ব্রেকিং নিউজ

রাত ৮:২৯ ঢাকা, বুধবার  ২৬শে সেপ্টেম্বর ২০১৮ ইং

সাবেক গভর্নর ড. আতিউর রহমান

‘আতিউরকে বিদায় করে দেয়ার সিদ্বান্তে আসা উচিত’

মন্তব্য প্রতিবেদন: পৃথিবীর ইতিহাসে যে ঘটনা কোথাও ঘটেনি, সেই বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক জগতে তোলপাড়-আলোড়ন সৃষ্টিকারী ঘটনা কেন্দ্রীয় ব্যাংকে হ্যাকিং করে বাংলাদেশের রিজার্ভের ৮১০ কোটি টাকা চুরির ঘটনা ঘটলো। তা প্রকাশ হওয়ার পরপরই গভর্নর ড. আতিউর রহমান বর্তমানে ভারত সফরে রয়েছেন। তিনি রিজার্ভ চুরির বিষয়টি সরকারের কাছে গোপন করে প্রকান্তরে ধামাচাপা দেয়া চেষ্টা করেছেন যা রহস্যজনক বটে। তথ্য গোপন করলে যা হবার তাই হয়েছে সমাজে এর ডালপালা বিস্তৃত হয়েছে ফলে বিকৃত ও আপত্তিকর সব মন্তব্য/গুজব ছড়িয়ে পড়েছে। বিরোধী রাজনৈতিক দলের কাছে তুলে দেয়া হয়েছে সরকারের সমালোচনার বড় অস্ত্র, পাশাপাশি সোশ্যাল মিডিয়ায় এ ঘটনাকে রাজনৈতিক রূপ দিয়ে মহল বিশেষ ছড়াচ্ছে সরকার বিরোধী নানারকম অপপ্রচার ফলে দেশ-বিদেশে সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট হওয়ার কারণে সরকার বিব্রতকর অবস্থায় পড়েছে। যা অর্থমন্ত্রীর গতকালের কথায় অনেকটাই আচ করা যায়। বাংলাদেশ ব্যাংকের নিজস্ব ফেসবুক পেজে অতি সম্প্রতি দেয়া এক বিবৃতিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের ভাষ্যমতে আরো একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় পরোক্ষভাবে স্বীকার করা হয়েছে, সেটা হল বিবৃতিতে বলা হয় ‘ভবিষ্যতে সাইবার আক্রমণের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যপ্রযুক্তি প্লাটফরমে আধুনিকতম প্রতিরোধ ব্যবস্থার সন্নিবেশও দ্রুত অগ্রসর হচ্ছে’। আমি যদি বুঝতে ভুল না করি তার মানে সাইবার আক্রমনের আধুনিকতম প্রতিরোধ ব্যবস্থা বাংলাদেশ ব্যাংকের নাই/ ছিলনা? এই ডিজিটাল যুগেও যে দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকে সাইবার আক্রমনের আধুনিকতম প্রতিরোধ ব্যবস্থা নাই এ কথা বললে সে দেশের জনগণের আর্থিক নিরাপত্তা কোথায়? বাংলাদেশ ব্যাংকের এ ঘটনা ঘটে যাবার আগে প্রকাশ পায় ক্রেডিট কার্ড জালিয়াতির ঘটনা সব মিলিয়ে পথে ঘাটে ব্যাংক ব্যবস্থা নিয়ে আতঙ্কের শুরে কথা বলছে জনতা যেটা মোটেই কাম্য নয়। তার আগে ঘটে যায় সরকারী ব্যাংকগুলোতে হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাটের ঘটনা, যা বাংলাদেশের ইতিহাসে কখনো আগে ঘটেনি। এ সব কি গভর্নরের ব্যর্থতা নয়? সাধারণ মানুষ মনে করেন বস্তুত ২০০৯ সাল থেকে গভর্নর ড. আতিউর রহমান ব্যাংক ব্যবস্থার মাধ্যমে শেয়ারবাজারের জন্য একের পর এক পদক্ষেপ নিয়েছেন, শেয়ারবাজারের দিকেই তিনি বেশি বেশি বিতর্কিত মনযোগী ছিলেন। যদি তা না-ই হয় দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাইবার নিরাপত্তা দিতে পারলেন না কেন? শেয়ারবাজারের দিকে গভর্নর ড. আতিউরের বিতর্কিত মনযোগ পরোক্ষভাবে কতোটা সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট তথা অপূরণীয় ক্ষতি করেছে আশাকরি তা সরকারী দল একদিন বুঝতে সক্ষম হবে। আতিউর রহমানের বিকল্প নিয়ে সরকারের নীতিনির্ধারক মহলে চিন্তাভাবনা করার এখনই সময় অর্থাৎ দেশের-সরকারের ভাবমূর্তি তথা আর্থিক নিরাপত্তার স্বার্থেই তাকে অনতিবিলম্বে গভর্নরের পদ থেকে সরিয়ে/বিদায় করে দেয়ার সিদ্বান্তে আসা উচিত।

মোঃ বজলুল করিম
সম্পাদক, শীর্ষ মিডিয়া

ফেসবুক পেজের বিবৃতিটি নিম্নে দেয়া হলঃ

bank4