Sheersha Media

ব্রেকিং নিউজ

সকাল ৯:২৮ ঢাকা, সোমবার  ১৯শে নভেম্বর ২০১৮ ইং

শেখ হাসিনা
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

আগামী নির্বাচনে নৌকার বিজয় হবে : শেখ হাসিনা

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেছেন, আগামী নির্বাচনে নৌকার বিজয় হবে এবং উন্নয়নের ধারা অব্যাহত থাকবে। তিনি বলেন, ‘ইনশাল্লাহ নৌকার জয় হবে, উন্নয়নের ধারা অব্যাহত থাকবে।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিকেলে খুলনা সার্কিট হাউজ ময়দানে খুলনা জেলা এবং মহানগর আওয়ামী লীগ আয়োজিত বিশাল জনসভায় এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আগামী নির্বাচনে আমি আপনাদের কাছে চাই- গত নির্বাচনে যেমন নৌকায় ভোট দিয়েছেন উন্নয়ন হয়েছে। এই নির্বাচনে আপনারা যদি উন্নয়নের ধারা বজায় রাখতে চান তাহলে নৌকা মার্কায় ভোট দিতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী এ সময় উপস্থিত জনতার উদ্দেশ্যে দুই হাত তুলে নৌকায় ভোটদানের ওয়াদা চাইলে জনগণ দুই হাত তুলে সমস্বরে চিৎকার করে ভোট প্রদানের অঙ্গীকার করেন।

খুলনা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হারুনুর রশিদ জনসভায় সভাপতিত্ব করেন। বক্তৃতা করেন- দলের যুগ্ম সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ, জাহাঙ্গীর কবির নানক এবং ডা. দীপু মনি, সাংগঠসিক সম্পাদক বি এম মোজাম্মেল হক, সাবেক মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক এমপি, শেখ হেলাল এমপি, বিজেএমই’র সাবেক সভাপতি এবং বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট সালাম মুর্শেদীসহ স্থানীয় সংসদ সদস্য এবং আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা বাংলাদেশকে ২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের দেশ এবং ২০৪১ সালের মধ্যে ক্ষুধা মুক্ত, দারিদ্র্যমুক্ত সোনার বাংলা আমরা গড়ে তুলবো। আওয়ামী লীগ দেশকে উন্নয়নের পথে নিয়ে যেতে চায় উল্লেখ করে তিনি বলেন, আজকে বাংলাদেশে আমরা দারিদ্র্যের হার কমিয়েছি।

শেখ হাসিনা বলেন, এই খুলনা শহর এবং খুলনা বিভাগের আমাদের প্রশাসন ও পুলিশ বিভাগের কর্মকর্তারা নিজেরা একদিনের বেতন দিয়ে ফান্ড তৈরি করেছে, সেখান থেকে এই খুলনা শহর ও বিভাগকে ভিক্ষুকমুক্ত করা হয়েছে। তাদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে দিয়েছে। আমি তাদের আন্তরিক অভিনন্দন ও ধন্যবাদ জানাই। কারণ বাংলাদেশের মানুষ ভিক্ষা করে চলবে না। বাংলাদেশের মানুষ নিজের পায়ে দাঁড়াবে। সুন্দরভাবে জীবন-যাপন করবে। আমরা সেটাই দেখতে চাই, সেটাই করতে চাই। দেশের আরো উন্নয়নের জন্য তাঁর সরকার কাজ করে যাচ্ছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের লক্ষ্য বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে, এগিয়ে যাবে। ২০৪১ সালের মধ্যে এই বাংলাদেশ হবে উন্নত-সমৃদ্ধ দেশ।

তিনি বলেন, আমি আপনাদের কাছে শুধু একটা কথাই বলবো। আমরা মুক্তিযুদ্ধ করে এ দেশ স্বাধীন করেছি। এই বাংলাদেশে কোন রাজাকার-আল বদর, যুদ্ধাপরাধীদের ঠাঁই হবে না। তাদের বিচার আমরা বাংলার মাটিতে করেছি, জাতির পিতার হত্যাকারীদের বিচারও আমরা বাংলার মাটিতে করেছি। অপরাধী যেই হোক তাকে শাস্তি পেতেই হবে।

শেখ হাসিনা বলেন, আজকে খালেদা জিয়া দুর্নীতি করেছেন। কোর্ট রায় দিয়েছে। সেই রায়ে সে কারাগারে। এখানে আওয়ামী লীগের কিছু করার নেই, আমাদের কিছু করার নেই। দুর্নীতি করলে তাকে শাস্তি পেতেই হবে।

তিনি বলেন, আমরা বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই, বাংলাদেশকে উন্নত করতে চাই, আমরা বাংলাদেশকে সমৃদ্ধশালী করতে চাই। কাজেই আপনারা যখনই নৌকা মার্কায় ভোট দিয়েছেন আপনারা স্বাধীনতা পেয়েছেন, মাতৃভাষায় কথা বলার অধিকার পেয়েছেন এবং আপনারা দেশের উন্নয়ন পেয়েছেন।

সার্কিট হাউস মাঠে জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগ আয়োজিত জনসভায় অংশগহণের পূর্বে প্রধানমন্ত্রী সমাবেশস্থলের পাশের বেদী থেকে ৯৯টি উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। অবশ্য প্রধানমন্ত্রী তাঁর ভাষণে প্রকল্পের সংখ্যা একশ’ বলে উল্লেখ করেন।

খুলনার কর্মসূচিতে অংশ নিতে শনিবার বেলা পৌনে ১১টায় প্রধানমন্ত্রী হেলিকপ্টারযোগে খুলনা মহানগরীর খালিশপুরে তিতুমীর নৌ-ঘাঁটির ভিভিআইপি হেলিপ্যাডে অবতরণ করেন। পরে তিনি ইনস্টিটিউশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশ’র (আইইবি) খুলনা কেন্দ্রে আইইবি’র ৫৮তম কনভেনশনে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেন।

উল্লেখ্য, দ্বিতীয় মেয়াদে সরকার গঠনের পর এটি খুলনায় প্রধানমন্ত্রীর দ্বিতীয় সফর। এর আগে ২০১৫ সালে তিনি খুলনা শিপইয়ার্ডে এক অনুষ্ঠানে যোগ দেন। প্রধানমন্ত্রী তাঁর প্রাক-নির্বাচনী প্রচারের অংশ হিসেবে সিলেট, বরিশাল এবং রাজশাহীর পরে রুপসা পাড়ের খুলনায় এলেন।

জনসভাকে কেন্দ্র করে খুলনা শহর পরিণত হয় মিছিলের নগরীতে। সকাল থেকেই দূর-দূরান্ত থেকে পায়ে হেঁটে মানুষ জনসভাস্থলের দিকে ছুঁটেছেন। খুলনার সব পথ এসে যেন মিশেছে সার্কিট হাউজ মাঠে। দুপুরের আগেই কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায় জনসভাস্থল। মহানগরী ছাড়াও বিভাগের বিভিন্ন জেলা-উপজেলা ও গ্রামাঞ্চল থেকে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ যোগ দেন জনসভায়। নেতা-কর্মীদের স্লোগানে প্রকম্পিত হয়ে ওঠে জনসভার আশপাশ।