Sheersha Media

ব্রেকিং নিউজ

সকাল ১০:২৯ ঢাকা, বৃহস্পতিবার  ১৫ই নভেম্বর ২০১৮ ইং

আতিউরের চলে যাওয়ায় বাংলাদেশ ব্যাংক ভালো চলবে?

প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আতিউর রহমানের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করে বুঝিয়ে দিলেন কারো ব্যর্থতার দ্বায়বার সরকার নিবে না। জ্ঞাতসারে কিংবা অজ্ঞাতসারেই হোক কারো কারণে দেশের ক্ষতি হলে তিনি কাউকে ছাড় দেন না। এ পদত্যাগপত্র গ্রহণের মাধ্যমে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দ্বায়িত্বে থাকা কর্মচারীরা প্রধানমন্ত্রীর একটি সিগন্যাল পেলেন যে, কারো দ্বায়িত্বে অবহেলার কারণে দেশের ক্ষতি হলে চেয়ার থাকবেনা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে ৮১০ কোটি টাকার ডলার চুরির ঘটনায় গভর্নর আতিউর রহমানের পদত্যাগের দাবি বিভিন্ন মহল থেকে করা হচ্ছিল। পৃথিবীর ইতিহাসে যে ঘটনা কোথাও ঘটেনি, সেই বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক জগতে তোলপাড়-আলোড়ন সৃষ্টিকারী ঘটনা কেন্দ্রীয় ব্যাংকে হ্যাকিং করে বাংলাদেশের রিজার্ভের টাকা চুরির ঘটে। গভর্নর আতিউর রিজার্ভ চুরির বিষয়টি সরকারের কাছে গোপন করেন। তথ্য গোপন করলে যা হবার তাই হয়েছে সমাজে এর ডালপালা বিস্তৃত হয় ফলে বিকৃত ও আপত্তিকর সব মন্তব্য/গুজব ছড়িয়ে পড়ে। বিরোধী রাজনৈতিক দলের কাছে তুলে দেয়া হয় সরকারের সমালোচনার বড় অস্ত্র, পাশাপাশি সোশ্যাল মিডিয়ায় এ ঘটনাকে রাজনৈতিক রূপ দিয়ে মহল বিশেষ ছড়াচ্ছিল সরকার বিরোধী নানারকম অপপ্রচার ফলে দেশ-বিদেশে সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট হওয়ার কারণে সরকার বিব্রতকর অবস্থায় পড়ে যায়। যার প্রেক্ষিতে আতিউর রহমানের বিকল্প নিয়ে সরকারের নীতিনির্ধারক মহলে চিন্তাভাবনা শুরু হয়ে যায়। বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে আলোচিত টাকা চুরির ঘটনাটি ঘটে ২৯ জানুয়ারি। বিষয়টি মিডিয়াতে আসে ৭ মার্চ। ৮ মার্চ এ বিষয়ে অর্থমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, খোয়া যাওয়া টাকা উদ্ধারে ফেডারেল ব্যাংকের বিরুদ্ধে মামলা করা হবে। আর এ ঘটনায় তিনি বাংলাদেশ ব্যাংকের কোনো দোষত্রুটি দেখছেন না। এদিকে গত কয়েকদিনে গণমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে তথ্যভিত্তিক বেশ কিছু রিপোর্ট দেখে অর্থমন্ত্রীসহ সরকারের নীতিনির্ধারক মহল নড়েচড়ে বসে। এরপর বিভিন্ন মাধ্যমে সরকার একরকম জেনে যায়, নজিরবিহীন এ চুরির সঙ্গে খোদ বাংলাদেশ ব্যাংকের কিছু অসাধু কর্মকর্তা জড়িত। যাদের পেছনে আরও প্রভাবশালী কেউ থাকতে পারেন। আর এ কারণেই ডলার/টাকা চুরি হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিতভাবে জেনেও বাংলাদেশ ব্যাংক অর্থ মন্ত্রণালয় তথা সরকারের কাছে পুরো বিষয়টি গোপন রাখে। এরকম ধারণা স্পষ্ট হয়ে গেলে অর্থমন্ত্রীর ক্ষোভের বিষয়টি রোববার মিডিয়ার সামনে চলে আসে। এদিন তিনি গভর্নরকে ইঙ্গিত করে সাংবাদিকদের বলেন, তথ্য গোপন করে চরম ধৃষ্টতা দেখিয়েছেন। অবশ্যই বাংলাদেশ ব্যাংকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। তারই ধারাবাহিকতায় সরকারের নীতিনির্ধারক মহল গভর্নর আতিউর রহমানের পদত্যাগ কিংবা অপসারনের সিদ্বান্তে অগ্রসর হচ্ছিল বলে সূত্র জানায়। আজ বেলা ১১টায় অর্থমন্ত্রীর এ বিষয়ে সংবাদ সম্মেলন করার কথা থাকলেও তা পরিবর্তন করে বেলা ২.৩০টায় করা হয়। তবে ব্যাপক সমালোচনার মুখে গভর্নর পদত্যাগপত্র পেশ করায় দুপুর সোয়া ১২টায় এ সংবাদ সম্মেলন বাতিল করা হয়। এর আগে সকালে নিজ বাসায় সাংবাদিকদের গভর্নর বলেন, তিনি পদত্যাগপত্র লিখে প্রধানমন্ত্রীর অপেক্ষায় বসে আছেন। তিনি বলেন, ‘আমি অপেক্ষা করছি—প্রধানমন্ত্রী কী বলেন। আমি পদত্যাগ করলে যদি বাংলাদেশ ব্যাংকের ভালো হয়, তাহলে পদত্যাগ করতে আমার দ্বিধা নাই। পদত্যাগপত্র লিখে বসে আছি।’ সমালোচিত গভর্নর আতিউর রহমান বলেন, গতকাল সোমবার বিকেলে তিনি ভারত থেকে দেশে ফিরেছেন। রাতে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের সঙ্গে তাঁর বাসায় গিয়ে দেখা করেছেন। অর্থমন্ত্রী তাঁকে বলেছেন, তিনি চলে গেলে বাংলাদেশ ব্যাংক ভালো চলবে। গভর্নর বলেন, ‘আমি আমার বিবেক দ্বারা চালিত হই। মনে করি, প্রধানমন্ত্রী আমাকে নিয়োগ দিয়েছেন। তিনি না বললে আমার পদত্যাগ করা উচিত হবে না। সাত বছর দায়িত্ব পালন করেছি, বাংলাদেশ ব্যাংককে সন্তানের মতো মনে করেছি। রিজার্ভ থেকে চুরি হোক, এটা আমি কখনো চাইনি।

