ব্রেকিং নিউজ

বিকাল ৪:১৮ ঢাকা, বুধবার  ২৬শে সেপ্টেম্বর ২০১৮ ইং

আওয়ামী লীগের আগামীকালের বৈঠকে যে সব সিদ্বান্ত আসছে

শীর্ষ মিডিয়া ১১ অক্টোবর ঃ   ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকীর চূড়ান্ত শাস্তি নির্ধারণের মূল এজেন্ডা নিয়ে  আগামীকাল বসছে আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠক। ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানার পাশাপাশি দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে দলের এই প্রেসিডিয়াম সদস্যের বিরুদ্ধে কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বিতর্কিত এই নেতার মন্ত্রিত, সংসদ সদস্যপদ ও দলের প্রাথমিক সদস্যপদ থাকবে কি না সে সিদ্ধান্তও আসছে ওই বৈঠক থেকে। আগামীকাল রবিবার সন্ধ্যায় গণভবনের বৈঠকে লতিফ ইস্যু ছাড়াও আরও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে পূর্বঘোষিত ১০টি সাংগঠনিক টিমের জেলা সফরসূচি চূড়ান্ত, জানুয়ারির মধ্যে মেয়াদোত্তীর্ণ দলের সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনগুলোর সম্মেলন শেষ করতে সময়সীমা নির্ধারণ। বিএনপিসহ সরকারবিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোকে চাপে রাখতে দলের করণীয় সম্পর্কেও আলোচনা হবে। এ ছাড়াও মন্ত্রী-এমপি ও দলীয় নেতাদের লাগাম টেনে ধরতে থাকছে দলীয় সভানেত্রীর কঠোর হুঁশিয়ারি। দলের কয়েকজন নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতার সঙ্গে আলাপকালে এমন আভাস পাওয়া গেছে। দলীয় সূত্রমতে, আগামীকালের বৈঠকে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্যপদ থেকে বহিষ্কার করা হচ্ছে বিতর্কিত মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকীকে। পরিসমাপ্তি ঘটতে যাচ্ছে আওয়ামী লীগে তার দীর্ঘ ৪৩ বছরের রাজনীতির।

অতিসম্প্রতি নিউইয়র্কে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করে বিতর্কিত মন্তব্য করার কারণে লতিফ সিদ্দিকীকে মন্ত্রিসভা থেকে সরিয়ে দেওয়ার ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেই সঙ্গে দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী পদ প্রেসিডিয়াম সদস্য থেকেও লতিফ সিদ্দিকীকে সরিয়ে দেওয়ার প্রবল দাবি ওঠে খোদ আওয়ামী লীগের ভেতর থেকেই। এ ব্যাপারেও দলীয় প্রধান তার কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে দিয়েছেন। সিদ্ধান্তগুলো বাস্তবায়নে এখন কেবলই আনুষ্ঠানিকতার অপেক্ষায়। আওয়ামী লীগের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, দলের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠক ছাড়া দল থেকে কাউকে বহিষ্কার বা অব্যাহতি দেওয়া যায় না। সে কারণেই বৈঠক ডাকা হয়েছে। দলীয় সূত্রমতে, দ্বিতীয় মেয়াদে সরকার গঠনের পর সরকার ও দল ঘিরে হাইকমান্ড অনেকটা বিব্রত কারণ দল ও সরকারের অনেক নেতা-মন্ত্রী-উপদেষ্টার বেফাঁস মন্তব্যে অনেকবারই চরম বেকায়দায় পড়তে হয়েছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগকে। বিরোধী দলের পরিবর্তে খোদ সরকারি দলের সিনিয়র নেতা ও মন্ত্রীদের একের পর এক লাগামহীন বেফাঁস মন্তব্য, অবস্থান ও কর্মকাণ্ডের মাঝেমধ্যেই বিব্রত অবস্থায় পড়তে হচ্ছে সরকারের হাইকমান্ডকে। আগামীকালের এ গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে শুধু লতিফ সিদ্দিকীর বিরুদ্ধেই সাংগঠনিক ব্যবস্থা নয়, কেন্দ্রীয় কমিটির ওই বৈঠকে দল ও সরকারের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে অযাচিত ও অতিকথনে জড়িত দলের মন্ত্রী-নেতাদের বিরুদ্ধেও চরম হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করতে পারেন দলীয় প্রধান শেখ হাসিনা।

নিজ দলের নেতা-মন্ত্রীদের মুখের লাগাম টেনে ধরতে ক্ষুব্ধ প্রধানমন্ত্রী তার কঠোর অবস্থানের কথা সরাসরি বৈঠকে জানিয়ে দেবেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে আওয়ামী লীগের এক প্রেসিডিয়াম সদস্য বলেন, নিজের ব্যক্তিগত মতামত দল ও সরকারের ওপর চাপিয়ে দিয়ে বিব্রত ও বেকায়দায় ফেলার সঙ্গে জড়িত যত বড় নেতা বা মন্ত্রীই হন, তাকে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না সেটিও স্পষ্ট ভাষায় প্রধানমন্ত্রী বৈঠকে জানিয়ে দিতে পারেন।সরকারদলীয় নেতা-কর্মীরা মনে করছেন, সরকারবিরোধী আন্দোলন গড়ে তুলতে বিএনপি আগামী ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় নেবে। জানুয়ারি থেকে হরতাল, অবরোধসহ নানা কর্মসূচির ঘোষণা আসতে পারে। বিএনপির সম্ভাব্য আন্দোলন সামনে রেখে ডিসেম্বরের মধ্যেই তৃণমূলকে চাঙ্গা করতে চায় শাসক দল। সে কারণে ডিসেম্বরের মধ্যে জেলা সম্মেলন শেষ করার চূড়ান্ত সময়সীমা বেঁধে দেবেন দলীয় প্রধান। জেলা সম্মেলন সফল করতে পূর্বঘোষিত ১০টি সাংগঠনিক টিম কবে কখন কোন জেলায় সফর করবে সে বিষয়টি এবং জেলা সম্মেলনের তারিখ নির্ধারণ করে দেওয়া হবে আগামীকালের বৈঠকে। এ ছাড়াও সম্মেলনের ২১ মাস পর ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের কমিটির নামও ঘোষণা করা হতে পারে। দুই ভাগে বিভক্ত এ কমিটির নেতৃত্বে থাকছে নতুন মুখ। এ ছাড়া মেয়াদোত্তীর্ণ দলের সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন বাংলাদেশ মহিলা লীগ, যুব মহিলা লীগ, তাঁতী লীগ, আওয়ামী আইনজীবী পরিষদ, ছাত্রলীগ ও স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের (স্বাচিপ) জানুয়ারির মধ্যে সম্মেলনের সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হচ্ছে।