ব্রেকিং নিউজ

সকাল ৯:০৯ ঢাকা, রবিবার  ২৩শে সেপ্টেম্বর ২০১৮ ইং

“আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে দয়া দেখানোর সুযোগ নেই”

জাতীয় সংসদের স্পিকার এবং সিপিএ চেয়ারপারসন ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেছেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিটি) কোন দাতব্য প্রতিষ্ঠান নয়। তাই এখানে কারো প্রতি দয়া দেখানোর সুযোগ নেই।
স্পিকার বলেন, এটি আদালত। এটি দাতব্য প্রতিষ্ঠান নয়। সমাজে ও রাষ্ট্রে ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য এই আদালত। তাই এখানে কারো প্রতি দয়া দেখানোর সুযোগ নেই। তিনি আজ রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে আয়োজিত যুদ্ধাপরাধীর বিচার বিষয়ক এক আন্তর্জাতিক সেমিনারে একথা বলেন।
নুরেমবার্গ ট্রায়ালের ৭০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি “যুদ্ধাপরাধের বিচার : নুরেমবার্গ থেকে ঢাকা” শীর্ষক এ আন্তর্জাতিক সেমিনারের আয়োজন করে।
বিচারপতি সৈয়দ আমিরুল ইসলামে সভাপতিত্বে সেমিনারে গেস্ট অব অনার হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাশিয়ান ফেডারেশনের রাষ্ট্রদূত আলেকজান্ডার এ নিকোলায়েভ। ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শাহরিয়ার কবিরের পরিচালনায় আরো বক্তব্য দেন আইন বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী এডভোকেট আনিসুল হক এমপি, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ শাহরিয়ার আলম এমপি, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব রাষ্ট্রদূত ওয়ালিউর রহমান, আইসিটি’র রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ব্যারিস্টার তুরীন আফরোজ এবং শহীদ বুদ্ধিজীবী ড. আলীম চৌধুরীর কন্যা ড. নুজহাত চৌধুরী। সেমিনারে মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন আমেরিকান এসোসিয়েশন অব জুরিস্টস কানাডা চ্যাপ্টারের সাবেক প্রেসিডেন্ট এটর্নি উইলিয়াম পি স্লন।
ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেন, নুরেমবার্গ ট্রায়াল সারাবিশ্বে মানবতা বিরোধী অপরাধের বিচারের ক্ষেত্রে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। বাংলাদেশে একাত্তরের মহান মৃক্তিযুদ্ধে যে নির্যাতন ও গণহত্যা হয়েছিলো তার বিচার এদেশের মানুষের প্রাণের দাবি। সেই দাবিকে সামনে রেখেই আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত ও আইনজীবীরা সব নিয়ম কানুন মেনেই এ বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করছে।
তিনি বলেন, আজ আমরা জাতি হিসেবে গর্ববোধ করতে পারি এজন্য যে, আমরা দেশে মানবতা বিরোধী অপরাধের বিচার করে দেশে ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হয়েছি। এই বিচার আমাদের বীর শহীদদের প্রতি আমাদের অঙ্গীকার পূরণ। এই বিচারের মাধ্যমে দেশে বিচারহীনতার সংস্কৃতির অবসান হয়েছে। এ বিচার আমাদের জয়যুক্ত জাতি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। এ বিচার সম্পন্ন হলে আমরা দেশে ন্যায় বিচার ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় সক্ষম হবো।
রাশিয়ান ফেডারেশনের রাষ্ট্রদূত আলেকজান্ডার এ নিকোলায়েভ একাত্তরে বাংলাদেশে সংঘটিত মানবতা বিরোধী অপরাধে শহীদ এবং সম্প্রতি ফ্রান্সসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সংঘটিত জঙ্গী হামলায় নিহতদের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করে তাদের স্মরণে সবাইকে এক মিনিট নিরবতা পালনের আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, সন্ত্রাসীদের কোন ধর্ম নেই, জাতীয়তাও নেই। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক হলো তাদের কোন সীমানাও নেই।
নিকোলায়েভ বলেন, “আমি বিশ্বাস করি, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত যে বিচারকার্য সম্পন্ন করছে, তা কোন রাজনৈতিক বিচার নয়, এটি এদেশের জনগণের অধিকার।”
যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বানচাল করতে দেশে লেখক, বুদ্ধিজীবী, প্রকাশক হত্যার নিন্দা জানিয়ে আলেকজান্ডার নিকোলায়েভ বলেন, এই ধরনের ভয়ভীতি দেখিয়ে বিচারিক প্রক্রিয়া বন্ধ করা যাবে না। রাশিয়া একাত্তরে বাংলাদেশের পাশে ছিলো। এখনো জোরালোভাবেই বাংলাদেশের সাথে আছে।
আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী এডভোকেট আনিসুল হক এমপি বলেন, যুদ্ধাপরাধের বিচার আদালতের নিজস্ব গতিতেই চলবে। জনগণের কাছে সবচেয়ে ঘৃণ্য এবং মানবতাবিরোধী অপরাধে নেতৃত্বদানকারী দুই যুদ্ধাপরাধীর বিচার সম্পন্ন হয়েছে। এটি আমাদের বিরাট সাফল্য। দেশে এবং দেশের বাইরে কোন যুদ্ধাপরাধী কোথায় আছে তার খবর আমরা জানি। পর্যায়ক্রমে তাদেরও বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হবে। তিনি বলেন, ভয়ভীতি প্রদর্শন করে মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার করার অঙ্গীকার থেকে নড়াতে পারবে না।
উইলিয়াম পি স্লন বলেন, বাংলাদেশের বর্তমান সরকার বিচারহীনতার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসার সংগ্রাম করছে। এ সংগ্রামের প্রতি আমাদের পূর্ণ সমর্থন রয়েছে এবং আমি মনে করি বাংলাদেশে ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠার এই সংগ্রাম সফল করতে সকলের সহযোগিতা প্রয়োজন।
বিচারপতি সৈয়দ আমিরুল ইসলাম তার সমাপনী ভাষণে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত-এর আইন থেকে যুদ্ধাপরাধের দায়ে সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের রাষ্ট্রপতির কাছে ক্ষমা ভিক্ষা চাওয়ার বিধানটি বিলুপ্ত করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, আইসিটির বিচারের রায়ই চূড়ান্ত। এখানে কোন ক্ষমার স্থান নেই।
ব্যারিস্টার তুরীন আফরোজ যুদ্ধাপরাধীদের বাঁচাতে মানবাধিকারের দোহাই দিয়ে যেসব সংগঠন বিবৃতি দিচ্ছে তাদের কাছে মানবতার ভিন্ন অর্থ আছে বলে মত প্রকাশ করেন। তিনি এ ধরনের মনোভাবের প্রতি তীব্র নিন্দা জানান।
ড. নুজহাত চৌধুরী বিভিন্ন দেশে গণতন্ত্রের নামে যারা এদেশের যুদ্ধাপরাধীদের আশ্রয় দিয়েছে তাদের প্রতি নিন্দা জানান। তিনি বিদেশে পলাতক যুদ্ধাপরাধীদের দেশে ফিরিয়ে এনে শীঘ্রই তাদের বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান। তিনি শীঘ্রই জামাতের বিচার শুরু করার দাবি জানান।