক রহমান ইতিহাস বিকৃতি করে জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে।