কাবুল থেকে ফেরার আগে গোটা বিশ্বকে চমকে দিলেন মোদী। আচমকা ঘোষণা করলেন, সরাসরি দিল্লি নয়, ফিরবেন লাহৌর হয়ে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের জন্মদিন শুক্রবার। শরিফকে এই বিশেষ দিনের শুভেচ্ছা জানাতেই লাহৌর বিমানবন্দরের রানওয়ে ছোঁবে মোদীর বিমান।

নওয়াজ শরিফের এ দিন ৬৬ বছর বয়স হল। সকালেই মোদী ফোন করে নওয়াজকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানান। তার পর কাবুলে ঠাসা কর্মসূচি ছিল তাঁর। আফগান পার্লামেন্টের যৌথ অধিবেশনে ভাষণ দেওয়ার সময় পাকিস্তানের উদ্দেশে নাম না করে কড়া বার্তাও দেন মোদী। আফগানিস্তানের সঙ্গে ভারতের সুসম্পর্ক অনেকে চায়নি বলে মন্তব্য করেন তিনি। ভাষণ শেষ হওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই নরেন্দ্র মোদীর টুইট, ‘‘প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের সঙ্গে কথা বললাম, তাঁকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানালাম।’’ এই টুইটের এক মিনিট পরই আবার টুইট করেন মোদী। লেখেন, ‘‘আজ বিকেলে লাহৌরে প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। দিল্লি ফেরার পথে আমি সেখানে নামব।’’

জন্মদিন উপলক্ষে পরিবারের সঙ্গেই রয়েছেন নওয়াজ। ইসলামাবাদ ছেড়ে তিনি এ দিন পৈতৃক বাড়ি লাহৌরে রয়েছেন। মোদীর সঙ্গে দেখা করতে তিনি লাহৌর বিমানবন্দরে যাবেন বলে জানা গিয়েছে। সেখানেই শরিফকে মোদী শুভেচ্ছা জানাবেন। প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর মোদীর এটাই প্রথম পাকিস্তান সফর। শুধু তাই নয়, ১২ বছর পর কোনও ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী পা রাখছেন পাকিস্তানের মাটিতে। ২০১৬-তে মোদীর পাকিস্তান সফর নির্ধারিত হয়েছিল আগেই। তবে তার আগেই ভারতের প্রধানমন্ত্রীর বিমান পাক বিমানবন্দরের রানওয়েতে নামছে।

বিদেশমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ প্রধানমন্ত্রীর এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানান। টুইটারে সুষমা লেখেন, ‘‘এই হল প্রকৃত রাষ্ট্রনায়ক। প্রতিবেশীদের সঙ্গে এই রকমই সম্পর্ক হওয়া উচিত।’’ তবে কংগ্রেস প্রধানমন্ত্রীর এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন। মোদী ভারতের বিদেশনীতিকে হাস্যকর করে তুলছেন বলে প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী মণীশ তিওয়ারি মন্তব্য করেন।