ব্রেকিং নিউজ

রাত ১০:৪৯ ঢাকা, মঙ্গলবার  ২৫শে সেপ্টেম্বর ২০১৮ ইং

আন্দোলনের গতি বাড়াতে ফের টানা হরতাল আসছে

Like & Share করে অন্যকে জানার সুযোগ দিতে পারেন। দ্রুত সংবাদ পেতে sheershamedia.com এর Page এ Like দিয়ে অ্যাক্টিভ থাকতে পারেন।

 

আন্দোলনের ‘গতি’ আরো বাড়িয়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট। চলমান ৭২ ঘণ্টা হরতাল শেষ হওয়ার আগেই আবারো টানা হরতাল আসছে। আজ হরতালের এ ঘোষণা দেয়া হতে পারে। বিএনপির একাধিক সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার আগেই আন্দোলনের ছক চূড়ান্ত করেছেন বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। সে অনুযায়ী নীতিনির্ধারণী মহলসহ তৃণমূলে এই ছকের নকশা ইতিমধ্যে পৌঁছে দেয়া হয়েছে। বর্তমানে সেই ছক অনুযায়ী চলছে আন্দোলন।

আন্দোলনের সাথে সম্পৃক্ত নেতারা বলেছেন, সরকার নির্বাচন ইস্যুতে সমঝোতার পথে না হেঁটে উল্টো খালেদা জিয়ার কার্যালয়ের যোগাযোগব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন করাসহ একে একে সিনিয়র নেতাদের গ্রেফতার করেই চলেছে। সারা দেশেও চলছে গণগ্রেফতার। বন্দুকযুদ্ধের নামে অনেককে ‘মেরে’ ফেলা হচ্ছে। এ অবস্থায় বিএনপিসহ ২০ দলের সামনে হরতাল-অবরোধ ছেড়ে অন্য কোনো পথে এগোনোর সুযোগ নেই।

জানা গেছে, গতকাল সোমবার বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াসহ বেশ কয়েকজন নেতার বিরুদ্ধে নালিশি মামলা হওয়ায় দলটির নীতিনির্ধারকেরা আরো চটেছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত ৩ জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত সারা দেশে বিএনপি জোটের প্রায় ১৫ হাজার নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। কথিত বন্দুকযুদ্ধে মারা গেছেন কয়েকজন। বেশ কয়েকজন রয়েছেন নিখোঁজ। সময় যত গড়াচ্ছে, গ্রেফতারের তালিকা ততই দীর্ঘ হচ্ছে। মামলা দেয়া হচ্ছে বিএনপি সমর্থক পেশাজীবীদের বিরুদ্ধেও। গত রোববার রাতে গ্রেফতার করা হয়েছে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আলহাজ মোসাদ্দেক আলীকে।

গত ৫ জানুয়ারি ‘গণতন্ত্র হত্যা দিবসের’ জনসভাকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট রাজনৈতিক উত্তাপের মধ্যে গ্রেফতার এড়াতে বাসাবাড়ি ছেড়েছেন বিএনপি নেতাকর্মীরা। এরপর যারাই একটু প্রকাশ্যে এসেছেন তারাই গ্রেফতার হয়েছেন। অপ্রকাশ্যে থেকে যারা দলীয় রাজনীতিতে সক্রিয়, তাদের বাড়িতে দফায় দফায় তল্লাশি হয়েছে।

এখন পর্যন্ত গ্রেফতার হওয়া শীর্ষ নেতাদের মধ্যে আছেন- বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ভাইস চেয়ারম্যান শমসের মবিন চৌধুরী, উপদেষ্টা শামসুজ্জামান দুদু, যুগ্ম মহাসচিব মো: শাহজাহান,  রুহুল কবির রিজভী, যুবদল সভাপতি সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল প্রমুখ। এর বাইরে ঢাকা মহানগরের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত নেতাদের বাড়ি ঘিরে তল্লাশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।  এ অবস্থায় আন্দোলনের গতি আরো বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে দলটি। বিএনপির একাধিক সূত্র জানিয়েছে, রোববার শুরু হওয়া ৭২ ঘণ্টার হরতালের সাথে আরো ৭২ ঘণ্টার হরতাল যোগ হচ্ছে। অর্থাৎ আগামী শুক্রবার পর্যন্ত হরতাল চলবে। আজ মঙ্গলবার হরতালের ঘোষণা আসতে পারে। অবরোধের মধ্যেই এ কর্মসূচি চলবে।

বিএনপি সূত্র জানিয়েছে, বুধবার এসএসসি পরীক্ষা থাকলেও বন্দুকযুদ্ধে কয়েকজন কর্মী নিহত ও দলের সিনিয়র নেতাদের গ্রেফতার করায় বাধ্য হয়ে তাদের হরতাল দিতে হচ্ছে।

বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য লে. জে. (অব:) মাহবুবুর রহমান সহযোগী গনমাধ্যমকে বলেছেন, মিথ্যা অভিযোগে একের পর এক নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করে দেশকে কারাগারে পরিণত করা হয়েছে। খালেদা জিয়াকে বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রাখা হয়েছে। এ অবস্থায় বিএনপি আন্দোলনের মাঠ ছেড়ে পেছনে ফেরার কোনো সুযোগ নেই।

জানা গেছে, আগামী সপ্তাহেও টানা হরতালের কথা বিবেচনা করা হচ্ছে। কেন্দ্রীয়ভাবে দুই অথবা তিন দিন হরতাল দেয়া হলেও বিভাগভিত্তিক হরতাল ডেকে কর্মসূচি টেনে নিয়ে যাওয়া হবে।

এ দিকে রাজনৈতিক সহাবস্থান নিশ্চিত, নেতাকর্মী ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর নির্যাতন বন্ধের দাবিতে ৪ ও ৫ ফেব্রুয়ারি ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে ছাত্রদল। ওই দুই দিনের মধ্যে দাবি পূরণ না হলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে লাগাতার ছাত্র ধর্মঘট দেয়ার হুমকি দিয়েছে সংগঠনটি।

 

sheersha media/sabbir/n/3-2