এর পর পরই সকালে তিনি চলে যান প্রধানমন্ত্রীর সাথে দেখা করতে এবং পদত্যাগপত্র প্রধানমন্ত্রীর কাছে পেশ করেন।  প্রধানমন্ত্রী তার পদত্যাগপত্র গ্রহণ করে বুঝিয়ে দিলেন কারো ব্যর্থতার দ্বায়বার সরকার নিবে না। জ্ঞাতসারে কিংবা অজ্ঞাতসারেই হোক কারো কারণে দেশের ক্ষতি হলে প্রধানমন্ত্রী কাউকে ছাড় দেন না। গভর্নর আতিউরের একটা বড় ধরণের  ব্যর্থতায় দেশের অনেক ক্ষতি ঘটে গেছে। তাই তাকে পদত্যাগ করতে হল। তার কিছু দুর্নাম ও  ব্যর্থতা থাকলেও সফলতাই বেশি লক্ষণীয়। একটা উদাহরণ দিয়ে বলছি সারাবিশ্বে যখন অর্থনৈতিক মন্দা চলছিল ঐ সময় অনেক উন্নত রাষ্ট্রের অর্থনীতি তথা ব্যাংক ব্যবস্থা মারাত্মক হোঁচটে হিমশিম খাচ্ছিল তখন বাংলাদেশের মানুষ হিমশিম দূরে থাক টেরই পায়নি। যতদূর জানি  গভর্নর আতিউর ছিলেন সৎ প্রকৃতির লোক, প্রধানমন্ত্রী তাকে অত্যন্ত ভাল জানেন এবং আতিউর ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর বিশ্বস্ত ও অনুগত। জানতে পারি প্রধানমন্ত্রীর মনে অনেক কষ্ট হচ্ছিল তারপরেও পছন্দের মানুষটি গভর্নর আতিউরের প্রতি কোন রূপ করুণা কিংবা অনুকম্পা না দেখিয়ে তার পদত্যাগপত্র গ্রহণ করে নেন দেশের স্বার্থে। প্রধানমন্ত্রী কি-না পারেন ইচ্ছে করলে এর ব্যতিক্রম করলেও করতে পারতেন কিন্তু দেশের কল্যাণে তথা জনগণের আর্থিক নিরাপত্তার স্বার্থেই করেননি। আমি প্রধানমন্ত্রীর দৃঢ় সিদ্বান্তকে স্যালুট জানাই কারণ তিনি দেশের স্বার্থকেই প্রাধান্য দিয়েছেন। তবে অর্থমন্ত্রী যেহেতু  আতিউরকে বলেছেন, তিনি চলে গেলে বাংলাদেশ ব্যাংক ভালো চলবে। সেক্ষেত্রে আমার কিছু প্রশ্ন অর্থ মন্ত্রণালয়ের কাছে থেকেই যায় তা হলঃ গভর্নর আতিউর চলে যাওয়ায় কি আর্থিক খাতের নিরাপত্তা বাড়বে, তার মানে সব অনিশ্চয়তা কেটে যাবে? ভবিষ্যতে আর কোন অনিশ্চয়তা দেখা দিবে না?  ব্যর্থতার দ্বায়বার কি শুধুই গভর্নর আতিউরের, নাকি তার প্রধান প্রধান সহযোগীদেরও? আমি অন্তত মনে করি গভর্নর  আতিউর রহমান চলে গেলেও তার প্রধান প্রধান সহযোগীরা থেকে গেলে আর্থিক খাতের নিরাপত্তায় অনিশ্চয়তা থেকেই যাবে। কারণ তারাই গভর্নর আতিউরকে ভুল পথে পরিচালিত করেছে।  যদিও দুইজন ডেপুটি গভর্নরকে ইতিমধ্যে অপসারিত করা হয়েছে কিন্তু যার নাম পথে ঘাটে সর্বত্র উচ্চারিত হয় যাকে সবাই এমনকি মতিঝিলের ইট-পাথরও গভর্নর আতিউরের প্রধান উপদেষ্টা/সহযোগী  হিসেবে চিনেন/জানেন সেই ডেপুটি গভর্নরের বিষয়ে এখনো কোন পদক্ষেপ দেখছিনা। আমাদের দাবি গভর্নর আতিউরের ব্যর্থতার জন্য দায়ী সে যেই হোক না কেন তাদের খুঁজে বের করে বিতারিত করে দেশের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করুন। মোঃ বজলুল করিম, সম্পাদক, শীর্ষ মিডিয়া।

আরো পড়ুন

‘সাপ মেরে লেঙ্গুরে বিষ রাখতে নেই’

http://sheershamedia.com/%E0%A6%B8%E0%A6%BE%E0%A6%AA-%E0%A6%AE%E0%A7%87%E0%A6%B0%E0%A7%87-%E0%A6%B2%E0%A7%87%E0%A6%99%E0%A7%8D%E0%A6%97%E0%A7%81%E0%A6%B0%E0%A7%87-%E0%A6%AC%E0%A6%BF%E0%A6%B7-%E0%A6%B0%E0%A6%BE%E0%A6%96/