ব্রেকিং নিউজ

রাত ১০:২৯ ঢাকা, শুক্রবার  ২১শে সেপ্টেম্বর ২০১৮ ইং

ছাত্র রাজনীতিতে আদর্শের ঘাটতি

রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ জাতির বৃহত্তর স্বার্থে ছাত্র রাজনীতিকে গণমুখী ও আদর্শভিত্তিক করার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, ছাত্র রাজনীতির আদর্শ হবে জনকল্যাণ।
রাষ্ট্রপতি বলেন, ৬০’র দশকের ছাত্র রাজনীতি ছিল আদর্শভিত্তিক এবং ওই আদর্শ ছিল দেশ ও জনগণের কল্যাণে কাজ করা। কিন্তু আজকের ছাত্র রাজনীতিতে এর ঘাটতি রয়েছে- যা আমাকে বেদনাহত করে।
তিনি আজ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ৪৯তম সমাবর্তনে ভাষণকালে একথা বলেন।
ঢাবি উপাচার্য প্রফেসর আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক ও উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) ড. নাসরিন আহমেদ সমাবর্তনে বক্তৃতা করেন।
সমাবর্তনে ৬১৬১ শিক্ষার্থীকে স্নাতক, স্নাতকোত্তর ও পিএইচডি ডিগ্রি দেয়া হয়।
এতে ৩৭ শিক্ষার্থী স্বর্ণপদক, ৪২ পিএইচডি, ২০ এমফিল ও ৪৯ জনকে এমডি-এমএস ডিগ্রি দেয়া হয়।
অনুষ্ঠানে বিশ্ব মেধাস্বত্ত্ব সংগঠন ওয়ার্ল্ড ইন্টেলেকচ্যুয়াল প্রোপার্টি অর্গানাইজেশনের মহাপরিচালক ড. ফ্রান্সিস গ্যারি সমাবর্তন বক্তৃতা দেন। সমাবর্তনে তাকে ‘ডক্টর অব লজ’ ডিগ্রি দেয়া হয়।
স্নাতকদের দেশের উচ্চমানের মানব সম্পদ হিসেবে অভিহিত করে বিশ্ববিদ্যালয়সমূহের চ্যান্সেলর রাষ্ট্রপতি বলেন, আজকের সমাবর্তন তোমাদের সাফল্যের স্বীকৃতি দিচ্ছে। একই সঙ্গে তোমাদের উপর দায়িত্বও এসে পড়েছে। এ দায়িত্ব হচ্ছে তোমাদের পরিবার, সমাজ এবং সর্বোপরি দেশ ও জাতির প্রতি।
তিনি স্নাতকদের উদ্দেশ্যে বলেন, কোন প্রতিকূলতায় হতাশ হয়ো না। সাহস অটুট রাখবে। এই প্রতিযোগিতার বিশ্বে টিকে থাকতে হলে নিজেদেরকে যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। সাহসের সঙ্গে জ্ঞান বিজ্ঞানের সকল ক্ষেত্রে প্রতিযোগিতা করতে প্রস্তুত থাকতে হবে। তোমাদেরকে এই দেশ এবং এর অবদানের কথা মনে রাখতে হবে। কারণ তোমাদের যে কোন নেতিবাচক কর্মকান্ড আমাদের বিশাল সাফল্য ম্লান করে দিতে পারে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গৌরবোজ্জ্বল অতীতের কথা স্মরণ করে রাষ্ট্রপতি হামিদ বলেন, এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান অনেক বরেণ্য রাজনীতিককে লালন করেছে, যারা দেশের স্বাধীনতা ও জাতীয় উন্নয়নে অবদান রেখেছেন।
তিনি বলেন, শিক্ষার পরিসর বৃদ্ধির ক্ষেত্রে নতুন ডিপার্টমেন্ট, ইন্সটিটিউট ও গবেষণা কেন্দ্র খোলার মাধ্যমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা কার্যক্রম ক্রমান্বয়ে বিস্তৃত হচ্ছে।
রাষ্ট্রপতি বলেন, সময়োপযোগী শিক্ষা ও অবকাঠামো উন্নয়ন নিশ্চিত করতে এই প্রতিষ্ঠানের প্রয়াস প্রশংসার দাবীদার।
আমি বিশ্বাস করি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় জাতীয় শিক্ষানীতির সফল বাস্তবায়নে ইতিবাচক ভূমিকা পালন করবে।