ব্রেকিং নিউজ

রাত ২:৪৮ ঢাকা, রবিবার  ২৩শে সেপ্টেম্বর ২০১৮ ইং

আজ মহান মে দিবস

আজ মহান মে দিবস। শ্রমিক শ্রেণীর আন্তর্জাতিক সংহতির দিন। পৃথিবীর প্রায় সব দেশেই দিবসটি যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হবে। ১৮৮৬ সালে আট ঘণ্টা শ্রম অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে আন্দোলন এবং যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো শহরের হে মার্কেটে গুলিতে কয়েক শ্রমিক নিহত হওয়ার ঘটনায় ১ মে বিশ্বের সর্বত্র যথাযথ শ্রদ্ধা ও মর্যাদার সঙ্গে স্মরণ করা হয়।
সমাজ বিকাশের বিভিন্ন পর্যায়ে শোষণের বিরুদ্ধে শ্রমজীবী মানুষ প্রথমে বিচ্ছিন্নভাবে এবং পরে সংঘবদ্ধ সংগ্রাম করে এসেছে। সংগ্রামের মাধ্যমে এক সময় পৃথিবী থেকে দাসপ্রথা বিলুপ্ত হলেও শ্রমিকদের কাজের কোনো ধরাবাঁধা কর্মঘণ্টা বা সময় ছিল না। উনিশ শতকের গোড়ায় কল-কারখানায় সপ্তাহের ৬ দিন গড়ে প্রায় ১০ থেকে ১২ ঘণ্টার বেশি অমানুষিক পরিশ্রম করতে হতো শ্রমিকদের। বিনিময়ে মিলত সামান্য কিছু মজুরি। অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা, কোনো সামাজিক নিরাপত্তা ছিল না। এর বিরুদ্ধে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে লড়াই শুরু হলেও তা বিরাট আকার ধারণ করে আমেরিকায়।
বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো দিবসটি বাংলাদেশেও পালিত হচ্ছে। আজ সরকারি ছুটি। এ বছর বাংলাদেশে দিবসটির প্রতিপাদ্য হল- ‘মে দিবসের মর্মবাণী শ্রমিক-মালিক ঐক্য জানি।’ দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদ, বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া পৃথক বাণী দিয়েছেন। এছাড়া দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে সংবাদপত্রে বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ ও টেলিভিশনে অনুষ্ঠান প্রচারিত হবে।
দিবসটি উপলক্ষে জাতীয় পার্টির উদ্যোগে বিকাল ৩টায় কাকরাইলের জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে এক শ্রমিক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ এমপি। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বিরোধীদলীয় নেতা বেগম রওশন এরশাদ।
১৮৮৬ সালের ১ মে যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় তিন লাখ শ্রমিক রাজপথে নেমে মিছিলে শামিল হন। শিকাগোতে শ্রমিক ধর্মঘট ডাকা হয়। ১৮৮৬ সালের ৪ মে প্রায় ৪০ হাজার শ্রমিক কাজ ফেলে শিকাগো শহরের কেন্দ্রস্থল হে মার্কেটে সমবেত হন। লাগাতার ধর্মঘট, শ্রমিক জমায়েত, মিছিল দেখে আতংকিত শাসক শ্রেণী শ্রমিকদের ওপর সেদিন আক্রমণ চালায়। হামলায় ১১ শ্রমিক নিহত হন, আহত হন অনেকে। মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে ৬ শ্রমিক নেতাকে ফাঁসি দেয়া হয়।
১৮৯০ সাল থেকে মে দিবসকে শ্রমিক শ্রেণীর ‘আন্তর্জাতিক সংহতি দিবস’ হিসেবে পালন করা হচ্ছে। ‘মে দিবস’ দেশে দেশে শ্রমিক শ্রেণীকে কেবল তাদের অর্থনৈতিক দাবি-দাওয়ার মধ্যেই নয়, শোষণ-পীড়ন থেকে মুক্তির অভিন্ন লক্ষ্যে এগিয়ে যাওয়ার জন্য উন্নততর চেতনায় সমৃদ্ধ করে। আজ রাজধানীসহ দেশের সর্বত্র আন্তর্জাতিক মে দিবস পালিত হবে। শহর, বন্দর, শিল্পাঞ্চল, ছোট-বড় কারখানার গেটে, শ্রমিক সংগঠনগুলোর দফতরে লাল পতাকা উত্তোলন করা হবে, শ্রদ্ধা জানানো হবে শহীদদের।  
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়ন রাজধানীর সায়েদাবাদ বাসস্ট্যান্ডের সামনে সকাল ১০টায় সমাবেশ করবে। এছাড়া বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন ফেডারেশন, গার্মেন্ট মজদুর ইউনিয়ন, জাতীয় মুক্তি কাউন্সিল, স্কপ, জাতীয় গার্মেন্ট শ্রমিক কর্মচারী লীগ, জাতীয় শ্রমিক ফেডারেশন, শ্রমিক ঐক্য, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি দিবসটি উপলক্ষে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে।