ব্রেকিং নিউজ

রাত ৩:০৮ ঢাকা, শনিবার  ১৭ই নভেম্বর ২০১৮ ইং

আসছে আন্দোলনের নতুন মোড়

Like & Share করে অন্যকে জানার সুযোগ দিতে পারেন। দ্রুত সংবাদ পেতে sheershamedia.com এর Page এ  Like দিয়ে অ্যাক্টিভ থাকতে পারেন।

 

নতুন নির্বাচনের একদফা দাবিতে আগামী সপ্তাহ থেকে আন্দোলনের নতুন মোড় নিয়ে আসছে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০-দলীয় জোট। এবার অবরোধের পাশাপাশি হরতাল কর্মসূচি পালনের কৌশল পাল্টাবে ২০ দল। আন্দোলনে গতি আনতে অবরোধের সঙ্গে আজ সকাল ৬টা থেকে শুক্রবার সকাল ৬টা পর্যন্ত টানা ৪৮ ঘণ্টার হরতাল ঘোষণা করা হয়েছে। তবে এবার রাজধানীসহ সারা দেশের বিভিন্ন স্পটে শোডাউন করার চিন্তা-ভাবনা চলছে। অবরোধের সঙ্গে গত তিনদিন আগে ৭২ ঘণ্টা হরতাল কর্মসূচি আজ সকাল ৬টায় শেষ হচ্ছে। কেন্দ্রীয় নেতাদেরও রাজপথে থাকার নির্দেশনা আসছে। ঢাকা থেকে দেশকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন করার জন্যও কঠোর বার্তা আসছে বিএনপির নীতি নির্ধারক পর্যায় থেকে। মূলত এর মাধ্যমেই অসহযোগের মতো চূড়ান্ত কর্মসূচিতে চলে যেতে চায় বিএনপি জোট। এ ক্ষেত্রে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও পেশাজীবী সংগঠনকেও ২০ দলের সঙ্গে রাখার জোর তৎপরতা চালানো হচ্ছে। একইভাবে আন্দোলনের সমর্থন আদায়ে দেশি-বিদেশি কূটনীতিকদের সঙ্গেও নানাভাবে যোগাযোগ চলছে। দলীয় সংশ্লিষ্ট সূত্র এ তথ্য জানায়। বিএনপির স্থায়ী কমিটির এক সদস্য জানান, দেশবাসীর প্রত্যাশা অনুযায়ী একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের দাবিতে সংলাপ-সমঝোতার পথে ফিরে না আসলে হরতাল-অবরোধ এমনকি অসহযোগ কর্মসূচি দেওয়া ছাড়া আমাদের বিকল্প কোনো পথ খোলা নেই। আর বেগম জিয়াকে গ্রেফতার করা হলে চূড়ান্ত কর্মসূচি দেওয়া হবে। তবে সরকারের শুভবুদ্ধির উদয় হলে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে চলমান সংকট নিরসনের উদ্যোগ নেবে বলে আমি মনে করি। জানা যায়, আগামী সপ্তাহ থেকে রাজধানীতে হরতাল-অবরোধ কর্মসূচি জোরদারের লক্ষ্যে নতুন কৌশল নির্ধারণ করছেন দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা। কেন্দ্রীয় নেতাদের উপস্থিতিতে হরতালের পক্ষে রাজধানীর নির্ধারিত কিছু স্পটে মিছিল করার চিন্তা-ভাবনাও চলছে। ঢাকা মহানগর বিএনপির ৫৩ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি, সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলরসহ থানা-ওয়ার্ডের নেতাদের মাঠে থাকার জন্য বেগম জিয়ার পক্ষ থেকে কঠোর নির্দেশনাও আসছে। থানা পর্যায়ে বিএনপি, ছাত্রদল, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দলসহ অঙ্গ সংগঠনগুলো পৃথক স্পট নির্ধারণ করে মিছিল-সমাবেশ করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। জানা যায়, চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে থাকা নেতা-নেত্রী ও স্টাফদের গ্রেফতারের আশঙ্কা করছে বিএনপি। তাই খালেদা জিয়াকে চূড়ান্তভাবে নেতা-কর্মী থেকে বিচ্ছিন্ন করার কৌশলের বিপরীতে নতুন করণীয় ঠিক করছেন দলের নীতি-নির্ধারকরা। অবশ্য খালেদা জিয়াকে গ্রেফতার করা হলে সরকার পদত্যাগের এক দফা দাবিতে ‘অসহযোগ’ কর্মসূচি ঘোষণা করার নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে ২০ দলে। সে কর্মসূচি ঘোষণার পর থেকে জোটের নেতা-কর্মী ও সমর্থকরা যার যার অবস্থান থেকে রাজপথে নেমে আসার নির্দেশনা রয়েছে। পাশাপাশি সাধারণ জনগণকেও সব ধরনের সরকারি ট্যাঙ্ বন্ধ করে দেওয়াসহ সব ধরনের সরকারি নির্দেশ অমান্যের কঠোর বার্তাও জানানো হবে। এদিকে চলমান অবরোধ কর্মসূচির পাশাপাশি সারা দেশে স্থানীয়ভাবে জেলা ও মহানগর পর্যায়ে কঠোরভাবে হরতাল পালনের নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে কেন্দ্র থেকে। জানা যায়, ২০-দলীয় জোটনেত্রী খালেদা জিয়া গ্রেফতারসহ যে কোনো পরিস্থিতির জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত। আর এ জন্য তার অনুপস্থিতিতে দল ও আন্দোলন পরিচালনায় কী কী করণীয় তা নির্ধারণ করে রাখা হয়েছে। বিশেষ করে তার গুলশানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে অভিযানের লক্ষ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কোনো সদস্যের প্রবেশের সঙ্গে সঙ্গেই দেশব্যাপী ‘অসহযোগ’ কর্মসূচি ঘোষণার পরিকল্পনা রয়েছে বলে বিএনপির নীতিনির্ধারক পর্যায়ের এক নেতা জানান। চেয়ারপারসনের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেন, তিনি আগামীতে আরও কঠোর আন্দোলনের ব্যাপারে অনড় ও অবিচল রয়েছেন। কাজেই আন্দোলন ছাড়া বিএনপির সামনে আর কোনো বিকল্প নেই। ‘অসহযোগ’ আন্দোলনের ইঙ্গিত দিয়ে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সালাহউদ্দিন আহমেদ গতকাল বলেছেন, সরকার ইতিমধ্যেই রাত ৯টার পর দেশব্যাপী মহাসড়কে বাস চলাচল বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে। অচিরেই সব সরকারি অফিস বন্ধের ঘোষণা দিতেও বাধ্য হবে। গণদাবির বিজয় অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার আদায়ের আন্দোলন থেকে পিছ-পা হবে না ২০-দলীয় জোট। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে দুর্বার আন্দোলন চালিয়ে যেতে আমরা অঙ্গীকারাবদ্ধ।